• ই-পেপার

সরকারকে খুশি নয়, জনগণের স্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী অমিত

‘বর্ষা আইলেই ভয়, কখন বসতভিটা ভাইঙ্গা লয় নদী’

সাইমুন রহমান এলিট, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
‘বর্ষা আইলেই ভয়, কখন বসতভিটা ভাইঙ্গা লয় নদী’
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন শুরু হয়েছে তেঁতুলিয়া নদীতে। তাই বসতভিটা হারানো ভয় তাড়া করছে পটুয়াখালীর গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বাসিন্দা বারেক রাঢ়ীকে। শনিবার সকালে তার বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘প্রতিবছরই বেড়িবাঁধের কাজ হয়; আবার বর্ষা আইলেই ভাঙে, বাড়িঘর ভাঙে। এহন সব সহ্য হয়ে গেছে। তয় বর্ষায় মৌসুমজুড়ে মনের মধ্যে ভয় করে, কখন বসতভিটা নদীতে হারায়ে যায়। সাথে চইলা যায় বাপ-দাদার কবরও।’

কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বাসিন্দা বারেক রাঢ়ী। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে দিশাহারা এই প্রবীণ আরো বলেন, ‘১০ বছরে চারবার বাড়ি করেছি। এখন যে বাড়ি সেটাও হয়তো থাকবে না। এহন সব সহ্য হয়ে গেছে। তবে মরার আগে আর নতুন বাড়ি করতে পারমু না। শক্তি ও অর্থ কোনোটাই নাই।’ 

শুধু বারেক রাঢ়ী নন, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে ৫০০ পরিবারের। এ নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে বহু বাড়িঘর, সঙ্গে কবরস্থানও। তাই জীবনের শেষ মূহূর্তে এসে চরম হতাশা বারেকের মতো মানুষদের।

বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা, বন্যাতলী স্লুইসের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, গ্রামর্দনের চার গ্রামের বাসিন্দারা। 

এদিকে ঢেউয়ের তোড়ে ওই এলাকার বেড়িবাঁধের পাড় ভেঙে ধসে পড়ছে। বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের বেড়িবাঁধের অন্তত ৫০০ মিটার সড়ক ধসে গেছে। 

রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘নদীভাঙনে আমাগো সব হারাইছি। চার চারবার করে বাড়ি করেও সর্বস্ব হারাইছি। এখন কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করছি। বেড়িবাঁধ দেওয়ার পরও প্রায় সাড়ে আট একর জমি নদীতে হারিয়ে গেছে।’

শাহজাহানের ভাষ্য, ‘এখন আর এসব বেড়িবাঁধ দিয়ে কিছুই হবে না, আমাদের টেকসই বাঁধ চাই। ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়া দরকার। বারবার ভাঙা আর গড়ার খেলায় আমি এখন পুরোটাই নিঃস্ব।’

একই ইউনিয়নের গ্রামর্দন এলাকার ফরিদ হাওলাদার বলেন, ‘আমার ঘরসহ সব কেড়ে নিছে সর্বনাশা তেঁতুলিয়া। কয়েক দফা ভাঙনের পর ১২ বছর আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে একই ইউনিয়নের কাটাখালী শ্বশুরবাড়িতে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার চোখেই ২০০ থেকে আড়াই শ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে দেখেছি। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে বেড়িবাঁধের পাড় প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে। এখন রাস্তাও ভাঙছে।’

নিজহাওলা গ্রামের সত্তার রাঢ়ীর স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, ‘আমার বাপের বাড়ি একই ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই আছি। এক সময় যে বাড়ি থেকে গাছের ডালপালা পাতা কুড়ায়ে রান্নাবান্না করতাম, অনেক আগেই নদীগর্ভে হারায়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী একসময় এখানে ফসল ফলাতেন, জমিতে চাষাবাদ করতেন। এহন সব কিছুই স্মৃতি। এই নদীর ভাঙনে ৫০ একরের ওপর জমি নদীতে ভেঙে গেছে। এহন আমরা নিঃস্ব।’

রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, রতনদি তালতলী ইউনিয়নের ৮, ৯ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাতলী অংশের বেড়িবাঁধ এলাকা ভাঙনকবলিত। এখানে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। তেমনি গ্রামর্দন অংশেরও একই অবস্থা। 

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভাঙনে প্রতিবছর  নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ, সড়ক, কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধ ও ওয়াপদা মেরামত করা না হলে বন্যাতলী, নিজহাওলা, টাইট্টাবুনিয়া, ভাইয়ার হাওলা, পাতাবুনিয়া,গ্রামর্দ্দন এলাকার মানুষের অপূরণীয়  ক্ষতি হবে। তাই নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ আশা করছি।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আবুজর মো. ইজাজুর হক বলেন, ‘ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি। তারা জানান রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বর্ষা মৌসুমের তীব্রতার আগেই কাজ শুরু হবে।’

এমপি রায়হান সিরাজী

বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা হতাশাজনক

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা হতাশাজনক
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব রায়হান সিরাজী বলেছেন, প্রতিবছর তিস্তা নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারালেও চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য হতাশাজনক।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর দক্ষিণ পার্শ্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে করা মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের কৃতিত্ব নিতে চাই না। সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করব।’ 

সিরাজী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আন্দোলনের মহানায়ক আসাদুল হাবিব দুলু এখন মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। তাই এখনো আমরা আশাবাদী।” 

মানববন্ধনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল গণি, অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, মাওলানা নায়েবুজ্জামান, মাওলানা তাজ উদ্দিন, মাওলানা মমিনুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

স্ত্রীর তালাকের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে যুবকের আত্মহনন

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
স্ত্রীর তালাকের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে যুবকের আত্মহনন
ফাইল ছবি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্ত্রী একতরফা তালাক দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ি এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে শ্বশুরের বসতঘরের সিঁড়ির আড়া থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের মো. ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল কারিম মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত ছিলেন না। সংসারে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এমন অবস্থায় কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহ আগে আব্দুল কারিমকে একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন তার স্ত্রী। এর পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এরই জেরে শুক্রবার দিবাগত রাতে আলগাদিয়া গ্রামে এসে শ্বশুর ওমর আলীর টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। 

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, খবর পেয়ে আব্দুল কারিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কেন্দুয়ায় বিষপানে বৃদ্ধের আত্নহত্যা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় বিষপানে বৃদ্ধের আত্নহত্যা
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিষপানে আন্জু মিয়া নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যার করেছেন।শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আনজু মিয়া (৬৫) উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম গ্রামের মৃত ডেলু মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আনজু মিয়া কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ১২টায় সবার অগোচরে বিষপান করলে পরিবারের লোকজন প্রথমে তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছেন তার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। 

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ বলেন, বৃদ্ধ আনজু মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা আছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।