• ই-পেপার

মিরসরাই

পরীক্ষায় না দেখানোয় ২ সহপাঠীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, আটক ৪

নড়াইলে পিকআপ-ট্রলি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইলে পিকআপ-ট্রলি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের তালতলা ঘোষবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু (৩১) সাতক্ষীরা জেলা সদরের হাশেম আলীর ছেলে। আহতরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের ইনামুল (১৯), ধুড়িয়া গ্রামের হুসাইন (১৮), আকাশ (১৮) ও একই গ্রামের আকাশ খান (২১)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল থেকে লোহাগড়া অভিমুখী দুটি ট্রলি দ্রুত গতিতে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় লোহাগড়া থেকে যশোরগামী একটি পিকআপের সংঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের হেলপার মঞ্জুরুল ঘটনাস্থলে নিহত হন। স্থানীয় লোকজন ট্রলিতে থাকা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচী বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মোট চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইনামুলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

নড়াইলের তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘নিহত পিকআপের হেলপারের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে।’

পাকুন্দিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১৯ হাজারের বেশি পশু

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১৯ হাজারের বেশি পশু
পাকুন্দিয়ায় কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত একটি গরুর খামার।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯ হাজার ২৬৬টি গবাদিপশু। উপজেলার চাহিদার তুলনায় ৩২৬টি পশু বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার পাকুন্দিয়ার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে ২ হাজার ৯৯১টি খামারে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ হাজার ৬৯৩টি গরু, ২৪টি মহিষ, ৪ হাজার ৩৮০টি ছাগল ও ১৬৯টি ভেড়া। উপজেলায় কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ১৮ হাজার ৯৪০টি পশু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খামারি ও গৃহস্থদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পশুকে হৃষ্টপুষ্ট করতে গমের ভূষি, ছোলা, খেসারি ও মসুরের ভূষিসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সময়মতো খাবার দেওয়ার মতো কাজেও বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন খামারিরা।

দরগা বাজার এলাকার রুবেল এগ্রো ফার্মের মালিক রুবেল মিয়া বলেন, তার খামারে ৪০টি গরু রয়েছে। তিনি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন পালন করছেন। তিনি গরুগুলোকে গমের ভূষি, ছোলা, খেসারি ও মসুরের ভূষি খাওয়াচ্ছেন। সবগুলো গরুই স্থানীয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে খামারে এনে লালন পালন করছেন তিনি। 

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের খামারি রিপন মিয়া জানান, কোরবানির জন্য তিনি ১৬টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তবে গোখাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গরু এলে বাজারদর কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তিনি।

আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে সুখবর

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে সুখবর

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলী আকবর বলেন, কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহার না করতে খামারিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। অসুস্থ বা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশু যাতে বাজারে বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি থাকবে।

বাড়ির পেছনে গাঁজার চাষ, ২ ভাই আটক

ভোলা প্রতিনিধি
বাড়ির পেছনে গাঁজার চাষ, ২ ভাই আটক
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসতঘরের পেছনে গাঁজার চাষের অভিযোগে দুই ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের বাড়ি থেকে চারটি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. সুমন (৩০) ও মো. নোমান (২২)। তারা উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাটামারা গ্রামের বাসিন্দা।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হুদার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বকশি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সুমন ও নোমানের বসতঘরের পেছন থেকে চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। পরে দুই ভাইকে আটক করা হয়।

আরো পড়ুন
নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

 

পুলিশের দাবি, আটক দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রামগতি-কমলনগর

নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

আমানত উল্যাহ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
নদী থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা
মাছ না পাওয়ায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঘাটে পড়ে আছে। সোমবার লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার মাছঘাটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মা ইলিশ রক্ষায় ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও ইলিশা নদীতে গত মার্চ ও এপ্রিল মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই সপ্তাহের বেশি পার হয়েছে। এখনও ইলিশ না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার জেলেরা। 

দুই উপজেলার মাছঘাটগুলো এখন একেবারেই ফাঁকা। শুনশান নীরবতা দেখা গেছে ঘাটগুলোতে। এ অঞ্চলের ৩৪ হাজারের বেশি জেলে সম্প্রদায় মাছের জন্য অপেক্ষমাণ।

মাছের আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১ মে মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নেন তারা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জেলেরা তখন সেভাবে মাছ শিকারে নামতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জেলেরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদীতে নামেন। তবে  রাত-দিন জাল ফেলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

রবিবার (১৭ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার মাছঘাট, আসলপাড়া ঘাট, টাংকিরঘাট, ব্রিজঘাট, ওছখালী, গাবতলীর ঘাট, ওয়াপদা বাজার ঘাট ও কমলনগর উপজেলার লুধুয়াঘাট, মাতব্বরহাট ঘাট, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি, নাছিরগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও মতিরহাট মাছঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এসব ঘাটের জেলেরা জানান, ইলিশ ধরার জন্য মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে জাল ফেলেও কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আগের মতো নদীতে মাছ নেই।  আগে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছও পর্যাপ্ত  পাওয়া যেত। এবার মাছ নেই বললেই চলে। এতে জেলে পল্লীগুলোতে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরে ১৪ হাজার ৯৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। আর রামগতিতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২০ হাজার ৩৬০। দুই উপজেলায় মোট ৩৪ হাজার ৪৫৮ জন জেলে রয়েছেন।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ১৮ দিন পার হলেও মেঘনা নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্খিত মাছ না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। একদিকে জেলেদের আয় নেই, অন্যদিকে স্থানীয় মাছের ঘাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে ক্রেতা, বিক্রেতা ও মাছ সংকট। সেখানে এখন শুনশান নীরবতা।

মাছঘাটের শ্রমিকরা বলছেন, নদীতে মাছ নেই। অধিকাংশ জেলে খালি নৌকা নিয়ে ফিরছেন। এ জন্য তারা ঘাটে অলস সময় পার করছেন। আর অপেক্ষায় রয়েছেন, কখন ঘাটে স্বপ্নের সেই রূপালী ইলিশ আসবে, মাছঘাট জমজমাট হবে।

আলেকজান্ডার মাছঘাটের আড়তদার মফিজ মিয়া বলেন, অন্যান্য বছর এই সময় ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছে ভরপুর থাকত। ঘাট থাকত সরগরম। এ বছর একেবারেই ভিন্ন চিত্র। জেলেদের জালে মাছ না পড়ায় মাছঘাট একেবারেই নীরব।

ট্টলার মালিক ইয়াছিন জমাদার বলেন, এমনিতেই দেশে জ্বালানি তেলের বাজার গরম। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে তেলভর্তি করে ট্রলার নিয়ে ১৮ দিন নদীতে জাল ফেলে আজ শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলেরা নদীতে নেমে মাছ পাচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে দুই-চারটি মাছ পড়ে; তাতে ভাতের খরচও ওঠে না তাদের।

জেলে সেলিম মাঝি বলেন, দুই মাসের অভিযান শেষে যখন নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন আবহাওয়া ভালো ছিল না। এ কারণে অনেক জেলে নদীতে নামতে পারেননি। যারা নেমেছেন, তারা অধিকাংশই খালি হাতে ফিরছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ উজ জামান ও কমলনগরের মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা বলেন, দুই মাস নিষেধাজ্ঞার পর স্বাভাবিকভাবেই মাছ কম পড়বে। সাগরের মিঠাপানির স্রোত শুরু হলে ইলিশ নদীতে আসতে শুরু করবে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মাছ পেতে শুরু করবেন জেলেরা।