• ই-পেপার

শাহবাগে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ১০

১৭ দেশের তিন হাজার রানারের অংশগ্রহণে হাতিরঝিলে ম‍্যারাথন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ দেশের তিন হাজার রানারের অংশগ্রহণে হাতিরঝিলে ম‍্যারাথন
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর হাতিরঝিলে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের রানিং ইভেন্ট ‘টুরাগ অ্যাক্টিভ ঢাকা ২৫কে’। শুক্রবার ভোর ৪টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে ১৭টি দেশের প্রায় তিন হাজার রানার অংশ নেন।

স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান রান বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং টুরাগ অ্যাক্টিভের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি ২৫ কিলোমিটার, ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও ৩ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, দেশের রানিং কমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা এবং ফিটনেস সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন। আন্তর্জাতিক ম্যারাথন সংস্থা এইমস (অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনস অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স রেসেস)-এর স্বীকৃত সদস্য হওয়ায় প্রতিযোগিতাটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করেছে।

২৫ কিলোমিটার পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন মামুন আহম্মেদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে ইমরান হাসান ও কে এম সাজিদুল ইসলাম। নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন হামিদা আক্তার জেবা। দ্বিতীয় হন নুসরাত জাহান এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন সায়তো রখথিত।

১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন পলাশ শেখ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন যথাক্রমে মো. আনোয়ার ও আশরাফুল আলম। নারী বিভাগে শিরোপা জেতেন পারুল দাস। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে খাদিজা চৌধুরী ও আয়েশা নায়ার।

শিশুদের ৩ কিলোমিটার বিভাগেও ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণ। ছেলে বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় অভি ইসলাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় যথাক্রমে ইমতিয়াজ ও ফারাবী। মেয়েদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় সামিহা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে নূর ওয়াফিয়া ও সুবহানা মাহদিয়া।

সমাপনী অনুষ্ঠানে টুরাগ অ্যাক্টিভের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর মোহাম্মদ নাঈম আখতার, চিফ অপারেটিং অফিসার আহম্মদ মনসুর রউফ, ঢাকা ২৫কের রেস ডিরেক্টর ও রান বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাজনান মোহাম্মদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী রানারদের অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাঈম আখতার বলেন, ম্যারাথন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রতীক। একটি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আহম্মদ মনসুর রউফ বলেন, ‘ঢাকা ২৫কে’ এখন রানারদের জন্য একটি প্রত্যাশিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারীই একজন বিজয়ী, কারণ একটি ম্যারাথন সম্পন্ন করতে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস।

ধানমণ্ডিতে বহুতল ভবন থেকে পড়ে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধানমণ্ডিতে বহুতল ভবন থেকে পড়ে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে মোছা. রিক্তা মনি (১১) নামের এক শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল আনুমানিক ৬টায় ধানমণ্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসার ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিক্তা সুনামগঞ্জ জেলার সালনা থানার নিজগাঁও গ্রামের দিনমজুর মো. শাহিন আলী ও মাজেদা বেগম দম্পতির মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, সকালে ওই বাসার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় রিক্তা। পরে আহত অবস্থায় রিক্তাকে উদ্ধার করে ধানমণ্ডির ১৫/এ নম্বর রোডের ইবনে সিনা স্পেশালাইজড অ্যান্ড কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ধানমণ্ডি থানা-পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বিকেল ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তবে রিক্তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহতের বাবা শাহিন আলী জানান, ঈদুল আজহার ১৫ দিন আগে এলাকার পরিচিত গাজীবুল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে চার হাজার টাকা বেতনে মেয়েটিকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন।

শাহিন আলী অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন আগে রিক্তা ফোন করে তার মায়ের কাছে কান্নাকাটি করেছিল, সে আর ওই বাসায় কাজ করবে না। গত শুক্রবারেও ভিডিও কলে কেঁদেছিল। আমরা মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে বাড়ির মালিক বলেন, গাজীবুলকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা ফেরত দিয়ে মেয়েকে নিয়ে যেতে হবে। আমরা টাকা দিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, আজ হঠাৎ সকালে ফোনে আমাদের জানানো হয় রিক্তার আমাশয় হয়েছে এবং সে খুব অসুস্থ। পরে এসে জানতে পারি সে নাকি ভবন থেকে পড়ে গেছে। আমার মেয়ে ভবন থেকে পড়ে যায়নি, তাকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে।

রাজধানীতে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বাড্ডা আফতাবনগর এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ ভবন থেকে নিচে পড়ে ইকবাল হোসেন (২০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইকবাল হোসেন যশোর জেলার মণিরামপুর থানার সালামপুর গ্রামের মোদাচ্ছের আলীর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন এবং আফতাবনগরের ওই নির্মীয়মাণ ভবনেই থাকতেন।

নিহতের সহকর্মী আব্দুল মালেক জানান, সকালে আফতাবনগরে একটি নির্মীয়মাণ ৯ তলা ভবনের ৮ তলা থেকে সাটারিংয়ের কাঠ নিয়ে ৯ তলায় উঠছিলেন ইকবাল। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

উদ্ধার করে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইকবালকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক শুভাশিস গাঙ্গুলি। তিনি জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

গুলিস্তানের আবাসিক হোটেলে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
গুলিস্তানের আবাসিক হোটেলে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু

রাজধানীর গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেলে আল আমিন (৪০) নামের এক সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ফেসবুকে পরিচয় হওয়া নারী বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর রাস্তা এলাকার মৃত ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। আর তার নারী বন্ধু বাগেরহাটের বাসিন্দা। ঢাকায় এলে দুজনের দেখা হয় গুলিস্তানে। ওঠেন হোটেল রমনার নবম তলার একটি রুমে। সেখানে তাদের কথাবার্তা হয়।

ওই নারী বন্ধু জানিয়েছেন, প্রায় ৬ মাস আগে ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয়। সেই থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায়ই কথা হতো তাদের মধ্যে। চলতি মাসের ১৩ জুন আল আমিন সৌদি থেকে দেশে আসেন। বৃহস্পতিবার কথা হয় তাদের মধ্যে। শুক্রবার সকালে তিনি বাগেরহাট থেকে গুলিস্তান আসেন।

তিনি বলেন, আল আমিন ওয়াশরুমে যায়। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি ভারী শব্দ শুনতে পাই। ভেতরে গিয়ে দেখি ওয়াশরুমের দরজা খোলা অবস্থায় আল আমিন মেঝেতে পড়ে আছেন। এটি দেখে চিৎকার দিলে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দুপুরে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতের ছোট ভাই রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তার বড় ভাই আল আমিন চলতি মাসের ১৩ তারিখ বাংলাদেশে আসেন। সৌদি থেকে কিছু মালামাল কাউকে দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। পরে সংবাদ পাই রমনা হোটেলের ওয়াশরুমে পড়ে মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেলে এসে তার মৃতদেহ দেখতে পাই।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পল্টন থানায় অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখবেন।

শাহবাগে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ১০ | কালের কণ্ঠ