একজন শ্রমিক নিয়োজনকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সিবিএ নেতারা হামলা চালিয়েছেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী (সিস্টেম এনালিস্ট) এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে দু:ব্যবহারের এবং সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেন তারা। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় নগরের ডবলমুরিং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই নারী কর্মকর্তা।
বিউবো চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১টা ৪০ মিনিট থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। নগরের আগ্রাবাদস্থ বিদ্যুৎ ভবনের ৫ তলায় নির্বাহী প্রকৌশলী (সিস্টেম এনালিস্ট) নিলুফারিন আক্তারের কক্ষে প্রবেশ করেন সিবিএ ২৫/৩০ জন নেতাকর্মী। কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরও ১৫/২০ জন। সিবিএ নেতারা নিলুফারিনের কাছে জানতে চান একজন শ্রমিক নিয়োগ কেন করা হলো। এ নিয়ে বাকবিতাণ্ডার এক পর্যায়ে সেখানে প্রবেশ করেন সহকারী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে খারাপ আচরণ কেন করছেন বলতেই সিবিএ নেতাকর্মীরা মেহেদীকে টেনে হিচড়ে রুমের বাইরে করিডরে এনে মারধর করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিস্টেম এনালিস্ট) নিলুফারিন আক্তার বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা কোনো সরকারি নিয়োগ না। একজন শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তারা (সিবিএ) আমার সঙ্গে দু:ব্যবহার করেছে। আমি বিষয়টি জানালেও তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমার সামনে তেড়ে আসে। ওই সময় মেহেদি হাসান অফিসের কাজে রুমে আসলে তাদের আচরণ দেখে বলেন ‘আপনারা ম্যাডামের’ সঙ্গে খারাপ ব্যবহার কেন করছেন। তখন তাকে আমার রুম থেকে টেনে বাইরে নিয়ে মারধর করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনায় আমি অফিসের পক্ষ থেকে আজকে ডবলমুরিং থানায় নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে একটি জিডি করেছি। ফুটেজ দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছি। তাদের নাম জিডিতে উল্লেখ করেছি। আমার রুমে ২৫/৩০জন প্রবেশ করেছিল।
এ দিকে সহকারী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি রুমে প্রবেশ করলে দেখি তারা ম্যাডামের সঙ্গে দু:ব্যবহার করছেন। তখন আমি বলেছি আপনারা ম্যাডামের সঙ্গে এভাবে কেন কথা বলছেন তা বলতেই আমাকে রুম থেকে বের করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।’
জিডির বিষয়ে জানতে নগরের ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।





