• ই-পেপার

সৌদি আরবে গাড়ির ধাক্কায় নিহত চরভদ্রাসনের সাবেক ইউপি সদস্য

মাদক কারবারিতে বাধা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
মাদক কারবারিতে বাধা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাদক কারবারিকে বাধা দেওয়ায় মো. আনোয়ার হোসেন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। পরে তাকে স্থানীয় এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আড়পাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের আড়পাড়া এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক সিন্ডিকেট এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন।


রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদক কারবারিদের একটি দল প্রকাশ্যে অপকর্ম করার সময় তিনি পুনরায় বাধা দিলে, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পেটাতে থাকে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং বর্তমানে সেখানে চিকাৎসাধীন আছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
 

ইয়াবাসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ আটক, পিটুনির পর কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
ইয়াবাসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ আটক, পিটুনির পর কারাগারে
নাজমুল হাসান হিমেল

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া এক যুবককে এক হাজার ইয়াবাসহ আটক করে মারধরের পর পুলিশে দিয়েছে জনতা। মাদক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার উপজেলার সীমান্ত গ্রাম পুরান লাউড়েরগড় মাদরাসার সামনে নাজমুল হাসান হিমেল নামের ওই যুবক এবং তার সহযোগী সোহাগ আহমদকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তারা। 

নাজমুল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের ছাতারকোণা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও সোহাগ একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলে করে হিমেল ও সোহাগ সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরছিলেন। পথে লাউড়েরগড় এলাকার লোকজন তাদের আটক করে তল্লাশি করেন। এ সময় তাদের কাছে সাড়ে ৯৫০ ইয়াবা পাওয়া যায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের দোকানের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন। পরে পুলিশে খবর দেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া বলেন, এলাকার মানুষজন হিমেলকে আটক করে তার কাছে বিপুল ইয়াবা পান। পরে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেন। সে ভারত থেকে ইয়াবার চালান এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করত।

ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ বলেন, হিমেল একজন জুলাইযোদ্ধা। জুলাই আন্দোলনের সময় মিটিং-মিছিল করেছে। তার ভাই তোফায়েল আহমদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব। হিমেল ইয়াবার চালানসহ গত রাতে তাহিরপুরের লাউড়েড়গড় সীমান্তে আটক হয়েছে। ৫ অগাস্টের পর মামলা দিয়ে অনেক নিরীহ মানুষকে সে হয়রানি-নির্যাতন করেছে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোখলেছুর রহমান বলেন, হিমেলের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী সংগঠনের ব্যানারে মাদক কারবারের অভিযোগ আছে। আদালত হিমেল ও সোহাগকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ, আটক ১

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ, আটক ১

শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবীন রাইস প্রসেসিংয়ের গোডাউন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব চাল জব্দ করা হয়। এসময় ওই গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়।

আটক বোরহান উদ্দিন শহরের কসবা কাছারিপাড়া মহল্লার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা সরকারি চালসহ একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকায় অবস্থিত জেবীন রাইস প্রসেসিংয়ের গোডাউনে অভিযান শুরু করা হয়। এসময় বস্তায় ২০২৬ সালের জুন মাসের সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সীলমোহরকৃত ৩৩ টন চাল পাওয়া যায়।

এতে দেখা যায়, অন্য জায়গায় পাচারের উদ্দেশে খাদ্য অধিদপ্তরের ৫০ কেজি ওজনের ৫০০ বস্তা এবং ৩০ কেজি ওজনের ২৭০ বস্তাসহ মোট ৭৭০ বস্তায় ভর্তি ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল রয়েছে। যার মোট মূল্য ১৬ লাখ  ২১ হাজার ৯০০ টাকা। পরে চালগুলো জব্দ এবং গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়।

শেরপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সদর থানার ওসি সোহেল রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান জানান, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন ক্ষতিকর কার্যক্রম ২০২৩-এর ৫-এর ক ও খ এবং ৬ ধারা মোতাবেক উপযুক্ত বিচারের জন্য জুডিশিয়াল আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওসি মো. সোহেল রানা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক গোডাউনের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালগুলোর সঠিক হিসাব দিতে না পারায় সদর থানা পুলিশকে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জব্দ চালগুলো গোডাউনে সিলগালা করে আটক ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ এবং মামলা দায়ের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মনোহরদীতে তিন মাদকসেবীর কারাদণ্ড

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
মনোহরদীতে তিন মাদকসেবীর কারাদণ্ড

নরসিংদীর মনোহরদীতে ইয়াবা সেবন করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ৩ যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী বিচারক মো. সজিব মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ নিয়ে খিদিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এসময় খিদিরপুর বাজারের পাশে ইয়াবা সেবন করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় কালিরচর গ্রামের মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে সোহরাবকে (৩৬) মাদকসেবনের সরঞ্জাম ও দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করে স্থানীয়রা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানানো হলে তাঁরা উপস্থিত হয়ে সোহরাবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫ মাসের কারাদণ্ড দেন।

অপরদিকে খিদিরপুর বাজারের পাশে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় নয়াপাড়া গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেনকে (২৯) আটক হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দোষ স্বীকার করলে ৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই এলাকায় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় সাইফুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলামকে (১৮) আটক করে ১ মাস কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) কাওসারসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া জানান, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।