kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

'স্যার হাইলি পলিটিক্যাল, তিনি কোনো ক্লাস নেন না'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'স্যার হাইলি পলিটিক্যাল, তিনি কোনো ক্লাস নেন না'

রাজধানীর অদূরের এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলছেন, তাদের একটি মেজর সাবজেক্টে সারা বছর একটিও ক্লাস হয়নি। প্রফেসর হাইলি পলিটিক্যাল, তিনি কোনো ক্লাস নেন না। তিনি নাকি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সেই ছাত্রের সঙ্গে ট্রেনে কথা হয় সরকার গঠিত 'নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ'র সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলনের। তিনি 
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপে একথা জানান।

তার সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

ট্রেনে আসার সময় এক ছাত্র পেলাম ঢাকার অদূরে এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালেয় পড়ে। বললাম, তোমাদের লেখাপড়ার খবর কি? ক্লাস হয় রেগুলার?

সে বলল, একটি মেজর সাবজেক্টে সারা বছর একটিও ক্লাস হয়নি। প্রফেসর স্যার হলেন হাইলি পলিটিক্যাল, তিনি কোন ক্লাস নেন না। উনি সবকিছুর ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অন্য একটি মেজর সাবজেক্টেরও একই অবস্থা। কোনো ক্লাস হয়নি সারা বছর। প্রফেসর স্যার হলেন হাইলি কমার্শিয়াল। উনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ফ্যাকাল্টির ক্লাস নেন, যেখানে টাকা পান। এছাড়া বাইরে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্লাস নিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের কোনো ক্লাস নেই।

ক্লাস ছাড়াই পরীক্ষা দিতে যাই। অনেকেই ব্যস্ত বাইরে অন্য জায়গায় ক্লাস নিতে।

এই "হাইলির" দায় কার?

এবার ১৩-১৬ গ্রেডের মৌখিক পরীক্ষা নিতে গিয়ে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি তা। অনেকের বাবা কৃষক, গরিবের সন্তান। বাবা মা অনেক আশা ভরসা নিয়ে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান লেখপড়া করার জন্য। তারা জানেন না হাজারে হাজারে বিল্ডিং আর নাম সর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে এই দেশে। শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে আসছে তারা।

বাবা মা স্বপ্ন দেখছে তাদের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করছে কিন্তু তারা জানেন না, লেখাপড়ার এই মান নিয়ে তাদের অনেকেরই কোন চাকুরি জুটবে না কপালে।

ছেলেমেয়েদের এই দায় আমাদের। সমাজের রাষ্ট্রের। তাদের নয়।

দুর্ভাগ্য আমাদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা