kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

জীবন এক অমূল্য পরশপাথর

মোস্তফা কামাল   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১১:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবন এক অমূল্য পরশপাথর

তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সফল হওয়ার কলাকৌশল শেখাতে কালের কণ্ঠের অনলাইনে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখো।’ সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নিয়মিত লিখছেন। স্বপ্ন দেখাবেন তরুণদের। স্বপ্ন আর আশাজাগানিয়া লেখা পড়ুন কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

আশা জাগানিয়া একটি জীবনের গল্প। আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনা। আমি তরুণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি। 

এক কিশোর ছেলে তার দাদুভাইয়ের কাছে এসে জানতে চাইল, দাদু, জীবনের মূল্য কী? 

দাদুভাই বললেন, জীবনের মূল্য কী তা আমি তোমাকে বোঝাব। তবে তার আগে তুমি একটা কাজ করো। তোমাকে আমি একটা পাথর দিলাম। এই পাথর নিয়ে তুমি বের হও। মানুষের কাছে জানতে চাও এই পাথরের মূল্য কী? বিভিন্ন মানুষের মতামত নেবে। জানার পর তুমি তোমার অভিজ্ঞতার কথা বলবে। তারপর আমি তোমাকে জীবনের মূল্য বোঝাবো। 

ছেলেটি পাথর হাতে নিয়ে বের হলো। প্রথমে তার সঙ্গে দেখা হলো এক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে। ছেলেটি তাকে বলল, ভাই আমি এই পাথরটি বিক্রি করব। তুমি আমাকে কত টাকা দেবে?

সবজি বিক্রেতা বলল, আমি আমার সব সবজি তোমাকে দিবো। তুমি তোমার পাথরটি আমায় দাও। 
ছেলেটি বলল, না ভাই। আমার এই পাথরের দাম অনেক বেশি। আমি যাই। অন্য কোথাও দেখি। 

ছেলেটি এবার গেলো এক মুদি দোকানদারের কাছে। তাকে গিয়ে বলল, ভাই আমি এই পাথরটি বিক্রি করব। বিনিময়ে তুমি আমায় কি দেবে?

মুদি দোকানদার বলল, আমি আমার দোকানের যা কিছু আছে সবই তোমায় দেবো। তুমি তোমার পাথরটি আমায় দাও। 

ছেলেটি এবারও বলল, না ভাই। আমার পাথরের দাম অনেক বেশি। আমি যাই। অন্য কোথাও দেখি। 

ছেলেটি এবার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে গেলো। তাকে বলল, ভাই আপনার তো বিশাল স্বর্ণের ব্যবসা। আপনি ঠিকই এই পাথরের মর্ম বুঝবেন। আমি এই পাথরটি বিক্রি করতে চাই। আপনি কী দাম দেবেন? 
স্বর্ণ ব্যবসায়ী পাথরটি উল্টেপাল্টে দেখলেন। তারপর বললেন,আমার স্বর্ণের দোকানে যত স্বর্ণ আছে সব তোমাকে দেবো। তুমি আমাকে তোমার পাথরটি দাও। 

ছেলেটি বলল, ভাই আমার পাথরের দাম আরো বেশি। আমি বরং অন্য কোথাও দেখি। 

এবার ছেলেটি গেলো বড় এক ব্যবসায়ীর কাছে। তাকে গিয়ে বলল, ভাই আমি আমার এই পাথরটি বিক্রি করতে চাই। আপনি এজন্য আমাকে কী মূল্য দেবেন?

ব্যবসায়ী বললেন, আমার কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা। আমি তোমার পাথরের বিনিময়ে পুরো ব্যবসা তোমার নামে লিখে দেবো। তুমি তোমার পাথরটি যদি আমায় দাও!

ছেলেটি বলল, ঠিক আছে। আমি চিন্তা করে দেখি। 

ছেলেটি এবার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেলো এক শিক্ষাবিদের কাছে। তাকে গিয়ে বলল, স্যার, আমি আমার এই পাথরটি বিক্রি করতে চাই। আপনি কি এটা কিনতে রাজি আছেন?

শিক্ষাবিদ পাথরটি হাতে নিয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে বললেন, এতো পরশপাথর! এর মূল্য দেয়ার সাধ্য আমার নেই। 

ছেলেটি এবার পাথরটি নিয়ে তার দাদুর কাছে গেলো। তার কাছে গিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানাল। সব শুনে তিনি বললেন, এবার শোন তাহলে জীবনের মূল্য কি তা বলছি। প্রতিটি জীবনই হচ্ছে এক একটা পরশপাথর। জীবনকে যে যেভাবে মূল্যায়ন করে সেভাবেই জীবনের গতি পরিচালিত হয়। তুমি হেলায় ফেলায় জীবনটাকে শেষও করে দিতে পারো। সবই তোমার ওপর নির্ভর করছে। তুমি যদি তোমার জীবনটাকে অনেক বড় জায়গায় নিয়ে যেতে চাও তাহলে অনেক বড় করে স্বপ্ন দেখ। অনেক বড় করে ভাবো। ভাবনার জগত যত বড় হবে জীবনও ততই বড় হয়ে উঠবে। জীবনকে সেভাবে গড়ে তোলার মনোভাব তৈরি হবে। নিশ্চয়ই তখন তোমার জীবন অমূল্য রত্ন হয়ে উঠবে। 

আর তুমি যদি জীবন নিয়ে ছোট করে ভাবো, তাহলে সে রকমই ফল পাবে। বড় করে ভাবলে বড় ফল পাবে। 

এতোক্ষণে ছেলেটি জীবনের মূল্য কী তা বুঝতে সক্ষম হলো। আমার মনে হয়, আমার প্রিয় তরুণ পাঠকরাও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। 

লেখক : সাহিত্যিক ও নির্বাহী সম্পাদক কালের কণ্ঠ  

পড়ুন আগের কিস্তি 

সফলতা অর্জনের কলাকৌশল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা