• ই-পেপার

নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন

কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি : এমপি মশিউর

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি : এমপি মশিউর
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খান।

বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খান বলেছেন, কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। টেকসই ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি কৃষি সহায়তা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একসময় এ দেশের মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগত এবং অনেকেরই তিন বেলা খাবার জুটত না। সে সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইরি ধান চাষে গুরুত্ব দেন। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিকে পুষ্টিনির্ভর, টেকসই ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন এবং খুলনা অঞ্চল পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মো. হেদায়েত উল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায়, কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ।

নীলফামারীতে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনাসভা

নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীতে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনাসভা
ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নীলফামারীতে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোহসিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুঝাত তাসনীম আওন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা প্রধান হক বাচ্চু। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কালচারাল অফিসার নুঝাত তাবাচ্ছুম রিম।

সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চিরন্তন প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিকে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোচনাসভা শেষে নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাসনিম ফৌজিয়া ওপেল, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক আসলাম হায়াত মিল্টনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জে পলাশ হত্যা মামলায় ২ আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে পলাশ হত্যা মামলায় ২ আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি
ছবি : কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলোচিত পলাশ প্রামাণিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হৃদয় শেখ (২০) এবং কালিয়া হরিপুর গ্রামের দেলবার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৩১)। নিহত পলাশ প্রামানিক (২৫) কামারখন্দ উপজেলার বড়পাকুরিয়া গ্রামের পাশান প্রামাণিকের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ জানান, গত ১২ জুন রাতে ধার করা টাকা নিয়ে কালিয়া হরিপুর গ্রামে জুয়েল শেখের বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক বসে। এক পর্যায়ে জুয়েল ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন ভোরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা পাশান প্রামাণিক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এসআই সোহাগ জানান, ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র‌্যাবের সহায়তায় ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা মনজেলা খাতুনকে ২৯ জুন এবং প্রধান দুই আসামি হৃদয় ও জুয়েলকে ৩০ জুন জয়পুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে হৃদয় ও জুয়েল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

গ্রেপ্তার ছয় আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী নীলডুমুর ঘাটে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশনের উদ্যোগে লবণসহনশীল ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’ গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে ২ হাজার ১৫টি পরিবারকে নিয়ে ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রকল্পের এক হাজার সদস্যের মধ্যে তিনটি করে লবণসহনশীল ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, গাবুরা এলাকায় কদবেল, তাল ও তেঁতুল গাছের চারা রোপণ করলে মাটি ক্ষয়রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর। বেশি বেশি পরিবেশবান্ধব গাছ রোপণের আহ্বান জানান তিনি।

শ্যামনগর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, একটি গাছ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। একটি শিশুকে যেমন যত্ন নিয়ে বড় করতে হয়, তেমনি একটি গাছও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় হয়ে ওঠে। লবণসহনশীল ও পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ায়র জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন ফেইথ ইন অ্যাকশেনর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈ, এমঅ্যান্ডই কর্মকর্তা প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস  ও প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য এবং কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটররা। অনুষ্ঠানে এক হাজার উপকারভোগীর মধ্যে এক হাজার তাল, এক হাজার কদবেল এবং এক হাজার তেঁতুল গাছের চারা বিতরণ করা হয়।