kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

মুক্তা কেবল ঝিনুকে নয়, পাওয়া যায় অনেক জায়গায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ জুন, ২০১৯ ১৫:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তা কেবল ঝিনুকে নয়, পাওয়া যায় অনেক জায়গায়

মুক্তা একটি মহামূল্যবান রত্ন। এর জন্মরহস্য নিয়ে দুটো মত আছে। এটি আমরা প্রধানত ঝিনুকের মধ্যে পেয়ে থাকি।

বলা হয়, স্বাতী নক্ষত্রে বৃষ্টির পানি ঝিনুকের মধ্যে পড়লে মুক্তোর জন্ম হয়। আবার এ কথাও শোনা যায়, স্বাতী নক্ষত্রে বৃষ্টির পানি হাতির মাথায় পড়লে জন্ম হয় গজ মুক্তার।

প্রাচীন রত্নতত্ত্ববিদরা আট প্রকার মুক্তার কথা বলে গেছেন। গজমতি, সর্পমণি, বরাহ, মীন, বেণুজ, শঙ্কজ, জীমুত এবং শুক্তি।

এগুলো সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করা হলো :

গজ মুক্তো
হাতির কুম্ভর মধ্যে ও দন্তকোষে কিছুটা হলুদ রঙের বড় আকারের মুক্তা পাওয়া যায়। এটি অতি পবিত্র ও দুর্লভ।

সর্পমণি মুক্তো
সাপের মাথায় নীল রঙের গোল মুক্তা জন্মায়। কথিত আছে, পাপীদের দৃষ্টিগোচর হয় না এই মুক্তা।

বরাহ মুক্তা 
বন্য বরাহ বা শূকরের দাঁতের গোড়ায় এক ধরনের মুক্তা  জন্মায়। এটি নীল রঙের বড়, খসখসে ও কর্কশ হয়ে থাকে।

মীন মুক্তা 
তিমি মাছের মুখে এক প্রকার মুক্তা জন্মায়, এর নাম মীন মুক্তো। আবার এও কথিত আছে, গভীর সমুদ্রে বোয়াল মাছের মতো এক জাতীয় মাছের মাথায় এক ধরনের মুক্তা জন্মায়, এটি মীন মুক্তা। এই মুক্তা  একটু বড় ও হালকা হয়ে থাকে। এর ঔজ্জ্বল্য খুব কম হয়।

বেনুজ মুক্তা 
বাঁশের ভেতর এক ধরনের মুক্তা জন্মায়। কথিত আছে, বেদমন্ত্র দিয়ে এই মুক্তা রক্ষা করতে হয়।  

শঙ্খজ মুক্তা
কোনও কোনও সমুদ্রজাত শঙ্খের গর্ভে পায়রার ডিমের মতো এক রকম মুক্তা জন্মায়। এই মুক্তার তেমন ঔজ্জ্বল্য নেই। ইংরেজিতে একে কঞ্চ পার্ল বলে।

জীমুত মুক্তা 
কখনও কখনও আকাশ থেকে নাকি মুক্তা বর্ষণ হয়। একে তাই জীমুত মুক্তা বা মেঘ মুক্তা বলে।

শুক্তি মুক্তা 
ঝিনুক জাতীয় এক রকম সমুদ্রজাত প্রাণীর গর্ভ থেকে যে মুক্তা পাওয়া যায় তাকে শুক্তি মুক্তা বলে। ইংরেজিতে একে বলা হয় অয়েস্টার পার্ল।

ওপরে যে আট রকম মুক্তার কথা আলোচনা করা হলো, এর মধ্যে সাতটি মুক্তাই বর্তমানে দেখা মেলে না। তবে শুক্তিমুক্তা বা ঝিনুকের মধ্যে যে মুক্তা  জন্মায় তা বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু তার মূল্য বেশি এবং দুর্লভ।

বিজ্ঞানের ভাষায় ঝিনুকের মধ্যে যে মুক্তা জন্মায় তা  সৃষ্টি হয় ঝিনুকের রস থেকে। অর্থাৎ শুক্তির দেহের ভেতর কোথাও বেদনাদায়ক কারণ উপস্থিত হলে সে স্থানে প্রদাহ অনুভূত হয় এবং এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়। পরে তা জমে যায়।

এই লালারসকে ইংরেজিতে পার্ল নেক্রি বলে। আবার অনেকে একে মৌক্তিক রস বলে থাকেন। এই জমে যাওয়া মৌক্তিক রসই শেষে মুক্তায় পরিণত হয়। 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা 

মন্তব্য