• ই-পেপার

বোনের জানাজা শেষে সড়কেই প্রাণ গেল ভাইয়ের

টঙ্গীতে ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীর খরতৈল এলাকার বহুতল ভবন থেকে পড়ে আলী আকবর (৪৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১২টার দিকে নির্মাণ কাজ করার সময় নিচে পড়ে যান তিনি।

আলী আকবর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, টঙ্গীর খরতৈল এলাকায় একটি ৭ তলা ভবনে বাঁশ বেঁধে নির্মাণ কাজ চলছিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাঁশ ভেঙে নীচে পড়ে যান কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক আকবর। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কাছের গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খবর পোয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান শ্রমিক মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

পাবনা পৌরসভার গোপালপুর আইবি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে আজমিরা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে তার মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আজমিরা খাতুন পাবনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর আইবি রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেনের স্ত্রী। তিনি সদর উপজেলার চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস প্রামানিকের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে বুধবার (১৭ জুন) রাতে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আজমিরা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তার স্বামী অন্য একটি কক্ষে রাত কাটান। বৃহস্পতিবার সকালেও পরিবারের সদস্যরা দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় গৃহবধূর পা মাটির সঙ্গে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া বাসার জানালার কাঠামো নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হতে পারে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নিহতের স্বামী আরিফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি এ বিষয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’

নিহতের বাবা আক্কাস প্রামানিক জানান, রাতে মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছিলেন। সকালে জামাই ফোন করে জানান, আজমিরা দরজা খুলছেন না। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

বিএনপির ৫ বারের এমপি হারুণ-অর-রশিদ মারা গেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বিএনপির ৫ বারের এমপি হারুণ-অর-রশিদ মারা গেছেন
সংগৃহীত ছবি

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে ৫ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাড. হারুণ-অর-রশিদ (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

হারুণ-অর-রশিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অ্যাড. হারুণ-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর নামাজে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় নেতারা জানান, হারুণ-অর-রশিদ ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরবর্তীতে চিফ হুইপ নির্বাচিত হন।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় অ্যাড. হারুণ-অর রশিদ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাড. হারুণ-অর রশিদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

২৫ হাজারে শিশু বিক্রি করল বাবা, ৫২ দিন পর উদ্ধার

মাগুরা প্রতিনিধি
২৫ হাজারে শিশু বিক্রি করল বাবা, ৫২ দিন পর উদ্ধার
মাগুরা সদর থানা। সংগৃহীত ছবি

মাগুরা সদর উপজেলা বেরইল পলিতা ইউনিয়ন রামদেরগাতী এলাকায় ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক শিশুকে বিক্রি করে দেন বাবা সাগর হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিক্রির ৫২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

উপজেলার মঘি ইউনিয়ন দক্ষিণ বীরপুর গ্রামে শাহাবুরের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করেছিলেন সাগর।

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপার মোল্ল্যা আজাদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৭ এপ্রিল ২৫ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৭ এপ্রিল শিশুটির মা তানজিলা খাতুন সন্তানের খোঁজ করতে থাকলে অভিযুক্ত বাবা সাগর হোসেন তাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দেন। সাগর বলেন, শিশুটিকে জিনে নিয়ে গেছে। জিনের মাধ্যমে ফেরত আনার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ২ মাস পার করেন তিনি।

পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতা ও স্থানীয়দের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া শিশুটিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মঘি ইউনিয়ন দক্ষিণ বীরপুর শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুটি তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।