প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুকদ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন এমন কম্পিউটার বা সার্ভার তৈরি করছে যা মানুষের মতো বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পারে (যাকে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বলি)। এই এআই-এর জন্য সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী মেমোরি চিপ (যেমন: র্যাম বা স্টোরেজ চিপ) প্রয়োজন হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার জন্য বড় বড় ডেটা সেন্টারে এখন প্রচুর শক্তিশালী মেমোরি চিপ লাগছে। বড় কোম্পানিগুলো একসাথে সব চিপ কিনে ফেলায় বাজারে চিপের মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে এবং দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির মতো সাধারণ ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র বানানোর কোম্পানিগুলো এখন চিপ খুঁজে পেতে ও কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
টিম কুক বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও এখন আর পণ্যের দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই। আমরা চেয়েছিলাম যেন ক্রেতাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ না পড়ে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আর এই দামে জিনিসপত্র বিক্রি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’
তবে কবে থেকে দাম বাড়বে, কতটা বাড়বে কিংবা কোন কোন পণ্যের দাম বাড়ানো হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।
এদিকে, আগামী সেপ্টেম্বরে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের পাশাপাশি আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স বাজারে আনতে পারে বলে জানা যায়।
কুক জানান, বিশেষ করে ডিআরএএম মেমোরির বাজারে চাপ বেশি। কারণ এআই সার্ভারে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরির জন্য বিপুল পরিমাণ সরবরাহ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তা পণ্যের জন্য মেমোরির সরবরাহ কমে যাচ্ছে।
কুক জানান, বিশেষ করে কম্পিউটারের ডিআরএএম মেমোরির সংকট এখন সবচেয়ে বেশি। কারণ, এআই চালিত বড় বড় সার্ভারগুলোর জন্য প্রচুর পরিমাণে উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপ তুলে রাখা হচ্ছে। এর ফলে আমরা সাধারণ মানুষ যে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করি, সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় মেমোরি চিপের অভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ঠিক এমন একটা সময়ে চিপের অভাব দেখা দিয়েছে যখন ক্রেতারা প্রচুর পণ্য কিনতে চাচ্ছেন। আর এই সুযোগে চিপ বানানোর কোম্পানিগুলো দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যবহার করা মোবাইল-ল্যাপটপের জন্য মেমোরি চিপের দাম কমানো এবং সরবরাহ আগের মতো স্বাভাবিক করা এখন খুবই জরুরি।’
চীনে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপ উৎপাদনকারী বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ নয়। এ বিষয়ে কুক জানান, সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখা উচিত।
এছাড়া, চিপের সরবরাহ বাড়াতে অ্যাপল নিজেদের অর্থ ব্যবহার করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। তবে কোম্পানিটি নিজস্ব মেমোরি বা স্টোরেজ চিপ কারখানা গড়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না তারা।




