রাজধানীর হাতিরঝিলে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের রানিং ইভেন্ট ‘টুরাগ অ্যাক্টিভ ঢাকা ২৫কে’। শুক্রবার ভোর ৪টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে ১৭টি দেশের প্রায় তিন হাজার রানার অংশ নেন।
স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান রান বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং টুরাগ অ্যাক্টিভের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি ২৫ কিলোমিটার, ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও ৩ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, দেশের রানিং কমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা এবং ফিটনেস সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন। আন্তর্জাতিক ম্যারাথন সংস্থা এইমস (অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনস অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স রেসেস)-এর স্বীকৃত সদস্য হওয়ায় প্রতিযোগিতাটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করেছে।
২৫ কিলোমিটার পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন মামুন আহম্মেদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে ইমরান হাসান ও কে এম সাজিদুল ইসলাম। নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন হামিদা আক্তার জেবা। দ্বিতীয় হন নুসরাত জাহান এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন সায়তো রখথিত।
১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন পলাশ শেখ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন যথাক্রমে মো. আনোয়ার ও আশরাফুল আলম। নারী বিভাগে শিরোপা জেতেন পারুল দাস। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে খাদিজা চৌধুরী ও আয়েশা নায়ার।
শিশুদের ৩ কিলোমিটার বিভাগেও ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণ। ছেলে বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় অভি ইসলাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় যথাক্রমে ইমতিয়াজ ও ফারাবী। মেয়েদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় সামিহা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে নূর ওয়াফিয়া ও সুবহানা মাহদিয়া।
সমাপনী অনুষ্ঠানে টুরাগ অ্যাক্টিভের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর মোহাম্মদ নাঈম আখতার, চিফ অপারেটিং অফিসার আহম্মদ মনসুর রউফ, ঢাকা ২৫কের রেস ডিরেক্টর ও রান বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাজনান মোহাম্মদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী রানারদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাঈম আখতার বলেন, ম্যারাথন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও সুস্থ জীবনযাপনের প্রতীক। একটি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আহম্মদ মনসুর রউফ বলেন, ‘ঢাকা ২৫কে’ এখন রানারদের জন্য একটি প্রত্যাশিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি অংশগ্রহণকারীই একজন বিজয়ী, কারণ একটি ম্যারাথন সম্পন্ন করতে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস।




