গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে দেশীয় মাছের পরিবর্তে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির ‘সাকার ফিশ’। বাণিজ্যিক মূল্যহীন ও খাওয়ার অনুপযোগী এই মাছের আধিক্যে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। একই সঙ্গে দেশীয় মাছ ও নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য বিভাগ।
শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিন শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে সাকার ফিশ। মাছটির শরীরে থাকা ধারালো কাঁটার কারণে জেলেরা অনেক সময় আহতও হচ্ছেন। বাজারে এর কোনো চাহিদা না থাকায় মাছগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানার বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত হওয়ায় দেশীয় মাছের সংখ্যা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে সাকার ফিশের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
শীতলক্ষ্যা নদীর জেলে রাম চন্দ বলেন, ‘আগের মতো দেশীয় মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন জালে ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। এই মাছ কেউ কিনতেও চায় না।’
ভাদার্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, ‘সাকার ফিশ দেশীয় মাছের ডিম ও ছোট মাছ খেয়ে ফেলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যায় দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, ‘সাকার ফিশ একটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির মাছ। এটি জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দেশীয় মাছের খাদ্য ও প্রজননের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ মাছ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।’
স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধ এবং আগ্রাসী সাকার ফিশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদীর দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য আরো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।




