kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬০ বছরই থাকছে

অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর করতে হাইকোর্টের রায় বাতিল
জাতীয় সংসদকে আইন করতে আদেশ দিতে পারে না হাইকোর্ট-আপিল বিভাগের রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬০ বছরই থাকছে

চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর করতে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি এ রায় প্রকাশিত হয়েছে। এ রায়ে বলা হয়েছে, চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর করার জন্য আইন করতে জাতীয় সংসদকে আদেশ দিতে পারে না। হাইকোর্ট এক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করেছে। 

এ রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন ফকির কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬০ বছর নির্ধারণ করে যে আইন করে তা বৈধ বলে রায় দেন আপিল বিভাগ। তিনি বলেন, ফলে মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬০ বছরই থাকছে। 

হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর এক রায়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে আরো এক বছর বাড়িয়ে ৬১ বছর করার জন্য আইন করার নির্দেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার। আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতবছর ১৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ রায় দেন। রায়ে হাইকোর্টর রায় বাতিল করা হয়। সম্প্রতি আপিল বিভাগের এ রায় প্রকাশিত হয়েছে। 

আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, এখানে প্রশ্ন হলো মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর থাকবে কীনা? এক্ষেত্রে হাইকোর্ট রায় দিয়ে তাদের অবসরের বয়স বাড়াতে বলেছে। 

আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে সকলের অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা ২ বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করে সরকার তথা নির্বাহী বিভাগ। কিন্তু পরবর্তীতে সকলের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর করে সরকার। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে তাদের অবসরের বয়সসীমা এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করেছে। সেখানে কিন্তু ৬১ বছর করেনি সরকার।

আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, আইন সংশোধনের প্রয়োজন হলে জাতীয় সংসদ সেটা করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে হাইকোর্ট পরোক্ষভাবে জাতীয় সংসদকে আইন সংশোধন করতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু হাইকোর্ট সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এটা বলতে পারে না। আইন প্রণয়নে আইনসভার (জাতীয় সংসদ) ক্ষমতাই সর্বোচ্চ, তা সংবিধানে বলা হয়েছে। হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ ও নির্বাহী বিভাগকে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করার নির্দেশ দিতে পারে না। এক্ষেত্রে হাইকোর্ট তার সীমা অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য, সরকার গণকর্মচারী (অবসর) (সংশোধন) আইন সংশোধন করে চাকরি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ বছর থেকে ২ বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর নির্ধারণ করে ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু সরকার ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর এ আইন সংশোধন করে সকল সরকারি চাকরিজীবীর অবসরের বয়সসীমা নির্ধারণ করেন ৫৯ বছর। 

এতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অন্যদের কোনো পার্থক্য না থাকায় সরকার ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার আইন সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে অবসরের বয়সসীমা একবছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করে। এ অবস্থায় চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ২ বছর বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে শাহ জামাল মোল্লাসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রিট আবেদন করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা