মেঘনার শাখা নদী তিতাস অববাহিকায় ঢোলভাঙ্গা নদী ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের প্রাণ। সামাজিক সম্পর্ক, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, এমনকি শিল্পকারখানা বা পরিবহনের জন্যও এ নদীর গুরুত্ব ছিল অপরিহার্য। তবে নদীটি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, দখল, দূষণ আর আবর্জনায় একসময়ের খরস্রোতা নদী ঢোলভাঙ্গা এখন সরু বদ্ধ নালায় পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে এ নদীর অধিকাংশ স্থানে কোনোরকমে নৌকা চলাচলের মতোও পানি থাকে না। কোথাও কোথাও একেবারেই শুকিয়ে যায়। ফলে একসময় এ নদী ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এখন তা একেবারেই বন্ধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রধান বাজারের সব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ঢোলভাঙ্গা নদীতে। এতে দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে নদী এলাকা পার হতে হয়। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন হাট-বাজারের নোংরা ও দূষিত পানি নদীতে পড়ছে। তারা জানান, পৌর এলাকার প্রতাবগঞ্জ বাজারের মাংসপট্টি এবং মুরগি ও শাক-সবজির দোকান রয়েছে, যার বর্জ্য ফেলা হয় নদীতে।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা তরী বাংলাদেশ-এর মূখ্য সমন্বয়ক শামীম আহমেদের ভাষ্য, ‘ঢোলভাঙ্গা নদীটি বাঁচাতে হলে আগে দূষণ, দখল ও আবর্জনা বন্ধ করতে হবে। এরপর ড্রেজিং করতে হবে। নইলে একদিন এই নদীর জন্য মানুষ আপসোস করবে।’
পৌর শহরের চক বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মুরতুজ মিয়া বলেন, ‘আগে বাজারের ব্যবসায়ীরা নৌপথে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী থেকে চাল, ডাল-আটা ময়দা, তেল-লবণ আনতেন। নদীর গতিপথ বন্ধ হওয়ায় সড়কপথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে, যার চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
সম্প্রতি সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঢোলভাঙ্গা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে মার্কেট ও বাড়ি। এ ছাড়া নদীর কাছাকাছি গড়ে ওঠা সব বাজার ও ভবনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, ‘ঢোলভাঙ্গা নদী আগে খনন করা জরুরি। নদীর অনেক জায়গায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি খননের জন্য আমরা লিখিত আবেদন জমা দেব।’
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুরের বাসিন্দা ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব প্রকৌশলী আল আমীন বলেন, ‘সম্প্রতি তিতাস নদী ড্রেজিং করার সময় ঢোলভাঙ্গা নদী খনন করা যায় কিনা- সেই চেষ্টা করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ততদিনে তিতাস নদী খননের সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়ে যায়। ফলে তিতাস নদী খননের কাজটির সঙ্গে ঢোলভাঙ্গা নদী খননের কাজটি আর এগিয়ে নিতে পারিনি।
বিআইডাব্লিউটিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইউএনও নদীখননের চাহিদাপত্র দিলে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢোলভাঙ্গা নদীর ড্রেজিংয়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী খননের তালিকায় এ নদীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং খননের সুপারিশ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দখল ও দূষণ প্রতিরোধে অভিযান চলমান থাকবে।’