গাজীপুরের কালিয়াকৈরে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিদুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে গ্রাহকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মৌচাক এলাকায় পল্লীবিদ্যুতের মৌচাক জোনাল অফিসে গ্রাহকরা ওই বিক্ষোভ মিছিলসহ অফিস ঘেরাও করে।
এলাকাবাসী জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। এতে করে বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা লোডশেডিংয়ের কারণে দেখতে সমস্যা হচ্ছে। একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিলের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে গ্রাকদের। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে বারবার বলেও কোনো প্রতিকার পায়নি গ্রাহকরা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাহকরা ক্ষিপ্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে পল্লীবিদ্যুতের মৌচাক জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ সময় বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম, সিরাজুল ইসলাম, সোহেল আহমেদ, ইমরান বাদশা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে আমরা বিদ্যুত পাই না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ আসে, তা-ও আবার ১০ মিনিটের জন্য। বাসাবাড়িতে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা। তা ছাড়া অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিক তারা ডিউটি শেষ করে ঠিকমতো ঘুমাতে বা বিশ্রাম নিতে পারে না। খবর পয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মৌচাক জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল আজাদ বলেন, সকালে শতাধিক গ্রাহক লোডশেডিং কারণ জানতে অফিসে আসে। পরে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। তারা অফিস ঘেরাও করেনি। লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চেয়েছে। চাহিদা কম থাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। চাহিদা পর্যাপ্ত থাকলে লোডশেডিং হতো না।
মৌচাক পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ শামীম আক্তার বলেন, ‘গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মৌচাক পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে এসে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টার আশ্বাস দিলে গ্রাহকরা ফিরে যায়।’