kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবায় 'বর্ডারলেস হেলথ কেয়ার'

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৯ মে, ২০২০ ১৩:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবায় 'বর্ডারলেস হেলথ কেয়ার'

প্রবাসী বাংলাদেশি যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন, তাদেরকে অনলাইনে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দিতে এগিয়ে এসেছে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বর্ডারলেস হেলথ কেয়ার গ্রুপ।

মোবাইল ফোন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবাটি নিতে পারবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ভাষাগত সমস্যা এড়াতে পুরো সেবাটি দেওয়া হবে বাংলা ভাষায়। গত ১৪ মে অনলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা উদ্বোধন করেন বর্ডারলেস হেলথকেয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও  চেয়ারম্যান ড. ওয়েই সিয়ান ইউ। যদিও আগামী ৩০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

করোনা রোগীদের প্রথম এই সেবাটি শুরু হবে মালয়েশিয়া থেকে। পরবর্তীতে সারা বিশ্বে এই সেবা দেওয়া হবে।

বর্ডারলেস ক্লিনিক বিশ্বের প্রথম বহুভাষিক ভিডিও কল সেন্টার সেবা, যেখানে ২০ হাজারের বেশি চিকিৎসা  সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত পাতা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকে যুক্ত হওয়া চিকিৎসকরা রয়েছেন। এই সেবা পাবেন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায়সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা।

স্বাস্থসেবার এই অনলাইন প্লাটফর্ম সম্পর্কে ড. ওয়েই সিয়াং বলেন, বিদেশে বসবাসরত যেসব বাংলাদেশি বিভিন্ন ডরমেটরিতে আছেন, তারা যদি চান টিভির মাধ্যমে টেলিমেডিসিন  সেবাটি পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে তারা বিনামূল্যে সেবাটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের হলরুমে একটি টেলিভিশন মনিটর স্থাপন করা হবে যার মাধ্যমে তারা ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সেবা পেতে পারেন এই সম্পর্কে বর্ডারলেস গ্রুপের বাঙালি অভিবাসী শ্রমিকদের জনসংযোগ সমন্বয়ক শেখ শরফুদ্দিন রেজা আলী চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্ডারলেস হেলথ কেয়ার গ্রুপে একটি নিবন্ধন পাতা আছে। আপনি কোন ভাষায় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, সেটি উল্লেখ করতে হবে।

কোন সময় চিকিৎসা নিতে চান সেটি উল্লেখ করতে হবে। চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সম্মতিতে একটি সময় ঠিক করা হবে। এই সেবাটি পুরোপুরি বিনামূল্যে। প্রবাসী শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরা মোবাইল ফোন ও টেলিভিশনের মাধ্যমে এই সেবা নিতে পারবেন। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ আমরা সব দেশেই এই সেবা ছড়িয়ে দিতে চাই। যেসব চিকিৎসক সেবা দেবেন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, থাইল্যান্ড মিয়ানমারের চিকিৎসকও আছেন। কভিড-১৯ এর পরবর্তীতেও প্রবাসীদের জন্য এই টেলিমিডিসিন সেবা অব্যাহত থাকবে। তখন অবশ্য ফি দিতে হবে প্রবাসীদের।

ওয়েই সিয়াং বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রকাশিত তথ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে কর্মরত, যাঁরা প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা বাংলাদেশে পাঠান। শুধু সিঙ্গাপুর নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রচুর বাংলাদেশি রয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই বিপুল সংখ্যক মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাদের জন্য এই সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বর্ডারলেস হেলথ কেয়ার থেকে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহযোগিতায় এই সেবা সম্পর্কিত তথ্যগুলো দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যাতে করে বিদেশে কর্মরত বাংলাদশি কর্মীরা ও তাদের পরিবারের নতুন প্রজন্মের এই ক্লিনিক সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবাটি গ্রহণ করতে পারেন। 



সাতদিনের সেরা