• ই-পেপার

শরীরের যেসব সমস্যা শীতে বাড়ে

সবসময় হাত-পা ঠাণ্ডা থাকলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক
সবসময় হাত-পা ঠাণ্ডা থাকলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি
সংগৃহীত ছবি

শীতের দিনে হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও যদি আপনার হাত ও পা সবসময় ঠাণ্ডা হয়ে থাকে, তবে তা মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে তা শরীরে লুকিয়ে থাকা কোনো জটিল অসুস্থতার সংকেত হতে পারে।

কেন হাত-পা ঠাণ্ডা হয়?
আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। যখন শরীর ঠাণ্ডা অনুভব করে, তখন লিভার বা হার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখতে হাত-পায়ের দিকে রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমিয়ে দেয়। ফলে হাত ও পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু আবহাওয়া স্বাভাবিক বা গরম থাকার পরেও যদি নিয়মিত এই সমস্যা দেখা দেয়, তবে তার পেছনে কিছু বড় কারণ থাকতে পারে। চলুন, জেনে নিই।

রক্তসঞ্চালনের সমস্যা: এই সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো রক্ত চলাচল ঠিকমতো না হওয়া। শরীরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত রক্ত ঠিকমতো না পৌঁছালে হাত ও পা ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। বিশেষ করে যাদের হার্ট বা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া: শরীরে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা না থাকলে অক্সিজেন সঠিকভাবে সব অঙ্গে পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে শরীর দুর্বল লাগে, ক্লান্তি আসে এবং হাত-পা ঠাণ্ডা থাকে।

থাইরয়েডের সমস্যা: বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম হলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে শরীর কম তাপ উৎপন্ন করে এবং হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এর সাথে ওজন বৃদ্ধি, ত্বক শুষ্ক হওয়া বা চুল পড়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করে। এর ফলে হাত-পায়ে অবশ ভাব, ঝিনঝিনি ধরা এবং ঠাণ্ডা অনুভূতি তৈরি হয়।

রেনোডস সিনড্রোম: এটি এমন এক অবস্থা যেখানে সামান্য ঠাণ্ডা বা মানসিক চাপের কারণে হাত-পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। তখন আঙুলের রং সাদা বা নীলচে হয়ে যেতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তনালিকে সংকুচিত করে দেয়। ফলে হাত ও পায়ে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চিকিৎসকদের মতে, সবসময় ঠাণ্ডা হাত-পা থাকা মানেই বড় কোনো রোগ নয়। তবে ঠাণ্ডা অনুভূতির পাশাপাশি যদি হাত-পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব, ত্বকের রং বদলে যাওয়া, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

সূত্র : আজকাল

ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহারে হতে পারে শরীরের যেসব ক্ষতি

ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহারে হতে পারে শরীরের যেসব ক্ষতি
সংগৃহীত ছবি

সকালের অ্যালার্ম বাজতেই চোখ রগড়াতে রগড়াতে হাত চলে যায় বালিশের পাশে থাকা স্মার্টফোনটিতে। চোখ মেলার আগেই শুরু হয়ে যায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন আর মেসেজ স্ক্রোল করা। দিনের শুরুতেই দুনিয়ার সব খবরের খোঁজ রাখাটা অনেকে ‘আপডেটেড’ থাকা ভাবলেও, চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘নীরব বিষ’। ঘুম ভাঙার প্রথম মিনিটেই মোবাইল ঘাঁটার এই চিরচেনা অভ্যাস আপনার অজান্তেই মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং প্রতিদিন আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে জটিল মানসিক রোগের দিকে। চলুন, জেনে নিই কী কী ক্ষতি হচ্ছে শরীরের।

সংবেদনশীল মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ
চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। ঘুম ভাঙার পর ব্রেন পুরোপুরি সক্রিয় হতে কিছুটা সময় নেয়। এই ধীরগতির সময়ে মনোযোগ দেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ক্ষমতা পুরোপুরি কাজ করে না। ঠিক ওই মুহূর্তেই যদি আপনি মোবাইল ব্যবহার করা শুরু করেন, তবে একসঙ্গে একগাদা তথ্যের বোঝা মস্তিষ্কের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করে। ফলে দিন শুরুর আগেই ব্রেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

বাড়ে অ্যাংজাইটি ও স্ট্রেস
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাকৃতিকভাবেই মানবদেহে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, যা আমাদের জেগে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘুম ভাঙা চোখে মোবাইল চেক করলে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার নানা পোস্ট বা মেসেজ দেখলে এই হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে তীব্র মানসিক চাপ ও অ্যাংজাইটি (উদ্বেগ) তৈরি হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। প্রতিদিন এমনটা হতে থাকলে তৈরি হয় ‘অ্যাংজাইটি লুপ’, যা পরবর্তী সময়ে ক্রনিক স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সারা দিনের মেজাজ খিটখিটে ও ডিপ্রেশন
দিনের শুরুটাই যদি মানসিক চাপ দিয়ে হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়ে পুরো দিন জুড়ে। এতে কাজের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং দিনভর এক ধরনের ক্লান্তি কাজ করে। অনেকেই বুঝতে পারেন না কেন সারা দিন তাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ ধীরে ধীরে ক্রনিক ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার দিকে চলে যায়।

মুক্তির উপায় কী?
এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন :

ঘড়ির ব্যবহার : অ্যালার্মের জন্য মোবাইল ব্যবহার না করে টেবিলে রাখার মতো সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন।

বিছানা থেকে দূরে ফোন : রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি বিছানায় না রেখে কিছুটা দূরে রাখুন।

৩০ মিনিটের নিয়ম : সকালে ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর মোবাইলে হাত দিন। এই সময়টুকু আপনার মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দিন।

সূত্র : এই সময়

চুলের যত্নে নতুন ট্রেন্ড ‘দারচিনির পানি’

অনলাইন ডেস্ক
চুলের যত্নে নতুন ট্রেন্ড ‘দারচিনির পানি’
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ত্বক ও চুলের যত্নে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের প্রবণতা নতুন কিছু নয়। মেথির পানি, চিয়ার পানি, জিরার পানি—এই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন ‘দারচিনির পানি’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘরোয়া পানীয়টি কেশচর্চার একটি সহজ উপায় হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

বিভিন্ন রিল ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, দারচিনির পানি নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে এবং চুল পড়া কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত চুল ঝরার সমস্যা বাড়ায় এই ধরনের ঘরোয়া সমাধানের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।

কী উপকারের দাবি করা হচ্ছে?

দারচিনির পানিতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং প্রদাহনাশক উপাদান মাথার ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। বলা হচ্ছে, এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়াকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া দাবি করা হচ্ছে, এটি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং চুলে কিছুটা উজ্জ্বলতা আনতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।

কিভাবে তৈরি করবেন দারচিনির পানি?

ঘরেই খুব সহজে তৈরি করা যায় এই মিশ্রণ।
দুটি দারচিনির টুকরো দুই কাপ পানিতে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হয়। এরপর পানি ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়। ব্যবহার করার আগে সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা হওয়া জরুরি।

ব্যবহার পদ্ধতি

দারচিনির পানি সরাসরি মাথার ত্বক ও চুলে স্প্রে করা যায়, অথবা তুলার সাহায্যে লাগানো যেতে পারে। এরপর হালকা করে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে বলা হচ্ছে।

তবে এটি ব্যবহারের পর যদি কোনো ধরনের জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
 

বাজারের জুস নয়, ঘরেই বানান স্বাস্থ্যকর ফলের পানীয়

অনলাইন ডেস্ক
বাজারের জুস নয়, ঘরেই বানান স্বাস্থ্যকর ফলের পানীয়
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গরমের সময় শিশুদের মধ্যে ম্যাঙ্গো জুস সহ নানা ধরনের ফলের জুস খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের জুস কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জুস নিয়মিত খাওয়া ছোটদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দীর্ঘ সময় সংরক্ষণযোগ্য করার জন্য প্যাকেটজাত জুসে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভ মেশানো হয়। পাশাপাশি পানীয়কে আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়, আর স্বাদ বাড়াতে যোগ করা হয় কৃত্রিম ফ্লেভার ও অতিরিক্ত চিনি। ফলে এসব জুসে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়।

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট ও পটাশিয়াম সরবেটের মতো কিছু প্রিজারভেটিভ দীর্ঘদিন নিয়মিত গ্রহণ করলে শিশুদের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তচাপজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ছোটদের জন্য এসব প্যাকেটজাত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর পরিবর্তে ঘরে তৈরি টাটকা ফলের জুসকে সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাজা ফল দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় পুষ্টিকর ও সুস্বাদু জুস, যেখানে কোনো ধরনের কৃত্রিম উপাদান যোগ করার প্রয়োজন পড়ে না।

কিছু সহজ ফলের জুসের রেসিপি

ম্যাঙ্গো জুস
পাকা ও কাঁচা আম একসঙ্গে ব্যবহার করে ঘরেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ম্যাঙ্গো জুস। আম সেদ্ধ করে ব্লেন্ড করে পিউরি বানিয়ে চিনি, পানি ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিলেই তৈরি হয়ে যায় এই পানীয়। পরিবেশনের আগে ঠান্ডা করে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিলে স্বাদ আরও বাড়ে।

আনারস জুস
আনারসের টুকরো ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হয়। এরপর রসের সঙ্গে পানি, চিনি ও সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে হালকা আঁচে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিলে তৈরি হয় টক-মিষ্টি স্বাদের আনারস জুস। ঠান্ডা করে পুদিনা পাতা যোগ করলে এটি আরো সতেজ লাগে।

লিচু-লেবু জুস
খোসা ছাড়ানো লিচু পানিসহ ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হয়। এরপর সেই রসের সঙ্গে পানি, চিনি বা মিছরি এবং লেবুর রস মিশিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করা হয়। এটি শিশুদের জন্য হালকা ও পুষ্টিকর একটি পানীয় হিসেবে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে ঘরে তৈরি ফলের জুস শুধু শরীর ঠান্ডা রাখে না, বরং প্রাকৃতিক পুষ্টিও নিশ্চিত করে। তাই শিশুদের খাদ্য তালিকায় প্যাকেটজাত পানীয়ের বদলে ঘরোয়া ফলের জুস রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
 

শরীরের যেসব সমস্যা শীতে বাড়ে | কালের কণ্ঠ