• ই-পেপার

খুলনায় এনা পরিবহনের কাউন্টার থেকে গলাকাটা অবস্থায় কলেজছাত্র উদ্ধার

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একে একে তিন বন্ধু পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী সাবিক আহমদ (১৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর দুই আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে  তারাও মারা যান।

নিহত সাকিব গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াবস্তি এলাকার মহরম মিয়ার ছেলে। অন্য দুজন হলেন একই উপজেলার ৮ম খ-এলাকার হবি মিয়ার ছেলে রায়হান (১৬) ও লাখেরপাড়া এলাকার রাজ্জাক মিয়ার ছেলে জয় (১৬)। তারা তিনজনই জাফলং আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের রাধানগর-বাউরভাগ চা বাগান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এই তিন কিশোর মোটরসাইকেলে করে রাধানগর বাউরভাগ চা বাগানের সড়ক দিয়ে রাধানগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাবিক নিহত হন। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রায়হানের মৃত্যু হয়। এরপর আহত জয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে তিনিও মারা যান।

সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর দুজন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

মুক্তিপণের বিনিময়ে এক সপ্তাহ পর ফিরলেন অপহৃত পল্লী চিকিৎসক

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
মুক্তিপণের বিনিময়ে এক সপ্তাহ পর ফিরলেন অপহৃত পল্লী চিকিৎসক
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্রধারীদের হাতে অপহৃত পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন (৬৫) এক সপ্তাহ পর মুক্তিপণের বিনিময়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন।

এর আগে গত রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় দিন-দুপুরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। অপহৃত কামাল মাস্টার ওই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে পল্লী চিকিৎসকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অপহরণকারীরা পাহাড় থেকে নেমে এলাকায় প্রবেশ করে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে কামালকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। বাধা দিতে গেলে অপহরণকারীরা আরো কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণের এক সপ্তাহ পর কামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের মাধ্যমে জেনেছি অপহৃত কামাল মাস্টার ফিরে এসেছেন। কীভাবে তিনি ছাড়া পেয়েছেন, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং অপহরণকারী চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

কেরানীগঞ্জে দর্জিকে মারধর, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে দর্জিকে মারধর, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বিএনপি নেতা গাজী জাহাঙ্গীরের ছেলের বিরুদ্ধে আজগর আলী নামের এক দর্জিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা হামলায় গুরুতর আহত দর্জি আজগর আলীকে উদ্ধার করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ শেষে আজগর আলী বাসায় ফেরার জন্য আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় উঠতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য গাজী জাহাঙ্গীরের ছেলে গাজী সায়মনের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় আজগর আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতের বড় ভাই আবু অভিযোগ করে বলেন, গাজী সায়মনের নেতৃত্বে কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার ভাইকে গুরুতর আহত করে। হামলার পর থানায় অভিযোগ করলে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা গাজী জাহাঙ্গীর বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে সে কাউকে মারধর করেছে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে পরে আপনাকে জানাচ্ছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি ভিকটিম মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া চেম্বার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত বাদল-হিরু প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়া চেম্বার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত বাদল-হিরু প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়
ছবি: কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ দেড় যুগ পর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক (২০২৬-২৮) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ‘বাদল-হিরু প্যানেল’ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। সভাপতি ও সহসভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সব কটি পদেই এই প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ ভোটগ্রহণ চলে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চেম্বারের মোট ১ হাজার ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৯৩০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট কাস্টের হার ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জটিলতা ছাড়াই ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।

সর্বশেষ ২০০৭ সালে বগুড়া চেম্বারের সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বিনা ভোট বা সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই ভোটের আয়োজন করা হয়।

ভোট গণনা শেষে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাদল-হিরু প্যানেলের আতিকুর রহমান বাদল। ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬৯৬ ভোট। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সেলিম-এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. সেলিম রেজা ‘ছাতা’ প্রতীকে পেয়েছেন ২২৭ ভোট। নির্বাচনে ৬টি ভোট বাতিল হয়েছে।

সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বাদল-হিরু প্যানেলের মো. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। ‘আনারস’ মার্কায় তিনি সর্বোচ্চ ৭২৬ ভোট পেয়েছেন। সহসভাপতি পদের অন্য বিজয়ী মো. মামদুদুর রহমান শিপন ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯১ ভোট।

কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক পদের ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে বাদল-হিরু প্যানেলের বিজয়ী ৯ জন পরিচালক ও তাদের প্রাপ্ত ভোট হলো শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস (ফুটবল- ৫৯৬), খন্দকার মেজবাহুল হক রন্টু (দোয়েল পাখি- ৬১২), মো. আজিজার রহমান মিল্টন (উড়োজাহাজ- ৫৭৯), শাহিনুর ইসলাম সবুজ (কাপ-পিরিচ- ৫৬৯), এস এম নূর-ই আলম সিদ্দিকী পল্লব (হরিণ- ৫৫৭), মো. রাসেদুল ইসলাম (মই- ৫৫৩), মো. শফিকুল ইসলাম খোকন (দোয়াত কলম- ৫৩২), শামসুল হক বেনু (চেয়ার- ৫১২) এবং মো. মতিউর রহমান (চশমা- ৪৬৬)।

এর আগে সকালে শহীদ টিটু মিলনায়তন চত্বরে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ দেখা যায়। ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট দেন। এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১২টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাঁদের পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিয়েছেন।