kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

প্রগতির ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজন

করোনায় আটকে গেল বাণিজ্যিক উৎপাদন

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় আটকে গেল বাণিজ্যিক উৎপাদন

বিশাল বাণিজ্য সম্ভাবনার মিৎসুবিশি ডাবল কেবিন পিকআপের বাণিজ্যিক উৎপাদনের সর্বশেষ কোয়ালিটি কন্ট্রোল সভা হওয়ার কথা ছিল গত ২৫ মার্চ। এদিন বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রস্তুতির উপর ভিত্তি করে জাপানের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিৎসুবিশি মোটরস করপারেশনের বিশেষজ্ঞ দল রাষ্ট্রায়ত্ব গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে (পিআইএল) এল-২০০ মডেলের ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজনের অনুমোদন দিতো। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সেই সফর বাতিল করেছে মিৎসুবিশির বিশেষজ্ঞ দল। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে প্রগতির সবচেয়ে লাভজনক প্রকল্প ডাবল কেবিন পিকআপের বাণিজ্যিক উৎপাদন যাত্রা।

পিআইএল সূত্র জানায়, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গত ১১ নভেম্বর থেকে বিপুল চাহিদার মিৎসুবিশি এল-২০০ মডেলের ডাবন কেবিন পিকআপ পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। মিৎসুবিশি মোটরসের জাপান ও থাইল্যান্ড কারখানা থেকে গত ৮ মার্চ ৪ জন করে মোট ৮ জন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তাদের আগমণ উপলক্ষ্যে মোট ২০ ইউনিট বিযুক্ত (সিকেডি) এল-২০০ মডেলের পিকআপ এনে রেখেছিল। এই গাড়িগুলো তাদের তত্ত্বাবধানে প্রগতির প্রকৌশল টিম সংযোজন করার পর ২৫ মার্চ সনদ দেওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল।

কিন্তু এর আগেই করনোভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় প্রথমে ১৮ দিনের জন্য এবং পরে তা বাড়িয়ে আরো ৩ মাস মিৎসুবিশির বিশেষজ্ঞ দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছে উপ-প্রধান প্রকৌশলী (কারখানা প্রধান) কায়কোবাদ আল মামুন।

বুধবার কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনের যাওয়ার আগেই আমরা গাড়িটির ব্যাপারে বেশ সাড়া পাচ্ছিলাম। কিন্তু একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে করোনাভাইরাসের কোপ পড়লো আমাদের প্রকল্পটিতে। কোভিড-১৯ নামের এই ভাইরাসটি যেভাবে বিশ্বের সব দেশকে গ্রাস করছে তাতে কবে নাগাদ আবার বিশেষজ্ঞরা আমাদের কারখানা সফরে আসবেন সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে ডাবল কেবিন পিকআপ হতো প্রগতির সবচেয়ে লাভজনক প্রকল্প। কারণ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত বছর দেশে সিঙ্গেল ও ডাবল কেবিন পিকআপ নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ১১ হাজার। এরমধ্যে ডাবল কেবিন পিকআপের চাহিদা ছিল প্রায় ৬ হাজার। গত অর্থবছরেও জাপানের বিখ্যাত মিৎসুবিশি ব্র্যান্ডের ডাবল কেবিন পিকআপের ৭০০ ইউনিট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এতদিন এসব গাড়ি তারা সরাসরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় (সিবিইউ-কমপ্লিট বিল্ট ইউনিট) এনে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু এবার নিজস্ব কারখানায় ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজন করতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ব গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বর্তমানে এল-২০০ মডেলের ডাবল কেবিন পিকআপের দাম পড়ে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু প্রগতি সংযোজিত একই মডেলের গাড়ির দাম ৪০ লাখ টাকার মধ্যে থাকবে আশা করছেন প্রগতির কর্মকর্তারা। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে বলে তাঁরা জানান।

ডাবল কেবিন পিকআপ সংযোজনের সুবিধা বর্ণনা করতে গিয়ে পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিৎসুবিশি এল-২০০ মডেলের ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়িটি সংযোজন হলে বর্তমান অসম প্রতিযোগিতার বাজারে প্রগতিকে আর ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। বর্তমানে এই মডেলের সিবিইউ গাড়ির বাজার মূল্য ৪৮ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু আমরা সংযোজন করলে এই গাড়ির দাম ৪০ লাখের মধ্যে চলে আসবে। এতে সরকারি অর্থ যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি প্রগতির ব্যবসা এবং মুনাফাও এতে করে দ্বিগুণ করা সম্ভব।’

চুক্তি অনুযায়ী ডাবল কেবিন পিকআপ বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে ১ম বছরে সংযোজন করতে হবে এক হাজার ২০০ ইউনিট এল-২০০ পিকআপ আর ২য় বছরে দুই হাজার ইউনিট। তবে প্রগতির চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড এলাকায় অবস্থিত কারখানায় বর্তমান যে সেটআপ তাতে প্রতিদিন ৪টি গাড়ি সংযোজন করা সম্ভব। বর্তমানে পাজেরো কিউএক্স মডেলটি বছরে কমবেশি ৫০০টি সংযোজন করা হয়। এর সাথে বছরে আরও এক হাজার এল-২০০ পিকআপ সংযোজন হলে ২০২০ সালে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি সংযোজন করতে হবে প্রগতির কারখানায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা