তাদের কথা কেউ ভাবে না। পাঁচ বছরে একবার ভোটের সময় ছাড়া তাদের কাছে কেউ যায় না। কেউ তাদের কষ্টের কথা শোনে না। আপন মানুষের মতো বলে না আমি তোমাদেরই লোক। বাংলাদেশের বিপুল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এভাবেই অনাদরে, অবহেলায় বেঁচে থাকে। তাদের বিপদে, দুঃখ-কষ্টে কেউ পাশে থাকে না। অথচ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এ দেশের মালিক তারাই। নীরবে এরা ফসল ফলিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এরা কষ্ট করে আমাদের জীবনকে সুন্দর করে। এই অবহেলিত মানুষের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আসে শুধু প্রয়োজনে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে খুব কম নেতাই তাদের কাছে গেছেন, তাদের কথা শুনেছেন। এখন এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটেছে। তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের আপনজন, কাছের মানুষ। তারেক রহমান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান অপরিসীম। তারা সেদিন জীবন দিয়ে মাতৃভূমি মুক্ত করেছিল এই আশায় যে, স্বাধীন দেশে তারা মানুষের অধিকার পাবে, পাবে মানবিক মর্যাদা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই তারা যেন অনাহূতই রয়ে যায়। তাদের জীবনে প্রথম আশার আলো দেখা যায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর। জিয়া রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছুটে বেড়ান তিনি। যেখানে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তো দূরের কথা, জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত যাননি, সেখানে যান শহীদ জিয়া। রাষ্টীয় প্রটোকল ছিন্ন করে সরাসরি তিনি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছান। তাদের কথা শোনেন। জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের সুযোগ করে দেন। তাদের চাওয়া-পাওয়া শুনে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে শহরকেন্দ্রিক রাখেননি; তিনি গ্রামবাংলাকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি গ্রামে। তাই গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, খাল খনন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে (১৯৭৭-১৯৮১) বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে সফর এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এ সফরগুলো মূলত ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ এবং ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত ছিল। জিয়াউর রহমান সারা দেশে ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে, কোদাল হাতে খাল কাটা কর্মসূচির সূচনা করতেন। ১৯৭৯ সালে তিনি পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন, যা ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় উদ্যোগ। তিনি উঁচুতলার রাজনীতির পরিবর্তে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে যেতেন এবং বাজেট বা নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন। গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট, কৃষি উৎপাদন এবং সেচব্যবস্থার উন্নতির জন্য তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদারকি করতেন। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আবারও অবহেলিত হয়ে পড়ে। গ্রামীণ জনপদের মানুষ একজন আপনজন, বিশ্বস্ত বন্ধু হারায়।
ঠিক ৪৫ বছর পর প্রান্তিক মানুষ যেন আবার একজন আপনজন পেয়েছে, বন্ধু পেয়েছে। তাঁর নাম তারেক রহমান। যিনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছুটে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি যাচ্ছেন। তাদের কথা শুনছেন। তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। এর ফলে বদলে যাচ্ছে রাজনীতি। তৃণমূলের কণ্ঠস্বর ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এমনটা নয় যে, প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রান্তিক মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তারেক রহমান রাজনীতি শুরুই করেছিলেন তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তারেক রহমান জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক নতুন ধারা সূচনা করেন। এসি কক্ষকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কৃষকের সমস্যা শোনা এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার এ উদ্যোগ বিএনপিকে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল থেকে তৃণমূলবান্ধব রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করতে সহায়ক হয়। এ সময়েই তারেক রহমানের রাজনীতির ভিত্তি শক্তভাবে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করেই দল পরিচালনা শুরু করেন। স্কাইপ ও জুমসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। এ সময় তিনি নেতাদের চেয়ে একেবারে তৃণমূলের কর্মীদের কথা বেশি শুনতেন। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন। ফলে তিনি সাংগঠনিক বিষয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিতেন, যা তৃণমূলকে উজ্জীবিত করত। বিগত ১৭ বছরে সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের পরও বিএনপি যে আরও শক্তিশালী হয়েছে তার প্রধান কারণ তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান তার পিতা শহীদ জিয়ার মতোই সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। সরকার পরিচালনা, সংসদের কার্যক্রমের অবসরে যখনই তিনি সুযোগ পাচ্ছেন ছুটে যাচ্ছেন একেবারে তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের পাশে। তাদের কথা শুনছেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও, ঠাকুরগাঁও থেকে চাঁদপুর অবহেলিত জনপদের মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদ জিয়ার মতো তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই বাংলাদেশের উন্নয়ন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তৃণমূল পেয়েছে তাদের আপনজন।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন