ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানাকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কারখানাটির ঝুট ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শনিবার সকালে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোর্শেদ আলমের মালিকানাধীন এইচআরকেএম এন্টারপ্রাইজ কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল বের করতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চান। তবে কালার মাস্টার কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
মোর্শেদ আলম দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে এবং তাঁদের অধিকাংশ জমিতে এসকিউ গ্রুপের কালার মাস্টার কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইচআরকেএম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে প্রায় ২২ বছর ধরে কারখানার ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনের পর থেকে প্রতিপক্ষ তাঁর ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছে। একই ধারাবাহিকতায় শনিবারও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তিনি কারখানা থেকে ঝুটের মালামাল বের করতে পারেননি।
অন্যদিকে খোকা মিয়া বলেন, আগে মোর্শেদ আলমের নামে ওয়ার্ক অর্ডার থাকলেও বর্তমানে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেএএস আর এন্টারপ্রাইজের নামে কারখানার ঝুট ব্যবসার ওয়ার্ক অর্ডার রয়েছে। সেই অনুযায়ী গেটপাস নিয়ে তাঁরা মালামাল বের করছেন।
শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সকালে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




