• ই-পেপার

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৪ বছর পর তিসার উপবৃত্তির টাকা ফেরত দিলেন প্রধান শিক্ষক

রুপগঞ্জে এমপির উদ্যোেগে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু

রাসেল আহমেদ, রূপগঞ্জ
রুপগঞ্জে এমপির উদ্যোেগে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু
সংগৃহীত ছবি


​রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছেন সম্পূর্ণ ফ্রি বাস সার্ভিস। যখন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের মুহূর্তে যাতায়াত নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছিল, তখন এমপি দিপু ভূইয়া তাদের জন্য হয়ে উঠেছেন এক অভয়দাতা অভিভাবক। তার এই ভালোবাসাভরা উদ্যোগ কেবল যাতায়াতের বিড়ম্বনাই দূর করেনি, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে বুনে দিয়েছে সাফল্যের অদম্য সাহস।

পরীক্ষার প্রস্তুতির এই সময়ে যখন প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান, তখন রূপগঞ্জের ব্যস্ত সড়কে গণপরিবহনের অনিশ্চয়তা আর অমানবিক যানজট অনেক শিক্ষার্থীর মেধাকে পিষে মারছিল। হাজারো স্বপ্ন নিয়ে যারা কলেজের পথে পা বাড়ায়, তাদের সেই ক্লান্ত মুখগুলো এমপি দিপু ভূইয়ার হৃদয়ে স্পর্শ করায় তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এই উদ্যোগ যেন এক শুষ্ক মরূদ্যানের বুকে নেমে আসা শীতল বৃষ্টির ধারা— প্রতিদিন সকালে যখন বাসগুলো শিক্ষার্থীদের তুলে নেয়, তখন সেটি কেবল একটি যানবাহন নয়, হয়ে ওঠে এক নিরাপদ নীড়।


​পরীক্ষার্থী জারিফ হোসেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, ‘পরীক্ষার আগের এই দিনগুলোতে বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাটা ছিল এক বড় আতঙ্ক। এমপি স্যার আমাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন। এখন বাসে বসার পর মনে হবে, অভিভাবক হিসেবে স্যার আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস জোগাচ্ছেন।’ ​

কেয়া সুলতানা নামে আরেক শিক্ষার্থী জানায়, ‘দিপু স্যারের বাসে চড়া মানেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি। জানালার পাশে বসে যখন বাইরের দৃশ্য দেখবো, তখন মনে হবে আমাদের প্রতিটি লড়াইয়ে স্যার সঙ্গে আছেন। বাসের ভেতরে আমরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেব, তখন মনে হবে আমরা একে অপরের অনুপ্রেরণা।’


​সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘মা হিসেবে সন্তানের নিরাপত্তার চেয়ে বড় আর কী থাকতে পারে? এমপি দিপু ভূইয়া আজ আমাদের কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি আমাদের সন্তানদের বিপদের বন্ধু। এই মানুষের কল্যাণকামী হৃদয়ের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’

​মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর এই জনহিতকর কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, রাজনীতি মানেই ক্ষমতার দাপট নয়— রাজনীতি মানে মানুষের হৃদয়ের খুব কাছে গিয়ে ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতিটি স্বপ্নকে নিজের করে নিয়েছেন। তার এই স্নেহের ছায়ায় আজ মুড়াপাড়া কলেজের পরীক্ষার্থীরা নির্ভয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, চোখে তাদের আগামীর উজ্জ্বল আকাশ। দিপু ভূইয়ার এই মমতা রূপগঞ্জের মাটিকে করেছে ঋণী, আর শিক্ষার্থীদের করেছে আজন্ম কৃতজ্ঞ।

নিখোঁজের পর মর্মান্তিক পরিণতি, আর ফিরলেন না পারভেজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
নিখোঁজের পর মর্মান্তিক পরিণতি, আর ফিরলেন না পারভেজ
মো. পারভেজ

রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নিখোঁজ হওয়া রোগী মো. পারভেজ (৪৭) মারা গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সমবেদনা জানানো হয়েছে। পারভেজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মামা শহীদুল্লাহ আহমদ।

মৃত পারভেজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় কৃষক ছিলেন। তিনি চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

শহিদুল্লাহ আহম্মদ জানান, পারভেজকে ১১ জুন ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২০ জুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তাকে নিচে রেখে ফাইল নিয়ে আমি উপর তলায় যাই। এরপর এসে তাকে আর পাইনি। গলায় ক্যান্সারের কারণে সে কথা বলতে পারতো না। ৫ দিন সেখানে অপেক্ষা করেও তাকে খুঁজে পাইনি। পরে তার সন্ধানে ২১ জুন বনানী থানায় জিডি করেছি। বুধবার (১ জুলাই) তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া যায়।

হুইপের পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাস সূত্র জানায়, পারভেজের সংসারে স্ত্রী ৩ মেয়ে ও ৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারভেজের রোগ ও অর্থাভাবের কথা জানতে পেরে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান তার চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। চিকিৎসা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে হুইপের অধীনস্থ একজন সহকর্মীকেও ট্যাগ করে রাখা হয়। চিকিৎসাও চলছিল।

স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করা হয়, যেদিন পারভেজকে কেমোথেরাপি দেওয়া হবে সেদিন কোনো এক অজানা কারণে (কেমোথেরাপির কষ্টের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে) কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর হাসপাতাল বা আশেপাশে পাওয়া যায়নি। অবশেষ তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া গেছে। মরণব্যাধি ক্যান্সার তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় হুইপ বনানী থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে হুইপের লোকজন অ্যাম্বুলেন্স করে তার মরদেহ নিয়ে যায় কমলনগরের চরবসু গ্রামে।

পারভেজের প্রতিবেশী লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী রিদোয়ান হোসেন ফয়সাল বলেন, রাজধানীর আফতাবনগর গেটের সামনে পারভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে লোকজন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। গলায় ক্যান্সার হওয়ার কারণে তিনি খেতে পারতো না এবং কথা বলতেও পারতো না। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। রাতেই তার মরদেহ দাফন করা হবে।

শেষ রক্ষা হলো না, ঢাকায় গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার মামলার আসামি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
শেষ রক্ষা হলো না, ঢাকায় গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার মামলার আসামি
প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি প্রতারণা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলার আসামি শিমুল হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। শিমুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আজাইপুর মাঝপাড়া মহল্লার সাজিমুল হকের ছেলে। সন্ধ্যায় তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানান, শিমুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযাগে ৩টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী ও পুরুষের আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে শিমুলের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৪টি মামলার তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। 

মোমবাতির আলোয় গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করল ছাত্রদল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মোমবাতির আলোয় গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করল ছাত্রদল
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে বুধবার (১ জুলাই) রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে একাত্ম প্রকাশ করে এনসিপি ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ আজিজি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।