• ই-পেপার

হবিগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫০

ফ্যানে ঝুলছিল সৌদি প্রবাসী স্ত্রীর মরদেহ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
ফ্যানে ঝুলছিল সৌদি প্রবাসী স্ত্রীর মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার আদমদীঘিতে সুমাইয়া আক্তার (১৮) নামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহনন করেছেন। বুধবার সকালে আদমদীঘির ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম সিংড়া গ্রামে তার বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি।

সুমাইয়া উপজেলার পশ্চিম সিংড়া গ্রামের ধলু মন্ডলের মেয়ে এবং একই উপজেলার কুসুম্বী গ্রামের সৌদি প্রবাসী রিফাতের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৬ মাস আগে উপজেলার কুসুম্বী গ্রামের সোনারপাড়ার সামাদের ছেলে সৌদি প্রবাসী রিফাতের সঙ্গে একই উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপির পশ্চিম সিংড়া গ্রামের ধলু মন্ডলের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। গত মঙ্গলবার  ঈদের দাওয়াত খেতে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে যান সুমাইয়া। বুধবার সকাল ৮টার দিকে সুমাইয়াকে বাড়িতে রেখে তার মা রোজী বেগম মাঠে তার বাবা ধলুর জন্য খাবার নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে এসে দেখেন তার মেয়ে সুমাইয়া ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো তার মরদেহ ঝুলছে। পরে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া জানান, দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সোনারগাঁ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্রে নির্যাতন চালিয়ে ফয়জুল মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই হাসপাতালে মরদেহ ফেলে মাদক নিরাময়কেন্দ্রটিতে তালা দিয়ে কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।

বুধবার (জুন) রাত ১০টায় উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় এভারগ্রিন মাদক নিরাময়কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়জুল উপজেলার কাঁচপুর বেহাকৈর এলাকার ফোছন আলীর ছেলে। 

নিহতের স্ত্রী মাসুদা বেগম জানান, তার স্বামীকে মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এভারগ্রিন মাদক নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি করেন। ঈদের পর দিন তাকে খাবার দিয়ে যান। বুধবার রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখেন তার স্বামী নিরাময় কেন্দ্রে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। এখানের লোকজনের নির্যাতনেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, এ ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

রংপুর

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
সংগৃহীত ছবি

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে বুধবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড (সংযুক্ত) করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে  তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। 

বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

ক্লোজড হওয়া তিন পুলিশ সদস্য হলেন– নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।

পুলিশ সূত্র জানায়, কমিশনারের নির্দেশে তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মারধরের অভিযোগ ওঠা বিএনপির নেতা  রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব। তিনি দাবি করেন, থানার ভেতরে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানের নেতাকে মারধর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকায় নিখোঁজ এক প্রেমিক যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। ওই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। সেচ্ছাসেবক দল নেতা অভিযোগ করেন, থানায় উপস্থিত অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধরের দৃশ্য দেখে রাকিব আপত্তি জানান। এ সময় বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পরিচয় দিয়েছি, বলেছি আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। কিন্তু ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমাকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমার মাথায় আঘাত লাগে, চোখ ফুলে যায়।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘মারধরের পর তাকে জোর করে পরিষ্কার করা হয় এবং শরীরের রক্তের দাগ মুছে ফেলা হয়।’

ঘটনার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আহত নেতাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, ‘পুলিশের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঘটনার পরপরই আরএমপি মিডিয়া সেল জানায়, কমিশনারের নির্দেশে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।

তদন্ত কমিটি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত চলাকালে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


 

বাসায় পৌঁছানোর পর যা বললেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

অনলাইন ডেস্ক
বাসায় পৌঁছানোর পর যা বললেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
কারাগার থেকে মুক্তির পর নিজ বাসভবনে সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছান।

সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির খবরে রাত ১১টা থেকে তাঁর বাড়ির সামনে স্বজন ও কর্মী–সমর্থকেরা ভিড় করেন। দীর্ঘদিন পর আইভী বাসায় ফেরায় তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

বাসায় পৌঁছানোর পর দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগের প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই, সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো অনেক মায়েরা আছেন, তাঁরা নিরপরাধ। আশা করছি, সরকার তাঁদের প্রতিও সদয় হবে।’

সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের ৩টি হত্যা মামলা, ২টি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি একাধিকবার জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর তাঁর মুক্তির পথ খোলে।