• ই-পেপার

কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারে যে ভুলগুলো এড়ানো জরুরি

পাকা আমের স্বাদে ঠাণ্ডা হোক গ্রীষ্ম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক
পাকা আমের স্বাদে ঠাণ্ডা হোক গ্রীষ্ম, জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গ্রীষ্মকাল মানেই আমের মৌসুম। বছরের এই সময়টায় বাংলাদেশের বাজার, ফলের দোকান এমনকি গ্রামের উঠানও ভরে ওঠে নানা জাতের আমে। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, বারি আম—প্রতিটি জাতের আমের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও আমকে বলা হয় ফলের রাজা।

প্রখর গরমে এক টুকরো ঠাণ্ডা আম কিংবা আম দিয়ে তৈরি কোনো পানীয় মুহূর্তেই এনে দিতে পারে প্রশান্তি। একই সঙ্গে শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও শক্তি। তাই আমের মৌসুমে শুধু আম কেটে খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এটি দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে নানা ধরনের সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার।

কেন খাবেন আম?
পাকা আমে প্রধানত ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স (যেমন : ভিটামিন বি-৬ ও ফোলেট) থাকে। এ ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন (যা শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়) এবং ভিটামিন ‘ই’, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের শরীরের জন্য উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ পাওয়া যায়। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আমে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত আম খেলে মৌসুমি নানা রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

চোখের জন্য উপকারী

ভিটামিন এ ও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় আম চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

হজমে সাহায্য করে

আমে থাকা ফাইবার ও হজমে সহায়ক এনজাইম খাবার দ্রুত পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

শরীরে পানির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে

গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। আম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পানীয় শরীরে তরল ও শক্তির ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।


আমের কিছু সহজ রেসিপি: 


ম্যাঙ্গো স্মুদি/ মিল্কশেক

উপকরণ

১ কাপ পাকা আমের টুকরা
আধা কাপ গুঁড়া দুধ
১ কাপ ঠাণ্ডা দুধ
১ টেবিল চামচ মধু
ঠাণ্ডা পানি
কয়েকটি বরফ কুচি

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করুন। ঠাণ্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন। গরমে ক্লান্ত শরীরে এটি দ্রুত শক্তি ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে।


আমের লাচ্ছি

উপকরণ

১ কাপ দই
আধা কাপ পাকা আম
২ টেবিল চামচ চিনি
বরফ

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। এটি একই সঙ্গে ঠাণ্ডা ও পুষ্টিকর একটি পানীয়।


কাঁচা আমের শরবত

উপকরণ

২টি কাঁচা আম
চিনি
বিট লবণ
ভাজা জিরা গুঁড়া
ঠান্ডা পানি

প্রস্তুত প্রণালি

কাঁচা আম সিদ্ধ করে শাঁস বের করে নিন। এরপর পানি, স্বাদমতো চিনি, ভাজা জিরা গুঁড়া ও বিট লবণ মিশিয়ে শরবত তৈরি করুন। প্রচণ্ড গরমে এই পানীয় শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করতে সাহায্য করে।


আমের আইসক্রিম

উপকরণ

২ কাপ আমের পাল্প
১ কাপ ফ্রেশ ক্রিম
আধা কাপ কনডেন্সড মিল্ক

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ মিশিয়ে ফ্রিজে ৬-৮ ঘণ্টা রেখে দিন। বাড়িতেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু আমের আইসক্রিম।

ম্যাঙ্গো ফ্রুট সালাদ

উপকরণ

আম
তরমুজ
পেঁপে
আঙুর
ডালিম
চাট মসলা
বিট লবণ

প্রস্তুত প্রণালি

সব ফল ছোট ছোট টুকরা করে কেটে চাট মসলা ও বিট লবণের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করুন। গরমের দিনে এটি হালকা ও সতেজ একটি খাবার।

আমের ক্ষীর

উপকরণ

১ লিটার দুধ
২ টেবিল চামচ পোলাও এর চাল গুঁড়া
১ কাপ আমের পাল্প
চিনি
এলাচ
বিভিন্ন বাদাম কুচি

প্রস্তুত প্রণালি

পোলাও এর চাল গুঁড়া, চিনি ও দুধ মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। ঠান্ডা হলে আমের পাল্প মিশিয়ে ও বাদাম কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। 


ম্যাঙ্গো চিয়া পুডিং

উপকরণ

৩ টেবিল চামচ চিয়া সিড
১ কাপ দুধ
আধা কাপ আমের পিউরি

প্রস্তুত প্রণালি

চিয়া সিড ও দুধ মিশিয়ে রাতে ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখুন। সকালে আমের পিউরি মিশিয়ে পরিবেশন করুন।


আমের দই

উপকরণ

১ কাপ পানি ঝড়ানো টক দই
আধা কাপ গুঁড়া দুধ
আধা কাপ পানি ছাড়া আমের পিউরি
সামান্য মধু

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ মসৃণভাবে মিশিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।


ম্যাঙ্গো কুলার

উপকরণ

১ কাপ আমের রস
সোডা ওয়াটার
লেবুর রস
পুদিনা পাতা
বরফ

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করুন। গরমে এটি মুহূর্তেই এনে দিতে পারে সতেজ অনুভূতি।


আমের ফালুদা

উপকরণ

সেদ্ধ নুডলস
দুধ
আমের কুচি
তোকমা
আইসক্রিম
ম্যাঙ্গো জেলি 

প্রস্তুত প্রণালি

সব উপকরণ স্তরে স্তরে সাজিয়ে ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন।


আম খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

খুব বেশি মিষ্টি আম একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত আম খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। আম খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কেটে রাখা আম বেশিক্ষণ কক্ষতাপমাত্রায় রাখা যাবে না। এয়ার টাইট বাক্সে ফ্রিজে রাখতে হবে। 

বাংলাদেশের গ্রীষ্ম মানেই আমের উৎসব। এই মৌসুমে পাকা কিংবা কাঁচা আম শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরকেও দেয় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আম দিয়ে তৈরি এক গ্লাস ঠাণ্ডা শরবত, এক বাটি ফ্রুট সালাদ কিংবা ঘরে তৈরি আইসক্রিম গরমের ক্লান্তি দূর করে এনে দিতে পারে অনন্য প্রশান্তি। তাই আমের মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে আম রাখুন, আর উপভোগ করুন স্বাদ, পুষ্টি ও সতেজতার অনন্য সমন্বয়।

কাবলি ছোলা কেন খাবেন? জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি

অনলাইন ডেস্ক
কাবলি ছোলা কেন খাবেন? জেনে নিন সহজ কিছু রেসিপি
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সুস্থ থাকতে অনেকেই সকালে নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার বা পানীয় খেয়ে দিন শুরু করেন। কেউ মেথি ভেজানো পানি পান করেন, কেউ আবার চিয়া সিড বা তিসি বীজকে বেছে নেন। তবে এসবের পাশাপাশি এমন একটি খাবার রয়েছে, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। আর সেটি হলো কাবলি ছোলা।

পুষ্টিবিদদের মতে, আমিষভোজী বা নিরামিষভোজী—উভয়ের জন্যই কাবলি ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস হতে পারে। সপ্তাহে কয়েক দিন খাদ্যতালিকায় এটি রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। এক কাপ সিদ্ধ কাবলি ছোলায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফাইবার, আয়রন, ফোলেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে।

হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক

কাবলি ছোলার অন্যতম বড় গুণ হলো এর উচ্চ ফাইবার। এক কাপ সিদ্ধ ছোলায় প্রায় ১২ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়, যা হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায় এবং খাবার সহজে হজম হতে সহায়তা করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

কাবলি ছোলায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। এসব উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ছোলা খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও কাবলি ছোলা উপকারী হতে পারে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় না। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের পাশাপাশি যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারাও খাদ্যতালিকায় কাবলি ছোলা রাখতে পারেন।

কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কাবলি ছোলার কিছু উপাদান শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য

কাবলি ছোলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও প্রিবায়োটিক ফাইবার অন্ত্রের উপকারী জীবাণুগুলোর জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এর ফলে অন্ত্রের পরিবেশ সুস্থ থাকে এবং শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত মলত্যাগেও সহায়তা করে এই খাবার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে সপ্তাহে কয়েক দিন কাবলি ছোলা খাওয়া হলে তা শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী হতে পারে। তবে যেকোনো খাবারের মতোই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

কাবলি ছোলা দিয়ে খুব চটজলদি অনেক রকম সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। তাই খুব সহজেই একে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়ও রাখা যায়। কিছু সহজ রেসিপি হলো : 

ছোলার সালাদ

উপকরণ :

১ কাপ সিদ্ধ কাবলি ছোলা
১টি শসা কুচি
১টি টমেটো কুচি
১ টি গাজর কুচি
১টি পেঁয়াজ কুচি
ধনেপাতা কুচি
লেবুর রস
অলিভ অয়েল
লবণ ও গোলমরিচ

প্রস্তুত প্রণালী :
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। পরিবেশনের আগে লেবুর রস ছড়িয়ে দিন।

ছোলা চাট

উপকরণ :

২ কাপ সিদ্ধ কাবলি ছোলা
১টি পেঁয়াজ কুচি
১টি টমেটো কুচি
কাঁচামরিচ কুচি
১ কাপ পানি ঝরানো টক দই
চাট মসলা
ধনেপাতা
স্বাদমতো বিট লবণ
২ চা চামচ চিনি

প্রস্তুত প্রণালী :
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।

কাবলি ছোলার ভুনা

উপকরণ:

২ কাপ সিদ্ধ ছোলা
১টি পেঁয়াজ কুচি
১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা
হলুদ, মরিচ, ধনিয়া ও জিরা গুঁড়া
তেল ও লবণ

প্রস্তুত প্রণালী :
তেলে পেঁয়াজ ভেজে আদা-রসুন ও মসলা কষিয়ে নিন। এরপর ছোলা দিয়ে ৮-১০ মিনিট রান্না করে পরিবেশন করুন। শেষে ধনিয়াপাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। 

হুমাস

উপকরণ :

১ কাপ সিদ্ধ কাবলি ছোলা
২ টেবিল চামচ তাহিনি (তিলের পেস্ট)
২ টেবিল চামচ লেবুর রস
২ কোয়া রসুন
অলিভ অয়েল
লবণ

প্রস্তুত প্রণালী :
সব উপকরণ ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। রুটি, পিটা ব্রেড বা সবজির সঙ্গে খেতে পারেন।

ছোলা-মুরগির কারি

উপকরণ:

১ কাপ সেদ্ধ ছোলা
৫০০ গ্রাম মুরগির মাংস
পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা
গরম মসলা, মরিচ গুঁড়া, হলুদ
তেল ও লবণ

প্রস্তুত প্রণালী :
সাধারণ মুরগির কারির মতো রান্না করুন। মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হলে ছোলা দিয়ে দিন। এরপর ভালোভাবে রান্না করে পরিবেশন করুন।

ছোলার স্যুপ

উপকরণ:

১ কাপ সেদ্ধ ছোলা
১টি গাজর
১টি আলু
১টি পেঁয়াজ
৩ কাপ সবজি বা চিকেন স্টক
লবণ ও গোলমরিচ
ফ্রেশ ক্রিম

প্রস্তুত প্রণালী :
সব উপকরণ একসঙ্গে সিদ্ধ করে ব্লেন্ড করুন। তারপর আবার গরম করে স্যুপের উপর ফ্রেশ ক্রিম ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন। 

মচমচে মসলাদার কাবলি ছোলা 

উপকরণ :

২ কাপ সেদ্ধ ও পানি ঝরানো ছোলা
১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
মরিচ গুঁড়া, পাপরিকা, জিরা গুঁড়া
লবণ

প্রস্তুত প্রণালী :
ছোলার সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ২৫-৩০ মিনিট ওভেনে বেক করুন। মচমচে হলে ওভেন থেকে বের করে নিন। এয়ার টাইট কৌটায় সংরক্ষণ করুন। 

কাবলি ছোলার ডালনা 

উপকরণ :

২ কাপ সেদ্ধ কাবলি ছোলা
২টি আলু কিউব করে কাটা
পেঁয়াজ, আদা, রসুন
জিরা, ধনে, হলুদ, মরিচ গুঁড়া
তেল ও লবণ

প্রস্তুত প্রণালী :
আলু ভেজে তুলে রাখুন। মসলা কষিয়ে আলু ও ছোলা দিয়ে পানি দিন। ঝোল ঘন হলে পরিবেশন করুন।

চোখের নীচে ফোলা ভাব? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

জীবনযাপন ডেস্ক
চোখের নীচে ফোলা ভাব? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার
সংগৃহীত ছবি

সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় চোখের নীচে ফোলাভাব বা ‘আই ব্যাগস’ দেখলে আমরা সাধারণত ধরে নিই রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, সব আই ব্যাগসের কারণ শুধু কম ঘুম নয়; বরং বেশি ঘুমালেই যে এই সমস্যা দূর হবে, এমনটাও নয়। সঠিক কারণ না জেনে আই ক্রিম বা ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। কসমেটিক সার্জনদের মতে, চোখের নীচের এই পরিবর্তনের পেছনে জিনগত গঠন থেকে শুরু করে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক কারণ থাকতে পারে। তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে সমস্যার আসল উৎস জানা জরুরি।
চলুন, জেনে নিই।

চোখের নীচের অংশটি অত্যন্ত পাতলা এবং স্পর্শকাতর। চামড়ার তলায় মূলত পেশি এবং চর্বির স্তর থাকে। চিকিৎসকদের মতে, আই ব্যাগস সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে:

১. অস্থায়ী ফোলা ভাব: এটি মূলত চোখের নীচে তরল জমা হওয়া, অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়া, মদ্যপান বা ধূমপানের কারণে হতে পারে।

২. কাঠামোগত পরিবর্তন: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখের নীচের পেশী ও লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চামড়ার তলায় থাকা চর্বি বা ফ্যাট পডস সামনের দিকে ঝুলে পড়ে। অনেকের আবার বংশগত বা জিনগত কারণেও কম বয়সেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ঘরোয়া অভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন—

কোল্ড কমপ্রেস: ঠাণ্ডা চামচ বা বরফ কাপড়ে মুড়িয়ে চোখের নীচে কয়েক মিনিট ধরে রাখলে সাময়িক ফোলা ভাব কমে যায়।ঘুমানোর পজিশন: ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে চোখের নীচে তরল জমতে পারে না।লাইফস্টাইল সংশোধন: খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ধূমপান বর্জন করা প্রয়োজন।

সঠিক স্কিনকেয়ার: রেটিনয়েড ও ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়ায়। তবে অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত উপাদান চোখের খুব কাছে ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

মেডিকেল চিকিৎসা:

সমস্যা যদি স্থায়ী বা গুরুতর হয়, তবে কসমেটিক সার্জনরা আধুনিক কিছু চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

টিয়ার-থ্রু ফিলার: চোখের নীচে গভীর গর্ত থাকার কারণে আই ব্যাগস মনে হলে, ফিলার দিয়ে তা ভরাট করা যায়।

লেজার ট্রিটমেন্ট: চামড়ার সামান্য শিথিলতা বা বলিরেখা দূর করতে স্কিন-টাইটেনিং লেজার ব্যবহার করা হয়।

লোয়ার ব্লেফারোপ্লাস্টি: চর্বি অতিরিক্ত ঝুলে পড়লে বা চামড়া আলগা হয়ে গেলে ছোট একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চামড়া অপসারণ করা হয়, যা চোখে এনে দেয় এক সতেজ ও প্রাণবন্ত লুক।

সূত্র : এই সময়

সরিষার তেল নাকি অলিভ অয়েল, হার্টের যত্নে কোনটি সেরা?

জীবনযাপন ডেস্ক
সরিষার তেল নাকি অলিভ অয়েল, হার্টের যত্নে কোনটি সেরা?
সংগৃহীত ছবি

শরীর সুস্থ রাখতে, বিশেষ করে হার্টের যত্ন নিতে সঠিক রান্নার তেল বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোলেস্টেরল বাড়লে অনেকেই শুধু রান্নার তেলের পরিমাণ কমিয়ে দেন, কিন্তু সঠিক তেল বেছে না নিলে তাতেও খুব একটা লাভ হয় না। এক সময় বাঙালির রান্নাঘরে কেবল সরিষার তেলের চল থাকলেও, এখন অনেকেই রিফাইন্ড সাদা তেলের ক্ষতি এড়াতে অলিভ অয়েল ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সরিষার তেল নাকি অলিভ অয়েল—কোনটি বেশি ভালো, তা নির্ভর করে রান্নার ধরন এবং ফ্যাটের গুনাগুণের ওপর।

চিকিৎসকদের মতে, সব ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। রান্নার তেলে ট্রান্স ফ্যাট বা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকা জরুরি। এই ভালো উপাদানগুলো অলিভ অয়েল ও সরিষার তেল—উভয়ের মধ্যেই সমানভাবে বিদ্যমান। অলিভ অয়েলে থাকা পলিফেনল নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং রক্তনালিতে চর্বি জমতে দেয় না। তবে অলিভ অয়েলের স্মোক পয়েন্ট কম হওয়ায় এটি উচ্চ আঁচে রান্না বা ভাজাভুজির উপযোগী নয়, কারণ বেশি গরমে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে পূর্ণ সরিষার তেল উচ্চ আঁচে রান্নার জন্য একদম আদর্শ। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সব ধরনের ভাজাভুজি বা কষানো রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করা নিরাপদ। তবে স্বাস্থ্যকর হলেও সরিষার তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, একদম যৎসামান্য বা পরিমিত সরিষার তেল দিয়ে দৈনন্দিন রান্না করতে পারলে তা অলিভ অয়েলের মতোই হার্টের জন্য সমান স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

সূত্র : এই সময়

কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারে যে ভুলগুলো এড়ানো জরুরি | কালের কণ্ঠ