• ই-পেপার

নাটোর

চেম্বারে কাজ করার সময় অ্যাডভোকেটের ওপর হামলা, আটক ১

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ
শরিয়াহ ভিত্তিক ৫টি ইসলামী ব্যাংকের আমানত সুরক্ষা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে চট্টগ্রামে আমানতকারীদের বিক্ষোভ মিছিল।

শরিয়াহ ভিত্তিক ৫টি ইসলামী ব্যাংকের আমানত সুরক্ষা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে সম্মিলিত ‘পাঁচ ইসলামিক ব্যাংক ডিপোজিটরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচির পালন করা হয়।

এদিন সকাল থেকে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে সমবেত হতে থাকেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অভিমুখে রওনা হয়। মিছিল শেষে আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক (পরিদর্শন) নুরুল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ (টাকা কর্তন) প্রত্যাহার, ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকে রক্ষিত আমানতের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (পরিদর্শন) নুরুল আলমের আমানতকারীদের দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠানোর আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রতিনিধি দল পুনরায় নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত একটি মিছিল নিয়ে আসে এবং সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম,অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দিন আজাদ এবং সহ-সভাপতি শারমিন আক্তার। তারা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছি। তবে আগামীতে যদি আমাদের এই ন্যায্য দাবির পক্ষে কোনো ইতিবাচক ও ভালো ফলাফল না আসে, তবে পরবর্তীতে আরো কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

গোয়ালন্দে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ এক শ্রমিকের মৃত্যু

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
গোয়ালন্দে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ এক শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের একটি বিটুমিন কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শ্রমিকের একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম সোহেল রানা (২৪)। এ ঘটনায় আহত অপর শ্রমিক শাওন (১৬) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল রানার মৃত্যু হয়। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সামসুদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোয়ালন্দ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত ‘ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি’ নামের একটি বিটুমিন তৈরির কারখানায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে হঠাৎ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কারখানায় কর্মরত সোহেল রানা ও শাওন দগ্ধ হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় একই দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

আহত শাওন গোয়ালন্দ উপজেলার মৌলভীবাজার গ্রামের চুন্নু মিয়ার ছেলে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শ্রমিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল রানা মারা গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা শেষে দীপু মনি ফের মুন্সীগঞ্জ কারাগারে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা শেষে দীপু মনি ফের মুন্সীগঞ্জ কারাগারে
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ফের  মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনিকে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার দুপুরের দিকে তাঁকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর আগে সোমবার ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, প্রায় ৫ মাস আগে দীপু মনিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আনা হয়। তিনি আগে থেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছিলেন। রবিবার রাত থেকে অসুস্থ বোধ করায় সোমবার ভোরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করতে হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দুপুরের দিকে তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়। দুপুর ১টার দিকে তিনি কারাগারে পৌঁছান।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, দীপু মনি কিডনিসংক্রান্ত সমস্যাতেও ভুগছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। সকাল ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হন দীপু মনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

ভাঙ্গায় সংঘর্ষ : পুলিশের মামলায় ৭৫০ জন আসামি, গ্রেপ্তার ১০

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় সংঘর্ষ : পুলিশের মামলায় ৭৫০ জন আসামি, গ্রেপ্তার ১০
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ২৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। সংঘর্ষ চলাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দা এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় আধিপত্য, বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, তিনজন উপ-পরিদর্শক, কয়েকজন পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, দায়িত্বরত সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দাঙ্গার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ২৫০ জনকে শনাক্ত করে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।