kalerkantho

আইনজীবী পলাশের চিকিৎসার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে আদালতের অসন্তোষ

‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ এর অবস্থা হয়েছে, ডাক্তার দেখানোর আগে ফরম পূরণ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২২ আগস্ট, ২০১৯ ১২:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ এর অবস্থা হয়েছে, ডাক্তার দেখানোর আগে ফরম পূরণ করতে হবে

পঞ্চগড় কারাগারে আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কুমার রায় নিজেই নিজের গায়ে আগুন দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় করা বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। আদালত বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পলাশ কুমার রায় নিজেই নিজের গায়ে অগ্নিসংযোগ করেছিলেন মর্মে সমস্ত জুডিশিয়াল সাক্ষীর সাক্ষ্য, ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত একটি গ্যাসলাইট এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে।’

পাশাপাশি পলাশের চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত। বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আইনজীবী পলাশ রায়ের গায়ে আগুন লাগার পর দাপ্তরিক কাগজপত্র ঠিক করতেই অনেক সময় ব্যয় করা হয়েছে। এরপর চিকিৎসার জন্য এই হাসাপাতাল, ওই হাসাপাতাল করে শেষমেশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দাপ্তরিক জটিলতায় চিকিৎসা দিতে দেরি হয়েছে।

আদালত বলেন, ‘গায়ে আগুন ধরার পর তাঁকে যদি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যেত তবে হয়তো বা বাঁচানো সম্ভব ছিল। আমরা বলব না যে, বাঁচত। কিন্তু চেষ্টা করলে হয়তো বা বাঁচানো যেত।’ ভারতীয় একটি চলচ্চিত্রের উদাহরণ দিয়ে আদালত আরো বলেন, ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’-এর অবস্থা হয়েছে আরকি। এমন অবস্থা যে ডাক্তার দেখানোর আগে ফরম পূরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে করা এক মামলায় গত ২৬ মার্চ থেকে কারাগারে ছিলেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বড়সিংগিয়া গ্রামের প্রণব কুমার রায়ের ছেলে অ্যাডভোকেট পলাশ কুমার। তাঁর মা মীরা রানী রায় আটোয়ারী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল পঞ্চগড় কারাগারের বাথরুমে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন তিনি। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন। হাইকোর্ট গত ৮ মে এক আদেশে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ৩০ দিনের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশে পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের তত্ত্বাবধানে একজন হাকিম বিষয়টি তদন্ত করেন। এই প্রতিবেদন গতকাল হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা