kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হতে পারে যে মসলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হতে পারে যে মসলা

পেঁয়াজের দাম যখন লাগামহীন, তখন এর বিকল্প হিসেবে চিভ নামে পাতাজাতীয় এক ধরনের মসলা ব্যবহারের কথা উঠে আসছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এ মসলা বা ভেষজ জাতীয় ফসল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সারা বছর ধরেই এটি চাষাবাদ ও ব্যবহার করা যাবে। আর তাতে করে পেঁয়াজের ওপর চাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মু. শহীদুজ্জামান গণমাধ্যমকে চিভ সম্পর্কে বলছেন, এর স্বাদ পুরোপুরি না হলেও অনেকটা পেঁয়াজের মতো। তবে এটিতে পেঁয়াজের মতো গুঁটি বা দানা হয় না। এটি শুধু পাতা জাতীয় ফসল। মাটির ওপরের অংশই খাওয়া যায়। এর চারা লাগানোর ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। বছরে ৪-৫ বার তা উত্তোলন করা সম্ভব। এর পাতা, কাণ্ড ও কাঁচা ফুল মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মসলার চাষযোগ্য উচ্চফলনশীল জাত বারি চিভ-১ জাত ইতোমধ্যেই অবমুক্ত করা হয়েছে।

মসলা বিভাগের অপর একজন বিজ্ঞানী ড. রুম্মান আরা জানান, তিনি নিজেও এটি তরকারিতে ব্যবহার করেছেন। এর স্বাদ ও গন্ধ অনেকটা পেঁয়াজ ও রসুনের মতো। এর অনেক গুণাগুণ আছে। স্যুপ, সালাদ, তরকারি ও চাইনিজের ভেজিটেবল আইটেমে এটি ব্যবহার করা যায়।

এটি এখন একটা সম্প্রসারণ পর্যায়ে রয়েছে। খুবই সহজে এবং তুলনামূলক কম খরচে এটি চাষাবাদের যোগ্য। একবার পাতা-কাণ্ড কেটে নিলে আবার গজায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবেও চাষ করা যায়। দেশের সব অঞ্চলের উঁচু জায়গায় এটি চাষাবাদ সম্ভব বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক  ড. আবুল কালাম আযাদ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে এই চিভস জাতের অবমুক্ত করা হয়েছে ২০১৭ সালে। এটা ব্যবহার করে পেঁয়াজের চাহিদা অনেকটা কমানো সম্ভব। এর উৎপাদনও অনেক সহজ। চিভের গুণাগুণ হলো, এটা হজমে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণ রয়েছে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান। এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, ফ্লাট, কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বাটে। এর উৎপত্তি হয়েছে মূলত সাইবেরিয়া-মঙ্গোলিয়া ও নর্থ-চায়না অঞ্চলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা