• ই-পেপার

তেজগাঁওয়ে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৫২

ঈদের ছুটি শেষে বাসা ফিরে দেখলেন বারান্দার গ্রিল কাটা, অতঃপর...

অনলাইন ডেস্ক
ঈদের ছুটি শেষে বাসা ফিরে দেখলেন বারান্দার গ্রিল কাটা, অতঃপর...

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টায় গ্রাম থেকে ফিরে ফ্ল্যাটের বাসিন্দা এ তথ্য জানান।

তারা দাবি করেন, চোর বারান্দার গ্রিল কেটে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে ভেতরের রুমের তালা ভেঙে প্লাস্টিকের আলমারি থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।

ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ভুক্তভোগী আপন বলেন, নিজের অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমানো সেই টাকা রেখেই বাড়ি গিয়েছিলাম। ফিসে এসে দেখি সব শেষ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে পিটিয়ে আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে পিটিয়ে আহত
ফাইল ছবি

রাজধানীর কদমতলীর শনির আখড়ায় ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর করে তাদের বেশকিছু মালামাল নিয়ে গেছে এক দল দুর্বৃত্ত।

বুধবার (৩ জুন) রাতে শনির আখড়া পোস্ট অফিস গলিতে ওই ৩ কর্মী রাস্তায় কাজ করছিল। তখন এক দল দুর্বৃত্ত তাদেরকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে সেখানে ব্যবহৃত বেশকিছু মালামাল নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ‘গতি অনলাইন নেট সার্ভিসের’ ব্যবসায়ী মিরাজ।

আহতরা হলেন গতি অনলাইন নেট সার্ভিসের কর্মচারী হৃদয় (১৯), রাতুল (২২) ও অন্তর (১৯)।

পরে আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, সেখান থেকে রাত সোয়া ১০টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি বলেন, আহতরা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

মিরাজ বলেন, আহতরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি। তবে যেখানে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তা দেখলে হয়ত শনাক্ত করা যাবে। কী কারণে এমনটি করেছে, সে বিষয়েও তিনি কোনোকিছু জানাতে পারেননি।

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে জিয়া সাইবার ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে জিয়া সাইবার ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের শ্রদ্ধা
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও দলটির ভাষ্য অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে জিয়া সাইবার ফোর্স যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১টায় রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া সাইবার ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বায়ক আব্দুর রউফ খান নবাব, সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ প্রিন্স এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

তাঁরা শহীদ রাষ্ট্রপতির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে এক অনন্য নেতৃত্বের নাম। দেশের ক্রান্তিকালে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিল। রাষ্ট্র পরিচালনায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নেতারা আরো বলেন, দেশের প্রতি তাঁর আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁরা তাঁর আদর্শ ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য প্রার্থনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা জানান, দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তাঁরা সবসময় জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে চলেছেন। তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত রাখতে জিয়া সাইবার ফোর্স যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

বক্তারা বলেন, শাহাদাতবার্ষিকীর এই আয়োজন কেবল শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি অঙ্গীকার। শতাধিক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁর দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মামলা-নির্যাতনের শিকার কর্মকর্তা কিবরিয়া এবার সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামলা-নির্যাতনের শিকার কর্মকর্তা কিবরিয়া এবার সাময়িক বরখাস্ত

একসময় যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অভিযোগে একের পর এক মামলার আসামি হয়েছেন, জেল খেটেছেন, চাকরি হারিয়েছেন এবং বছরের পর বছর আত্মগোপনে থেকেছেন, সেই গোলাম কিবরিয়া এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা এবং সংস্থাটির অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত ঘিরে নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একপক্ষ বলছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে আরেকপক্ষের দাবি, এটি মূলত সংস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের অংশ।

সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবন কেবল একটি সরকারি চাকরির গল্প নয়; বরং তা রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-মোকদ্দমা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসও বহন করে।

তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পল্টন থানায় ৮টি, রমনা থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪টি, শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি এবং যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি মামলা ছিল।

২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি টানা ৪ মাস ৬ দিন কারাগারে ছিলেন। শুধু তিনি নন, তার পরিবারের সদস্যরাও মামলার ভার বহন করেছেন। তার সেজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২৯টি এবং বাবার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও বিভিন্ন সময় কারাবরণ করতে হয়েছে।

সহকর্মীদের দাবি, এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক মামলার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবেও নানা চাপের মুখে পড়েছিলেন গোলাম কিবরিয়া। প্রায় ছয় বছর চাকরিচ্যুত অবস্থায় থাকতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের পর তিনি আবার দায়িত্বে ফেরেন।

ফিরে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হন এবং অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ফলে সংস্থার ভেতরে তার একটি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি হয়।

সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

তবে আদেশে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, অভিযোগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।

আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত রেখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, সংস্থার ভেতরে বর্তমানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অদৃশ্য দ্বন্দ্ব চলছে।

তাদের ভাষ্য, অতীতে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা নতুন পরিস্থিতিতেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের জন্য পরিস্থিতি সহজ হবে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নগর ভবনে এখন বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয়। কে কতটা প্রভাবশালী হবে, তা নিয়েই মূল প্রতিযোগিতা। গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হোক, কিন্তু অভিযোগের প্রকৃতি স্পষ্ট না করেই সাময়িক বরখাস্ত করায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

বিতর্ক ও আলোচনা চললেও নিজে খুব বেশি কথা বলতে রাজি নন গোলাম কিবরিয়া। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, সেই অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

গোলাম কিবরিয়ার সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক শাস্তির বিষয় নয়; এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ তদন্তের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতির প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে প্রশ্ন উঠবে, একজন কর্মকর্তাকে কিসের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো এবং তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত ক্ষতির দায় কে নেবে।