kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার মতো সঙ্কটে দেশে ফার্মাসিস্টদের বড় প্রয়োজন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ মার্চ, ২০২০ ২১:৩২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনার মতো সঙ্কটে দেশে ফার্মাসিস্টদের বড় প্রয়োজন

পৃথিবী আজ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সগণ। সারা বাংলাদেশের মানুষ তা দেখছে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের জন্য ওষুধ উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের দেশের ফার্মাসিস্টগণ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ যখন হোম কোয়ারেন্টিনে তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ফার্মাসিস্টরা কাজ করে যাচ্ছেন দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ওষুধ উৎপাদনের লক্ষ্যে।

বাংলাদেশে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন হয়। আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হয় প্রতি বছর। যা গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও দিকনির্দেশনায় উৎপাদিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের এসেনসিয়াল ড্রাগস বাৎসরিক প্রায় (সরকারি মূল্য) ৬০০ কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন করে কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাসপাতালের মাধ্যমে পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

একজন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট কাজ করে থাকেন ওষুধ উৎপাদনে, ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে, কমিউনিটি ফার্মেসিতে (মডেল ফার্মেসি), হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ও ওষুধ নিয়ে গবেষণায়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৬,২০০ নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। তাদেরকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। হবে ওষুধের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার।

আজ আমাদের গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট সকল হাসপাতালে নিয়োগ দিলে তারাও হতে পারত জাতীয় বীর, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের ফার্মাসিস্টগণ বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাচ্ছে পাশাপাশি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রোগীদের জন্য হাসপাতালেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাতে পারত। ডাক্তার ও নার্সদের পাশাপাশি ফার্মাসিস্টও রোগীদের নিরলস সেবা দিয়ে যেত।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি গবেষণাগারগুলোতে ওষুধ নিয়ে গবেষণায় সরকারি দিকনির্দেশনা ও বিনিয়োগ থাকলে বাংলাদেশ ও করোনাভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কারে ভূমিকা রাখতে পারত। আমাদের ফার্মাসিস্ট হয়তো আমাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার সীমাবদ্ধ থাকতে হতো না।

উন্নত বিশ্বে ফার্মাসিস্ট ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা অসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে! বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশের গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের কাজে লাগান। সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেন। বিসিএসএ ফার্মাসিস্ট কোটা রাখুন। গুরুত দেন গবেষণায় তবেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরো সমৃদ্ধ হবে।  

লেখক : মো. আজিবুর রহমান (এম ফার্ম, এমবিএ, পিজিডি এইএম)
সিনিয়র সহ সভাপতি
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা