• ই-পেপার

রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১৮

ধানমণ্ডিতে বহুতল ভবন থেকে পড়ে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধানমণ্ডিতে বহুতল ভবন থেকে পড়ে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে মোছা. রিক্তা মনি (১১) নামের এক শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল আনুমানিক ৬টায় ধানমণ্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসার ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিক্তা সুনামগঞ্জ জেলার সালনা থানার নিজগাঁও গ্রামের দিনমজুর মো. শাহিন আলী ও মাজেদা বেগম দম্পতির মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, সকালে ওই বাসার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় রিক্তা। পরে আহত অবস্থায় রিক্তাকে উদ্ধার করে ধানমণ্ডির ১৫/এ নম্বর রোডের ইবনে সিনা স্পেশালাইজড অ্যান্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ধানমণ্ডি থানা-পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তবে রিক্তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহতের বাবা শাহিন আলী জানান, ঈদুল আজহার ১৫ দিন আগে এলাকার পরিচিত গাজীবুল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে চার হাজার টাকা বেতনে মেয়েটিকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন।

শাহিন আলী অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন আগে রিক্তা ফোন করে তার মায়ের কাছে কান্নাকাটি করেছিল, সে আর ওই বাসায় কাজ করবে না। গত শুক্রবারেও ভিডিও কলে কেঁদেছিল। আমরা মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে বাড়ির মালিক বলেন, গাজীবুলকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা ফেরত দিয়ে মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে। আমরা টাকা দিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, আজ হঠাৎ সকালে ফোনে আমাদের জানানো হয় রিক্তার আমাশয় হয়েছে এবং সে খুব অসুস্থ। পরে এসে জানতে পারি সে নাকি ভবন থেকে পড়ে গেছে। আমার মেয়ে ভবন থেকে পড়ে যায়নি, তাকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে।

রাজধানীতে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বাড্ডা আফতাবনগর এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ ভবন থেকে নিচে পড়ে ইকবাল হোসেন (২০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইকবাল হোসেন যশোর জেলার মণিরামপুর থানার সালামপুর গ্রামের মোদাচ্ছের আলীর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন এবং আফতাবনগরের ওই নির্মীয়মাণ ভবনেই থাকতেন।

নিহতের সহকর্মী আব্দুল মালেক জানান, সকালে আফতাবনগরে একটি নির্মীয়মাণ ৯ তলা ভবনের ৮ তলা থেকে সাটারিংয়ের কাঠ নিয়ে ৯ তলায় উঠছিলেন ইকবাল। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

উদ্ধার করে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইকবালকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক শুভাশিস গাঙ্গুলি। তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

গুলিস্তানের আবাসিক হোটেলে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
গুলিস্তানের আবাসিক হোটেলে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু

রাজধানীর গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেলে আল আমিন (৪০) নামের এক সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ফেসবুকে পরিচয় হওয়া নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর রাস্তা এলাকার মৃত ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। আর তার নারী বন্ধু বাগেরহাটের বাসিন্দা। ঢাকায় এলে দুজনের দেখা হয় গুলিস্তানে। ওঠেন হোটেল রমনার নবম তলার একটি রুমে। সেখানে তাদের কথাবার্তা হয়।

ওই নারী বন্ধু জানিয়েছেন, প্রায় ৬ মাস আগে ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয়। সেই থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায়ই কথা হতো তাদের মধ্যে। চলতি মাসের ১৩ জুন আল আমিন সৌদি থেকে দেশে আসেন। বৃহস্পতিবার কথা হয় তাদের মধ্যে। শুক্রবার সকালে তিনি বাগেরহাট থেকে গুলিস্তান আসেন।

তিনি বলেন, আল আমিন ওয়াশরুমে যায়। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি ভারী শব্দ শুনতে পাই। ভেতরে গিয়ে দেখি ওয়াশরুমের দরজা খোলা অবস্থায় আল আমিন মেঝেতে পড়ে আছেন। এটি দেখে চিৎকার দিলে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দুপুরে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের ছোট ভাই রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তার বড় ভাই আল আমিন চলতি মাসের ১৩ তারিখ বাংলাদেশে আসেন। সৌদি থেকে কিছু মালামাল কাউকে দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। পরে সংবাদ পাই রমনা হোটেলের ওয়াশরুমে পড়ে মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেলে এসে তার মৃতদেহ দেখতে পাই।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পল্টন থানায় অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখবেন।

স্কুলে সাংস্কৃতিক বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি খাতে ২ শতাংশ বাজেটের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুলে সাংস্কৃতিক বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতি খাতে ২ শতাংশ বাজেটের দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলা, চারু ও কারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয় চালু করে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মোট বরাদ্দের অন্তত ২ শতাংশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু এবং দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন।

বক্তারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে মাত্র ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের এক শতাংশেরও কম। দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন।

তারা বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে তরুণদের একটি অংশ মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাশাপাশি সমাজে সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির পেছনেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সংকট ভূমিকা রাখছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। তারা বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা করছে এবং নাচ-গান ও খেলাধুলার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের বিরোধিতার কারণেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়নি।

বক্তারা আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি, মিলনায়তন ও সাংস্কৃতিক মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১৮ | কালের কণ্ঠ