• ই-পেপার

মায়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্টবোঝাই ২ বোট জব্দ, আটক ২১

শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই উঠছে সাকার ফিশ, বিপাকে জেলেরা

রিপন আনসারী, গাজীপুর
শীতলক্ষ্যায় জাল ফেললেই উঠছে সাকার ফিশ, বিপাকে জেলেরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে দেশীয় মাছের পরিবর্তে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির ‘সাকার ফিশ’। বাণিজ্যিক মূল্যহীন ও খাওয়ার অনুপযোগী এই মাছের আধিক্যে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। একই সঙ্গে দেশীয় মাছ ও নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য বিভাগ।

শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে সাকার ফিশ। মাছটির শরীরে থাকা ধারালো কাঁটার কারণে জেলেরা অনেক সময় আহতও হচ্ছেন। বাজারে এর কোনো চাহিদা না থাকায় মাছগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত হওয়ায় দেশীয় মাছের সংখ্যা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে সাকার ফিশের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর জেলে রাম চন্দ বলেন, ‘আগের মতো দেশীয় মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন জালে ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। এই মাছ কেউ কিনতেও চায় না।’

ভাদার্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, ‘সাকার ফিশ দেশীয় মাছের ডিম ও ছোট মাছ খেয়ে ফেলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যায় দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, ‘সাকার ফিশ একটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির মাছ। এটি জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দেশীয় মাছের খাদ্য ও প্রজননের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ মাছ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।’

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধ এবং আগ্রাসী সাকার ফিশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদীর দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য আরও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় মেয়ের নাম, নড়াইলে সমালোচনা

নড়াইল প্রতিনিধি
এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় মেয়ের নাম, নড়াইলে সমালোচনা
সংগৃহীত ছবি

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের হিসাব শাখা থেকে গত ১৪ জুন জারি করা এক চিঠিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় ‘ফাইজা’ নামে দুই স্থানে নাম রয়েছে। একটিতে পিতার নাম হিসেবে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুটি নামই সংসদ সদস্যের মেয়ের।

নথি অনুযায়ী, নড়াইল সদর উপজেলার জন্য প্রণীত তালিকায় ২১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্যের নিজ গ্রাম থেকে ৯ জন এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির ইউনিয়ন লাহুড়িয়া থেকে ৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, অতীতে তাঁর ঐচ্ছিক তহবিলে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও চলতি অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

তিনি দাবি করেন, হঠাৎ করেই তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাঁকে তালিকা জমা দেওয়ার কথা জানালে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার স্বাক্ষর করা প্যাডে পিএস তালিকা তৈরি করেছে। বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আমার সন্তানের নামে টাকা নিতে চাই না। নতুন একটি তালিকা করেছি, সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান দিতে বলেছি।’

তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবীর বলেন, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে যে তালিকা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী সেই তালিকার বাইরে কাউকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই অনুদান দিতে হবে। তালিকার বাইরে নতুন কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত ব্যক্তি অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।’

জাবির সপ্তম সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

জাবি প্রতিনিধি
জাবির সপ্তম সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বহুল প্রতীক্ষিত ৭ম সমাবর্তন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে উপাচার্যের ভাষণে তিনি এ তথ্য জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আমি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ম সমাবর্তনের আয়োজন করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।’

এর আগে গত বছর অনুষ্ঠিত ৪২তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ম সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এবার সেই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা হয়েছে।

কাপড়ের দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে ৩ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কাপড়ের দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে ৩ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একটি কাপড়ের দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের রুস্তমহাট এলাকার জে আর রহমান মার্কেটের বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকানের মালিক আবদুর রহিম (৫১) বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি জানান, শনিবার সকালে এসে দোকানের ভাঙা জানালা এবং ভেতরের অংশ অস্বাভাবিক দেখতে পান। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান রাতে এক ব্যক্তি গোপনে দোকানে প্রবেশ করে ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’