পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের কম্পিউটারে কাজ করে সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা। মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ঝাড়ুদারের চাকরী করে গ্রামে করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। হাসানের গ্রামের বাড়ি আতাইকুলা বাজার এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামে গেলে তার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা বিলাসবহুল সেই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করছে হাসান আলী খাঁ নামে এক যুবক। আতাইকুলা ইউনিয়নের মাধপুর আমেনা খাতুন ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচ.এস.সি পাস করা হাসান চাকরি করেন ঝাড়ুদার পদে।
আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে তিনি ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় চাকরির প্রথম থেকেই ঝাড়দারের পাশাপাশি অফিস সহায়কের কাজ করছেন হাসান। কাজের সুবাধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসানের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগি মো. নবী বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর আগে অস্থায়ী পদ ঝাড়ুদার হিসাবে হাসান আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পরপরই এই চতুর হাসান ভূমি অফিসের অফিসার দাবি করে অফিস সহায়কের কম্পিউটারে বসে নোটিশসহ বিভিন্ন অনলাইন আবেদনের কাজ করে আসছে। ওই অঞ্চলের সেবা গ্রহীতারা সাধারণ বেশিরভাগ কৃষক। সাধারণ কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে জমির কাগজপত্র বিভিন্ন ভুল আছে ভয় দেখিয়ে খারিজ খাজনা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন।’
তিনি আরো জানান, সরকারি ‘ক’ তফিল ও ‘খ’ তফিল বর্ণিত সম্পত্তিগুলো কৃষকের নিজ নামে করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে নিলেও সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে কোন টাকা জমা না দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন। হাসানের কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে আরো এক ভুক্তভোগী আতাইকুলার শরিফুল ইসলাম জানান, আমার বাবা ও মায়ের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির খাজনা না দেওয়ার কারণে খাস খতিয়ানে চলে যায়। এলাকার কিছু চতুর ব্যক্তি খাস খসিয়ান দেখে লিজ নেওয়ার আবেদন করে। আমি উপায়ান্তর না দেখে ভূমি অফিসে গিয়ে হাসানের সঙ্গে পরিচয় হয় হাসান বলে আপনাকে খাস আদায় কারি হিসাবে আদেশ নিয়ে দেব। আপনি আমাকে ১ লাখ টাকা দিবেন। দেন দরবার শেষে ৬৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়ে হাসান কে টাকা দেই। হাসান উক্ত টাকার কোন রশিদ আমাকে দেয়নি। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে গিয়ে খবর নেই হাসান কোন টাকা জমা দেয় নাই। উক্ত টাকা রশিদ রশিদ দেও না হলে টাকা ফেরত দাও। টাকা চাইলে আজ, দেব, কাল দেবো, কাগজ করে দিয়েছি আপনার জামাইয়ের নামে কাগজ করে দিয়েছি নানান তালবাহানা করে এবং আমাকে হুমকি ধামকি দেয়।’ সহকারী কমিশনার ভূমি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার আবেদন এ ধরনের চতুর লোকের বিচার চাই এবং টাকা ফেরত পাওয়ার সার্বিক সহযোগিতা চাই।
এ বিষয়ে হাসান আলী খাঁ বলেন, ‘স্যারদের মৌখিক নির্দেশে আমি চাকরির শুরু থেকেই কম্পিউটারে কাজ করি এবং পাশাপাশি ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পালন করি।’ হাসান আরো বলেন, ‘২০১৭ সালে ঝাড়ুদার পদে আর আতাইকুলা ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে চাকরি করি এখনো স্থায়ী হয় নাই। ২০১৬ সাল থেকে কম্পিউটার জানায় স্যাররা আমাকে দিয়ে কম্পিউটারে কাজ করায়।’
বিলাসবহুল বাড়ি প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘জমি বিক্রি ও পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে বাড়ি করেছি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘আমি অফিসের কাজ করিঅ টাকা নিয়ে কাজি করি না। আপনারা তদন্ত করে দেখেন এসব অভিযোগ মিথ্যা।
আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান ঝাড়ুদার হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগে ৩ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। জনবল সংকটের কারনে তাকে দিয়ে কম্পিইটারের কাজ করানো হচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অফিস করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি নিশ্চুপ থাকেন। ঝাড়ুদার পদে কর্মরত থেকে কিভাবে একজন অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে অফিসিয়াল কোন অনুমতি ছাড়া কাজ করছে এমন অভিযোগের কোন উত্তর তিনি দেননি। এই চেয়ারে বসে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন এমন অভিযোগে প্রশ্ন করলে বলেন, ‘এখানে কোন অনৈতিক কাজ হয় না।’
সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




