• ই-পেপার

একতরফা ভালোবাসা যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন

৫টি সহজ অভ্যাসে ৫১ বছরেও উজ্জ্বল ত্বক অ্যাঞ্জেলিনা জোলির

জীবনযাপন ডেস্ক
৫টি সহজ অভ্যাসে ৫১ বছরেও উজ্জ্বল ত্বক অ্যাঞ্জেলিনা জোলির
সংগৃহীত ছবি

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ৫১ বছর বয়সেও তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য বিশ্বজুড়ে আলোচনায় থাকেন। তার ত্বকের যত্ন নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষকদের মন্তব্য থেকে কিছু অভ্যাসের কথা জানা যায়, যা তার স্কিনকেয়ার রুটিনের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তার স্কিনকেয়ার রুটিন খুব জটিল নয়—বরং নিয়মিত কিছু বেসিক অভ্যাসই তাকে এই উজ্জ্বল ত্বক ধরে রাখতে সাহায্য করে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সহজ ৫টি টিপস—

১. সানস্ক্রিন ও মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সূর্যের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা। তিনি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন এবং মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখেন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারভিত্তিক মতামত অনুযায়ী, তিনি খুব কড়া স্ক্রাব বা ভারী কেমিক্যালযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলেন। বরং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড জাতীয় উপাদান মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন, যা ত্বক পরিষ্কার ও কোমল রাখতে সাহায্য করে।

২. ভ্রমণের সময়ও স্কিনকেয়ার বজায় রাখা

শুটিং বা ভ্রমণের সময়ও তিনি নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলেন। বিভিন্ন স্কিনকেয়ার বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ সময় রোদে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করে ত্বককে সুরক্ষিত রাখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যের আলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ দ্রুত বাড়াতে পারে—এ বিষয়টি তিনি খুব সচেতনভাবে অনুসরণ করেন।

৩. টুপি পরা, পানি পান ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য অনুযায়ী, জোলি নিয়মিত টুপি পরেন, যা সরাসরি সূর্যের আলো থেকে মুখকে রক্ষা করে। তিনি প্রচুর পানি পান করেন এবং ত্বক সবসময় ময়েশ্চারাইজড রাখেন।

লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে বয়সের ছাপ কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সূর্য থেকে সুরক্ষা।

৪. হালকা মেকআপ ও নিয়মিত ক্লিনজিং

বিভিন্ন সৌন্দর্য বিষয়ক বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ভারী মেকআপ ব্যবহার করেন না। তিনি ন্যাচারাল লুক পছন্দ করেন এবং দিনের শেষে অবশ্যই মেকআপ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং মেকআপ না জমতে দেওয়া—ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখার অন্যতম প্রধান কারণ।

lll
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

২০১০ সালের একটি সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি জানিয়েছিলেন, তিনি কখনোই প্লাস্টিক সার্জারি করাননি এবং ভবিষ্যতেও করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকের নিজের শরীর ও সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে, এবং কেউ কিভাবে নিজেকে ভালো রাখবেন—এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষকদের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সৌন্দর্যের পেছনে কোনো জাদু নেই। বরং নিয়মিত স্কিনকেয়ার, সূর্য থেকে সুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা লাইফস্টাইল—এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই তাকে ৫১ বছর বয়সেও উজ্জ্বল ও তরুণ রাখছে।

সুস্থ থাকতে খেজুর খাওয়ার ৫ স্বাস্থ্যকর উপায়

অনলাইন ডেস্ক
সুস্থ থাকতে খেজুর খাওয়ার ৫ স্বাস্থ্যকর উপায়
সংগৃহীত ছবি

রমজান হোক বা বছরের অন্য সময় খেজুর অনেকেরই পছন্দের খাবার। প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের এই ফলটিকে অনেকে চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করেন। তবে খেজুরে চিনি থাকলেও এর আঁশ (ফাইবার) রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে বাধা দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি হজমেও সহায়ক। খবর ভেরিওয়েল ফুড 

তাজা, শুকনা, পেস্ট কিংবা সিরাপ বিভিন্নভাবে খেজুর খাওয়া যায়। প্রতিটি ধরনেরই রয়েছে আলাদা স্বাদ, গঠন এবং পুষ্টিগুণ। সঠিকভাবে খেলে খেজুর হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ।

তাজা খেজুর খান

তাজা খেজুর একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর নাশতা। শুকনা খেজুরের তুলনায় এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নরম, রসালো এবং সহজে হজম হয়। তাজা খেজুরের কিছু সুবিধা হলো—

  • ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক কম।
  • হজমে তুলনামূলক সহজ।
  • শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

তবে তাজা খেজুর দ্রুত নষ্ট হতে পারে, তাই অবশ্যই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিকভাবে রাখলে কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

খেজুর সাধারণত তিনটি পর্যায়ে খাওয়া হয় 

  • খালাল: শক্ত, হলুদ রঙের এবং হালকা মিষ্টি।
  • রুতাব: নরম, বাদামি এবং অনেক বেশি মিষ্টি।
  • তামার: পুরোপুরি পাকা, চিবিয়ে খাওয়ার মতো এবং ক্যারামেলের মতো স্বাদযুক্ত।

শুকনা খেজুর পরিমিত পরিমাণে খান

শুকনা খেজুর সবচেয়ে পরিচিত ও সহজলভ্য। এটি কিশমিশের মতো চিবিয়ে খাওয়া যায় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। যদিও এতে তাজা খেজুরের তুলনায় চিনি ও ক্যালোরি বেশি থাকে, তবুও এতে রয়েছে বেশি আঁশ। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এছাড়া শুকনা খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, নিয়াসিন, কপার, ও সেলেনিয়াম।  যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য একবারে অনেকগুলো খেজুর না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।

বেকিংয়ে ব্যবহার করুন খেজুরের পেস্ট

খেজুরের শাঁস থেকে তৈরি করা হয় খেজুরের পেস্ট। এটি কেক, মাফিন, কুকিজ বা বিভিন্ন বেকড খাবারে পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। খেজুরের পেস্টের বিশেষ সুবিধা হলো খেজুরে এতে প্রাকৃতিক আঁশ থাকে। এটি 
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি ছাড়াই খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনে। খেজুর দিয়ে পেস্ট ছাড়াও বাটার, জ্যাম ও জেলিও তৈরি করা যায়।

চিনির বদলে ব্যবহার করুন খেজুরের সিরাপ

খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ এবং আঠালো গঠন একে বিভিন্ন রান্না ও বেকিংয়ের জন্য আদর্শ প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক করে তোলে। বিশেষ করে দারুচিনি, এলাচ, আদা, বিভিন্ন বাদাম ও বীজজাতীয় উপাদানের সঙ্গে খেজুরের সিরাপের স্বাদ ভালোভাবে মানিয়ে যায়।

খেজুর থেকে তৈরি সিরাপে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলেও এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে, যা সাধারণ পরিশোধিত চিনির তুলনায় এটিকে কিছুটা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি যে চিনি-মুক্ত বা কম ক্যালোরির, তা নয়। তাই ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে খেজুরের সিরাপও পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

ফারমেন্টেড খেজুরও হতে পারে বিকল্প

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় এটি ফারমেন্ট করে বিভিন্ন ধরনের ভিনেগার ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুরের রস থেকে এসব পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যেভাবে খেজুর রাখবেন: খেজুর নানা উপায়ে খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায়। যেমন—

  • সকালের স্মুদিতে।
  • দইয়ের সঙ্গে।
  • বাদাম বা পনিরের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে।
  • সালাদে কুচি করে।
  • এনার্জি বার তৈরিতে।
  • পাউরুটি, মাফিন বা স্কোনে।
  • পিনাট বাটার ও ডার্ক চকলেট দিয়ে ভরে স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট হিসেবে।
  • পুডিং তৈরির উপকরণ হিসেবে।

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই সুস্থ মানুষের পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু উপায়
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মাছে-ভাতে আমাদের বাঙালির মাছ ছাড়া যেন এক বেলাও চলে না। দুপুরের খাবারে এক টুকরো মাছ না থাকলে অনেকের কাছেই খাবারটা অপূর্ণ মনে হয়। তবে প্রিয় এই খাবার খেতে গিয়েই অনেক সময় ঘটে বিপত্তি। অসাবধানতায় গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে মুহূর্তেই শুরু হয় অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তা। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

লেবুর রস :
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অনেকেই লেবুর রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসিড কাঁটাকে কিছুটা নরম করতে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। একটি লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে অল্প অল্প করে পান করলে অনেকের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে।

কোল্ড ড্রিংকস :
কোল্ড ড্রিংকসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গলায় আটকে থাকা ছোট ও নরম কাঁটা নিচে নামতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা সব ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

অলিভ অয়েল বা ভিনিগার :
এক চামচ অলিভ অয়েল খেলে গলা কিছুটা পিচ্ছিল হয়ে কাঁটা নিচে নেমে যেতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অলিভ অয়েল না থাকলে এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ ভিনিগার মিশিয়ে পান করার কথাও বলা হয়। তবে এসব পদ্ধতি সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

তত
ছবি : সংগৃহীত

কলা বা শুকনো ভাত :
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে অনেকেই প্রথমেই কলা বা শুকনো ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। ধারণা করা হয়, কলা বা ভাতের বড় লোকমা গলার কাঁটাকে নিচে নামতে সাহায্য করতে পারে। তবে জোর করে বড় লোকমা গিলে খাওয়া ঠিক নয়। এতে কাঁটা আরো গভীরে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি গলায় তীব্র ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, গিলতে বা কথা বলতে সমস্যা হয়, থুতুর সঙ্গে রক্ত আসে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিরাপদভাবে কাঁটা বের করে দেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে জোর করে বড় বড় খাবারের লোকমা গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে কাঁটা আরো গভীরে আটকে যেতে পারে এবং জটিলতা বাড়তে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক
হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

পার্লার থেকে হেয়ার কালার করানোর পর চুলের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা আর ঝলমলে রং আমাদের মন ভালো করে দেয়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে কিছুদিন পর। কয়েকবার শ্যাম্পু করার পরই সেই পছন্দের রং ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। অনেক সময় চুলে অবাঞ্ছিত হলদে কিংবা তামাটে ভাবও চলে আসে। শুধু ভালো মানের হেয়ার কালার ব্যবহার করলেই রঙের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়মে চুলের যত্ন নেওয়া। চলুন, জেনে নিই হেয়ার কালার দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়।

কালার করার আগে চুল প্রস্তুত করুন
হেয়ার কালার করার আগে চুল পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। চুলে অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি বা কোনো স্টাইলিং প্রোডাক্ট জমে থাকলে রং সমানভাবে বসে না। তাই কালার করার কয়েক দিন আগে একটি ভালো ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন। পাশাপাশি চুলের আগা ফাটা থাকলে সামান্য ট্রিম করিয়ে নিন। কারণ শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যায়।

প্রথম ৩ দিন শ্যাম্পু থেকে দূরে থাকুন
হেয়ার কালার করার পর অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা (২-৩ দিন) চুলে শ্যাম্পু না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ের মধ্যে চুলের কিউটিকল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রংকে ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করে। কালার করার পরপরই শ্যাম্পু করলে নতুন রং দ্রুত ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল ধোওয়ার অভ্যাস বদলান
গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে কিউটিকল খুলে যায় এবং রং দ্রুত নষ্ট হয়। তাই চুল ধোওয়ার জন্য সবসময় ঠাণ্ডা বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না। প্রয়োজনে মাঝের দিনগুলোতে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে ‘কালার-সেফ’ ও ‘সালফেট-মুক্ত’ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে রঙের উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে।

রোদ, ক্লোরিন ও হার্ড ওয়াটার থেকে সুরক্ষা
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি হেয়ার কালার নষ্ট করে দেয়। তাই কড়া রোদে বাইরে বের হলে স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। লাইনে সরবরাহ করা পানিতে অতিরিক্ত খনিজ থাকলে তা চুলের ক্ষতি করতে পারে, তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সুইমিং পুলের ক্লোরিনযুক্ত পানিতে নামার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে লিভ-ইন কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

নিয়মিত ময়েশ্চার ও টোনিং
কালার করার পর চুলে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার শিয়া বাটার বা কেরাটিনযুক্ত ‘ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক’ ব্যবহার করুন। চুলে হলদে ভাব দূর করতে পার্পল শ্যাম্পু এবং বাদামি চুলের তামাটে ভাব কমাতে ব্লু শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে হেয়ার গ্লস ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল সিল হয়ে যায় এবং পার্লারের মতো ঝকঝকে লুক বজায় থাকে।

সূত্র : এই সময়

একতরফা ভালোবাসা যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন | কালের কণ্ঠ