• ই-পেপার

শাহজাহানপুরে অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা

টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধী যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধী যুবক নিহত
প্রতীকী ছবি

টঙ্গীবাজার থেকে বের হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মো. ইমন (২৪) নামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবকের।  বুধবার (১৭ জুন)  সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। সংবাদ পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ, তাকে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল পৌনে ৪টায় তার মৃত্যু হয়। 

সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ইমন ভোলার তমিজউদ্দিন উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শহিদ উদ্দিনের ছেলে ইমন। 

নিহতের চাচা নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘ইমন আমার সঙ্গে টঙ্গীবাজার এলাকায় বাসায় থাকত। আমার বাজারে একটি দোকান রয়েছে। সে দুপুরে আমার জন্য বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসত। মাঝে মধ্যে আমার সঙ্গে দোকানে বসত। এ ছাড়া সে মসজিদে নামাজ পড়তে বের হতো। 

তিনি আরো বলেন, ‘গত সোমবার দুপুর ১টার দিকে দোকান থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশপাশে খোজাখুজি করে না পেয়ে রাতে টঙ্গী পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মানুষের মাধ্যমে ফেসবুকে তার দুর্ঘটনার সংবাদ সংবাদ পাই। সেই সূত্র ধরে উত্তরা পূর্ব থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারি  ইমন ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে সেখানে গিয়ে তাকে পাই। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে বিকালে সে মারা যায়। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়। 

যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চালানো অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও রাস্তায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

এ সময় অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা চালানোর দায়ে ৫টি মামলা করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে রাজউক-রিহ্যাব উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে রাজউক-রিহ্যাব উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

ড্যাপ সংশোধনসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) (২০২৬-২০২৮) পরিচালনা পর্ষদ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ড্যাপ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান ড্যাপে বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতি ও বৈষম্য রয়েছে। সীমিত জমির বাস্তবতায় আধুনিক নগরায়নের জন্য সিটি সেন্টারের মতো বহুতল ও পরিকল্পিত ভবন নির্মাণের সুযোগ আরো বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি তিনি সমগ্র দেশের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষি, আবাসন, শিল্পাঞ্চল ও বনায়নের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ ঋণ ও প্রণোদনা প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক ড্যাপ ও আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে একটি দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেন। রাজউক চেয়ারম্যান প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের আশ্বাস প্রদান করেন।

এ ছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, পরিচালক জনাব মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশ সবার। সবার জন্য একটি পরিকল্পিত ও টেকসই আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।’

তিনি রিহ্যাবের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ বৈঠকে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক ডা. এন. জোহা, আলহাজ্ব মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, আলহাজ প্রফেসর ফারুক আহমদ, মো. জহির আহমেদ, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী,  হাবিবুর রহমান হাবিব,  মো. ইমদাদুল হক, এম ফখরুল ইসলাম ও মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল।

`আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের পক্ষে নই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখতে হবে'

অনলাইন ডেস্ক
`আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের পক্ষে নই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখতে হবে'

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মাত্র ৩৫০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে, যা বাংলাদেশের কোনো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সাধারণত দেয় না। তারা যে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো দিচ্ছে, সেগুলোর দিকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকেই কেন্দ্র করা হচ্ছে।

জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে এ কথা বলেন একজন সচেতন নাগরিক।

তিনি বলেন, আমি আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে বন্ধ করার পক্ষে নই, আবার কোনো পক্ষপাতও করছি না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি বিষয়টিকে নিরপেক্ষভাবে দেখতে চাই। প্রশ্ন হলো, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে সেই অপরাধের দায় কি পুরো প্রতিষ্ঠান বহন করবে, নাকি যে ব্যক্তি অপরাধ করেছে তারই দায় হবে? নিশ্চয়ই দায় তারই।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে, এতে কি দেশের ক্ষতি হবে না প্রশ্ন রেখে ওই নাগরিক বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে না? কারা এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করছে, এর পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী চক্র আছে কি না, সেটাও সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।

শুধু আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যে পরিমাণ সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে, তার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এমন অবস্থায় একটি হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া জনগণের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।

তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিনের একটি সুপরিচিত ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। আমার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই, তবে যতটুকু জানি, তারা বহু বছর ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।

বিশেষ করে মাতৃসেবার ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রবণতা বেশি থাকলেও আদ্-দ্বীন হাসপাতালে প্রথম থেকেই স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া বা লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।

আরেকটি বিষয় হলো, তারা মাত্র ৩৫০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এসব ইতিবাচক দিক বিবেচনায় না এনে শুধু একটি দুর্ঘটনাকে সামনে আনা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর যেকোনো হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে। কোনো শিশুর বা রোগীর মৃত্যু অবশ্যই অত্যন্ত দুঃখজনক, এবং যদি চিকিৎসায় অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অপর এক ভিডিওতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা বলেন, যদি সরকার মনে করে আদ্-দ্বীন ভালো হাসপাতাল নয়, তাহলে আগে আমাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে যে আদ্-দ্বীন যেসব সেবা আমাদের দিচ্ছে, সেগুলো সরকার নিজ দায়িত্বে দেবে। আমাদের শিশুদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং আদ্-দ্বীনের দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধার বিকল্প ব্যবস্থা করবে। যদি সরকার এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তাহলে আমরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা ছাড়া আমরা এক পা-ও নড়ব না।

আমার সন্তানের চিকিৎসা এখনো চলমান। গতকাল তার কফ পরীক্ষায় জীবাণু পাওয়া গেছে এবং সেই অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী এই ওষুধ ১৪ দিন চলবে। আজ মাত্র দ্বিতীয় দিন। এখন যদি আমাকে হাসপাতাল ছাড়তে বলা হয়, আমি আমার সন্তানকে কোথায় নিয়ে যাব?

অন্য হাসপাতালে গেলে কি আমি সঙ্গে সঙ্গে একটি বেড পাব? প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পাব? একই মানের চিকিৎসা পাব? এর কোনো নিশ্চয়তা কি সরকার দিয়েছে?

হঠাৎ করে একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে বলা হলো, ‘রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।’ কিন্তু সরকার কি আগে থেকেই বিকল্প হাসপাতাল, বেড, চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা করে রেখেছে? যদি না করে থাকে, তাহলে এতগুলো রোগীকে একসঙ্গে কোথায় পাঠানো হবে?

একজন বাড়িওয়ালাও ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে বললে অন্তত কিছু সময় দেয়, যেন সে নতুন বাসা খুঁজে নিতে পারে। অথচ এখানে আইসিইউতে ভর্তি রোগী আছে, পিআইসিইউতে ভর্তি শিশু আছে, অপারেশন থিয়েটারে ডেলিভারির জন্য রোগী আছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলা কতটা বাস্তবসম্মত?

মানুষের জীবন ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা উচিত। আমরা চাই রোগীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং কোনো সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়।

শাহজাহানপুরে অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা | কালের কণ্ঠ