• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে ৫০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিনসহ ট্রাক জব্দ, চালক গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিনসহ ট্রাক জব্দ, চালক গ্রেপ্তার
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি পলিথিনসহ একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টার দিকে শিবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া গাজী চেয়ারম্যানের মোড় এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটি আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার চালকের নাম মিলন প্রামাণিক (৩৯)। তিনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার আতাইকুলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত ফয়জাল প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ট্রাকে থাকা ৩০ কেজি ওজনের ৬০টি বস্তায় মোট প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি পলিথিন পাওয়া যায়। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে পলিথিনগুলো ঢাকা থেকে শিবগঞ্জের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে আনা হচ্ছিল।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার চালককে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নাটোরের যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের যুবকের মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর এলাকায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল স্কুলের পিছনের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত যুবকের নাম সজীব কর্মকার (২৫)। তিনি উপজেলার বাহাদীপুর গ্রামের রান্টু কর্মকারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মাঠে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

চসিক মেয়র

গ্রাফিতি মোছার অভিযোগ ভিত্তিহীন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অপপ্রচার চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
গ্রাফিতি মোছার অভিযোগ ভিত্তিহীন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অপপ্রচার চলছে
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম নগরীতে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে ‘ডাহা মিথ্যা’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করার চেষ্টা করছে।

সোমবার (১৮ মে) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য আমি কখনো কোনো নির্দেশ দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।’ 

মেয়র জানান, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় পর পর বিভিন্ন পিলার ও দেয়াল থেকে পোস্টার ব্যানার অপসারণ ও রং করার কাজ করে থাকে। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে রং করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টার দিয়ে ঢাকা ছিল এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না ‘

আরো পড়ুন
শেখ হাসিনা পিঠ চাপড়াতেই হুঁশ হারিয়ে এমপি হলেন সাকিব-মাশরাফিরা : প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনা পিঠ চাপড়াতেই হুঁশ হারিয়ে এমপি হলেন সাকিব-মাশরাফিরা : প্রতিমন্ত্রী

 

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল।’

মেয়র বলেন, ‘কেউ গ্রাফিতি করতে চাইলে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি আঁকতে পারে।’ এ ধরনের উদ্যোগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থায়নের আশ্বাস দেন।

তিনি আরো বলেন, অপরিচ্ছন্ন হাতের লেখার চেয়ে পরিকল্পিত ও শৈল্পিক গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি রক্ষা করবে।

আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘৪ আগস্ট যখন অনেক হাসপাতাল আহতদের নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন আমি নিজ উদ্যোগে ট্রিটমেন্ট ও হলি হেলথ হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করিয়েছি। এ ছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিয়েছি।’ শহীদ পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এনসিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা ফায়দা লুটের জন্য এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্যই তারা এই কাজ করছে।

নিজের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে আইনগতভাবে আমি বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

লালখান বাজার এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সংঘর্ষ এড়াতে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, এই শহরটা সবার। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর শহর গড়তে চাই। সাংঘর্ষিক কোনো কিছুর জন্য আমরা আগ্রহী নই।

এদিন বিকেলে একই বিষয়ে মেয়র আবারও টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। এসময় মেয়রের সঙ্গে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য ইসকান্দার মীর্জা এবং কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মেয়র বলেন, গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমার কোনো বক্তব্যে গ্রাফিতি অঙ্কনের বিরোধিতা খুঁজে পাবেন না। আমি বরং বলেছি, গ্রাফিতি হোক নান্দনিকভাবে, যাতে মানুষের নজরে পড়ে এবং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। টাইগারপাস এলাকা নগরীর প্রবেশমুখ হওয়ায় এখানে বিদেশি কূটনীতিক ও বিনিয়োগকারীরা আসেন। তাই এ এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আগস্টের চেতনাকে ধারণ করে যারা গ্রাফিতি করতে চায়, তারা অবশ্যই করবে। আর্ট কলেজের শিক্ষার্থী ও দক্ষ শিল্পীদের দিয়ে এগুলো করলে শহরের সৌন্দর্য আরো বাড়বে।

মেয়র জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রাফিতি করার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তিনি সবাইকে ইতিবাচকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, পুলিশ একটি আলাদা সংস্থা। তারা হোম মিনিস্ট্রির অধীনে কাজ করে। গত রাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। আমরা আইনকে সম্মান করি এবং কাউকে সংঘাতে জড়াতে চাইনি।

তিনি আরো বলেন, দুপুরে একটি ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন তরুণীর বাকবিতণ্ডা দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানিয়েছি। পরে পুলিশ কমিশনার আমাকে জানান, ঢাকা থেকে অনুমতি পাওয়ার পর ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, যারা গ্রাফিতি করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই করবে, তবে সেটা যেন দৃষ্টিনন্দন হয় এবং কাউকে অযথা দোষারোপ বা মিথ্যাচারের মাধ্যম না হয়। আমরা সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাম্যের শহর গড়তে চাই। কোনো ধরনের অনিরাপত্তা বা বিভাজনের রাজনীতি আমরা চাই না। সবাই মিলে নিরাপদ ও সুন্দর নগর গড়ে তুলতে হবে।

মেয়র বলেন, নগরীর বিভিন্ন পিলার ও দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে নোংরা করা হয়েছে। যেসব জায়গায় পুরোনো গ্রাফিতির ওপর পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেসব স্থান পরিষ্কার করে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় তিনি টাইগারপাস এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় শিক্ষার্থী, তরুণ শিল্পী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৯০

নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৯০
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল এবং অপরাধ দমনে একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মাদকসহ ৩৯ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১৬ জন, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৫১ ধারায় ২৭ জন, নিয়মিত মামলায় ৬ জন, অন্যান্য মামলায় ২ জনসহ মোট ৯০ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কিশোরগঞ্জ জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তারা বন্ধপরিকর। এই মর্মে পুলিশ সুপার স্পষ্ট বার্তা, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিস্তাররোধ এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

কিশোরগঞ্জ জেলাকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে পুলিশ প্রশাসন।