আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মাত্র ৩৫০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে, যা বাংলাদেশের কোনো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সাধারণত দেয় না। তারা যে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো দিচ্ছে, সেগুলোর দিকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকেই কেন্দ্র করা হচ্ছে।
জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে এ কথা বলেন একজন সচেতন নাগরিক।
তিনি বলেন, আমি আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে বন্ধ করার পক্ষে নই, আবার কোনো পক্ষপাতও করছি না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি বিষয়টিকে নিরপেক্ষভাবে দেখতে চাই। প্রশ্ন হলো, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে সেই অপরাধের দায় কি পুরো প্রতিষ্ঠান বহন করবে, নাকি যে ব্যক্তি অপরাধ করেছে তারই দায় হবে? নিশ্চয়ই দায় তারই।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে, এতে কি দেশের ক্ষতি হবে না প্রশ্ন রেখে ওই নাগরিক বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে না? কারা এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করছে, এর পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী চক্র আছে কি না, সেটাও সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।
শুধু আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যে পরিমাণ সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে, তার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এমন অবস্থায় একটি হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া জনগণের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।
তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিনের একটি সুপরিচিত ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। আমার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই, তবে যতটুকু জানি, তারা বহু বছর ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।
বিশেষ করে মাতৃসেবার ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রবণতা বেশি থাকলেও আদ্-দ্বীন হাসপাতালে প্রথম থেকেই স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া বা লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
আরেকটি বিষয় হলো, তারা মাত্র ৩৫০ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এসব ইতিবাচক দিক বিবেচনায় না এনে শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনাকে সামনে আনা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর যেকোনো হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে। কোনো শিশুর বা রোগীর মৃত্যু অবশ্যই অত্যন্ত দুঃখজনক, এবং যদি চিকিৎসায় অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অপর এক ভিডিওতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা বলেন, যদি সরকার মনে করে আদ্-দ্বীন ভালো হাসপাতাল নয়, তাহলে আগে আমাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে যে আদ্-দ্বীন যেসব সেবা আমাদের দিচ্ছে, সেগুলো সরকার নিজ দায়িত্বে দেবে। আমাদের শিশুদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং আদ্-দ্বীনের দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধার বিকল্প ব্যবস্থা করবে। যদি সরকার এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তাহলে আমরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা ছাড়া আমরা এক পাও নড়ব না।
আমার সন্তানের চিকিৎসা এখনো চলমান। গতকাল তার কফ পরীক্ষায় জীবাণু পাওয়া গেছে এবং সেই অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী এই ওষুধ ১৪ দিন চলবে। আজ মাত্র দ্বিতীয় দিন। এখন যদি আমাকে হাসপাতাল ছাড়তে বলা হয়, আমি আমার সন্তানকে কোথায় নিয়ে যাব?
অন্য হাসপাতালে গেলে কি আমি সঙ্গে সঙ্গে একটি বেড পাব? প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পাব? একই মানের চিকিৎসা পাব? এর কোনো নিশ্চয়তা কি সরকার দিয়েছে?
হঠাৎ করে একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে বলা হলো, ‘রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।’ কিন্তু সরকার কি আগে থেকেই বিকল্প হাসপাতাল, বেড, চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা করে রেখেছে? যদি না করে থাকে, তাহলে এতগুলো রোগীকে একসঙ্গে কোথায় পাঠানো হবে?
একজন বাড়িওয়ালাও ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে বললে অন্তত কিছু সময় দেয়, যেন সে নতুন বাসা খুঁজে নিতে পারে। অথচ এখানে আইসিইউতে ভর্তি রোগী আছে, পিআইসিইউতে ভর্তি শিশু আছে, অপারেশন থিয়েটারে ডেলিভারির জন্য রোগী আছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলা কতটা বাস্তবসম্মত?
মানুষের জীবন ও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা উচিত। আমরা চাই রোগীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং কোনো সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়।









