• ই-পেপার

নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুর থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার

মিরসরাইয়ে ১৯টি ভারতীয় গরু ও দুই পিকআপ জব্দ, আটক ৪

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ১৯টি ভারতীয় গরু ও দুই পিকআপ জব্দ, আটক ৪

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় পুলিশের অভিযানে চোরাচালানকালে ১৯টি ভারতীয় গরু ও দুটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোরাচালানের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের নয়াটিলা মাজার সংলগ্ন গামারী বাগানের সামনে পাকা সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটকরা হলেন মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক (৬৫) ও নজরুল ইসলাম (২২), ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়চাঁদপুর গ্রামের মো. আরিফ (২৭) এবং একই উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর সতের (চাঁদগাজী) এলাকার রাসেল ওরফে আলম (৩৫)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি পিকআপে পরিবহন করা ১৯টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। জব্দ করা গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে যেকোনো ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ঢোরবোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ (৮০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি গতকাল সোমবার রাত দেড়টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢোরবোনা গ্রামের গোরস্তান প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর জানাজা শেষে ওই গোরস্তানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। 

আব্দুস সামাদ শিবগঞ্জের উজিরপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের মৃত নজর আলী মন্ডলের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছয় ছেলেসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিবগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ, শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র ভৌমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল আলম, আব্দুল মতিন, শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিজানসহ স্থানীয়রা।

তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগে ২ গ্রামের মানুষ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগে ২ গ্রামের মানুষ
তালতলীতে ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তা কেটে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ায় এলাকাবাসীর প্রতিবাদ।

বরগুনার তালতলীতে ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তা কেটে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাবুল দফাদার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে দুর্ভোগে পড়ছে দুই গ্রামের দেড় হাজার মানুষ। উপজেলার মৌরভী গ্রামের বাবুল দফাদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বাবুল একই এলাকার তৈয়বুর রহমান দফাদারের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা কেটে ফেলায় মৌরভী ও মোয়াপাড়া গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের স্বাভাবিক চলাচল। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয়রা জানান, মৌরভী গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মক্তব এবং মোয়াপাড়া গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুবাহানপাড়া গ্রামে একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে আসছেন।

ভুক্তভোগী আব্দুস সোবাহান, নবী হোসেন, হুমায়রা বেগম ও আসমা বেগম বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। রাস্তা কেটে ফেলায় আমাদের চলাচলে যেমন বিঘ্ন হচ্ছে তেমনি বাচ্চাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

মাওলানা এবাদুল হক বলেন, ‘মৌরভী ও মোয়াপাড়া গ্রামের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই রাস্তাটি। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন কাজে যেতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে।’

উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া-মৌরভী সংযোগ ব্রিজ থেকে মৌরভী দফাদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৮ জুন রবিবার রাতে বাবুল দফাদার তার লোকজন নিয়ে বাড়ির সামনের মসজিদ থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা কেটে কৃষিজমির সঙ্গে মিশিয়ে দেন। ওই ঘটনার পর স্থানীয় মজিবুর রহমান তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের বিষয়টি দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য ৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চুর কাছে পাঠান।

এদিকে সোমবার (২৯ জুন) রাস্তা কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে দুই গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়ে রাস্তা কাটায়  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দার বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ দিয়ে রাস্তাটির মাটির সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বাবুল দফাদার গং ক্ষমতার দাপটে তাদের বাড়ির সামনের প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা কেটে ফেলেছে। এতে দুই গ্রামের দশ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।’

নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে বাবুল দফাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি যদি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে করা হয়ে থাকে, তাহলে সিপিসি হিসেবে ইউপি সদস্যকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর যমুনায় বিলীন চকরতিনাথ স্কুলের পাশে উপজেলা প্রশাসন

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, বগুড়া
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর যমুনায় বিলীন চকরতিনাথ স্কুলের পাশে উপজেলা প্রশাসন
ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া শতবর্ষী চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়টির নতুন স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের আশ্বাস দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।

এর আগে গত ২২ জুন ‘কালের কণ্ঠ’ ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার এবং ২৪ জুন ‘কালের কণ্ঠ’ মাল্টিমিডিয়ায় ‘যমুনার ভাঙনে বিলীন চকরতিনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়, সড়কের পাশে চলছে পাঠদান’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজর কাড়ে প্রশাসনের।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ‘নদীভাঙনের শিকার স্কুলটির পাঠদান সাময়িকভাবে বাঁধের ওপর চলছে। আমরা আজ স্কুলটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য নতুন জমি পরিদর্শন করেছি। তবে চরের ওই প্রস্তাবিত জায়গাটি কিছুটা নিচু এবং নদীর একদম কাছাকাছি হওয়ায় একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে উপযুক্ত নিরাপদ জায়গা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিন্নাহ আলম কালের কণ্ঠের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কালের কণ্ঠকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের মাধ্যমে সংবাদটি গণমাধ্যমে আসার পর আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার স্কুল ভিজিট করেছেন এবং অতি দ্রুত সরকারি বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। আজ ইউএনও এসে বিদ্যালয়টি নতুন করে স্থাপনের জন্য পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) মাটি ভরাটের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং নগদ ২০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেছেন। এর ফলে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার একটা স্থায়ী সুব্যবস্থা হবে বলে আমরা আশা করছি।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি গত ১৬ মে ষষ্ঠবারের মতো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে চরের সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী টিনের চালার নিচে অত্যন্ত কষ্টকর পরিবেশে দুই শিফটে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষকেরা।