• ই-পেপার

জয়পুরহাটে ৩০ প্রতিবন্ধীর হাতে হুইলচেয়ার তুলে দিলেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ভালুকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা, এলাকায় আতঙ্ক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা, এলাকায় আতঙ্ক
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানাকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কারখানাটির ঝুট ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার সকালে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোর্শেদ আলমের মালিকানাধীন এইচআরকেএম এন্টারপ্রাইজ কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল বের করতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চান। তবে কালার মাস্টার কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।

মোর্শেদ আলম দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে এবং তাঁদের অধিকাংশ জমিতে এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচআরকেএম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে প্রায় ২২ বছর ধরে কারখানার ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনের পর থেকে প্রতিপক্ষ তাঁর ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছে। একই ধারাবাহিকতায় শনিবারও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তিনি কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল বের করতে পারেননি।

অন্যদিকে খোকা মিয়া বলেন, আগে মোর্শেদ আলমের নামে ওয়ার্ক অর্ডার থাকলেও বর্তমানে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেএএস আর এন্টারপ্রাইজের নামে কারখানার ঝুট ব্যবসার ওয়ার্ক অর্ডার রয়েছে। সেই অনুযায়ী গেটপাস নিয়ে তাঁরা মালামাল বের করছেন।

শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সকালে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১০ হাজারে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে গাছ রাঙালেন ভক্ত

অনলাইন ডেস্ক
১০ হাজারে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে গাছ রাঙালেন ভক্ত
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে দীর্ঘ পতাকা বানানো, শত শত কিলোমিটার ভ্রমণ কিংবা ব্যতিক্রমী সাজসজ্জার মতো ভক্তদের নানা কাণ্ড প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। এবার আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে একটি বটগাছ রাঙানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গাছটি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙানোর কারণ জানতে চাইলে ভক্ত বলেন, ২০২২ সালে সাজিয়েছিলাম। এবার ২০২৬ সালে খেলা। এবারও সাজিয়েছি আমরা। সবাই মিলে এটা করেছি। যুবক-মুরুব্বি মিলে এটা করেছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গাছটিকে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে সাজাতে তাদের প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছাড়লেন সমর্থক

মাদারীপুর প্রতিনিধি
দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছাড়লেন সমর্থক
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরের শিবচরে ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছাড়লেন রবিন চৌধুরী নামের এক সমর্থক। যোগ দিলেন ইরানে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন তিনি।

রবিন চৌধুরী জানান, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি প্রতীকীভাবে এ কর্মসূচি পালন করেছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের ইসরায়েলপন্থী অবস্থান তিনি মেনে নিতে পারেননি। সে কারণেই দীর্ঘদিনের সমর্থিত দল ছেড়ে ইরানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে রবিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলাম। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা ও গণহত্যার পরও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছেন। একজন মুসলমান হিসেবে আমি এটি মেনে নিতে পারিনি। তাই আজ থেকে আমি ইরান ফুটবল দলের সমর্থক। দুধ দিয়ে গোসল করে আজীবনের জন্য আর্জেন্টিনাকে বিদায় দিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামকে যারা আঘাত করে, তাদের দলকে আমরা সমর্থন করতে পারি না।’

রবিন চৌধুরীর এ ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত মতামত ও সমর্থনের স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

লাকসামে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তদন্তে পুলিশ

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তদন্তে পুলিশ
রোকসানা আক্তার সুমাইয়া

কুমিল্লার লাকসামে রোকসানা আক্তার সুমাইয়া (১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (৪ জুলাই) স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহত সুমাইয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোজপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও কহিনূর আক্তার দম্পতির মেয়ে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে লাকসাম থানা পুলিশ ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে এবং আজ শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের শেষে বিকেলে নিহতের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়াজ মরদেহ উদ্ধার এবং ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ওই তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। অনেকের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন এটি কি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা? এই নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই তরুণীর বাবা সাইফুল ইসলাম দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রী কহিনূর আক্তার (সুমাইয়ার মা) অভিমানে উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের বাটিয়াভিটা গ্রামে বাবার বাড়ি চলে যান। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। তাদের মায়ের সঙ্গে সন্তানদের যোগাযোগ সাইফুল ইসলাম মেনে নিতেন না। যোগাযোগ করলে বকাঝকা দিতেন।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, ঘটনার দিন মেয়ে সুমাইয়া নানার বাড়িতে যাওয়া এবং মায়ের সঙ্গে দেখা করায় সাইফুল ইসলাম তার মেয়ে সুমাইয়াকে মারধর এবং খুব বকাঝকা করেন। এই অভিমানে সুমাইয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তারা ধারণা করছেন।

এ ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, নিহত ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।