kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

গ্রামীণফোনের ওয়েবিনারে বক্তারা

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দক্ষতার গ্যাপ দূর করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দক্ষতার গ্যাপ দূর করতে হবে

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দক্ষতার গ্যাপ দূর করতে হবে। আজ সোমবার গ্রামীণফোন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এই কথা বলেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘তারুণ্যের সাথে, সম্ভবনার পথে’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজের দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবারের বিষয়বস্তু ছিল ‘আগামীর দক্ষতা’।

ওয়েবিনারে জাতীয়তা দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘জাতীয়তা দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অধিকতর জনসংখ্যার দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা ও শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, দক্ষতার প্রচার ও প্রসার ঘটনা এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে যুব সমাজকে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার ও মজুরিভিত্তিক চাকরির বাজারের উপযোগী করে তোলার উদ্দেশ্যে এনএসডিএ কাজ করে যাচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘চাহিদা মতো দক্ষ ও মানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ জনবলের সরবরাহ না থাকার কারণে স্কিল গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে যে ধরনের গ্রাজুয়েট তৈরি করা হয় তা শিল্পের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় না বলে প্রায়ই শুনতে পাই। চাহিদা অনুযায়ী আমাদের দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে যুবদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবলে রূপান্তরে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ, ‘জার্মানিতে ৮০ ভাগ মানুষের মাল্টি স্কিল আছে। ইংল্যান্ডে সেই সংখ্যা ৪০ শতাংশ। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষের মাল্টি স্কিলের সংখ্যা মাত্র চার শতাংশ। এর পেছনের সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা হলো আমরা প্রথম থেকেই নলেজ বেইজ স্কিল তৈরির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু আমরা সফট স্কিলের দিকে আমরা কোনো গুরুত্ব দেইনি। গ্যাপ মূলত ওখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে এখন থেকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। করোনার অনেক নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে একটি ইতিবাচক দিক হলো যে করোনার ফলে আমরা ডিজিটালি অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তরুণ ও যুবকদের প্রশিক্ষণে মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করতে সরকারের সমন্বয়ে সমন্বিত কার্যক্রম দরকার।’

যুব প্রতিনিধির বক্তব্যে ইয়ুথ অপারচুনিটিজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন নূর বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজের দক্ষতার গ্যাপটি কোথায় থেকে যাচ্ছে এবং কীভাবে আমরা তা পূরণ করতে পারি সেটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়া দক্ষতার গ্যাপ তৈরি হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। ঢাকায় অবস্থানরত একজন যুবক কোনো একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে চাইলে যে ধরনের সুযোগ পেয়ে থাকে দেশের অন্যান্য জেলার বা গ্রামের যুবকদের সেই সুযোগ নেই। এই জায়গা আমাদের বিশাল বড় গ্যাপ রয়ে গেছে। এই সমস্যা দূর করতে হলে দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সবখানে যুবকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই শিশুদের স্কাউটিংসহ এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজ এ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে যার ফলে ওইসব স্থান থেকে প্রাপ্ত লিডারশিপ গুণাবলীগুলো ভবিষ্যতে তাকে একজন দক্ষ জনবলে রূপান্তরিত হতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

গ্রামীণফোনের চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অফিসার সোলায়মান আলম বলেন, ‘পলিটিক্যাল ম্যান্ডেট হিসেবে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের ম্যান্ডেট পেয়েছি যেটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি ব্যাপার। ডিজিটাল কার্যক্রমগুলোকে এটি বড় গতির সঞ্চার করছে যা অনেক ইতিবাচক। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফ্রিল্যান্সার সাপ্লাইয়ার এবং দেশের প্রায় ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার আমাদের দেশে আছে যা আমাদের বছরে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি আয় দিচ্ছে। কিন্তু তরুণদের অনেক বড় একটি অংশ এখনো বেকার আছে। আমাদের তরুণদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে তারা দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের কর্মপরিধি থাকে।’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রামীণফোনের হেড অফ ইনোভেশন ফারহানা ইসলাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা