• ই-পেপার

মাগুরায় কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

সড়কের পাশে নজর কাড়ছে-মন রাঙাচ্ছে জারুল

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ
সড়কের পাশে নজর কাড়ছে-মন রাঙাচ্ছে জারুল
জারুল ফুলের সৌন্দর্য ময়মনসিংহের নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কে শোভা পাচ্ছে। ছবি: কালের কণ্ঠ

সড়কের দুই পাশে ঘন সবুজ গাছ। সেই সবুজের মাঝেই থোকা থোকা বেগুনি ফুল যেন ছড়িয়ে দিয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। কোথাও বাতাসে দুলছে ফুলভরা ডালপালা, কোথাও ঝোপঝাড়ের ফাঁকে ফুটে আছে রঙিন ফুলের মেলা। ময়মনসিংহের নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের দু-পাশজুড়ে এখন দেখা মিলছে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অনেকেই এই উঁচু গাছের ফুলের নাম জানেন না। তবে ফুলটির নাম ‘জারুল’। গাছে ফুল ফোটার পর থেকেই এর নাম জানতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সবার মধ্যে। যেন বেগুনি রঙের জারুল ফুলে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো পথঘাট।

রবিবার দুপুরে আঠারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের সারি সারি গাছে ফুটেছে জারুল ফুল। স্কুল ছুটির পর দলবেঁধে বাড়ি ফেরা শিশুরা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়ায়। কেউ বই-খাতা নামিয়ে গাছে উঠে ডালভরা ফুল সংগ্রহ করছে, কেউ আবার হাতে নিয়ে দেখছে বেগুনি রঙের ফুলের তোড়া।

তামিম, সায়ান, আঁখি ও ময়নাসহ অনেক শিশুই ফুল হাতে নিলেও এর নাম বলতে পারেনি। তবে তাদের উচ্ছ্বাসেই বোঝা যায়, ফুলটি তাদের মন জয় করেছে। তামিম বলে, নাম দিয়া কি অইবো, ফুলডা খুবই সুন্দর। বাড়িত নিয়ে বোতলে পানি দিয়া রাইখ্যা দিয়াম।

গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে এখন কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ নানা দেশীয় ফুল ফুটছে। এর মধ্যেও আলাদা করে নজর কাড়ছে জারুল। একসময় গ্রামগঞ্জ, নদীপাড়, হাওরাঞ্চল ও জলাভূমির আশপাশে প্রচুর জারুলগাছ দেখা যেত। এখন সেই প্রাচুর্য কমে গেলেও প্রকৃতিতে এখনো টিকে আছে এর সৌন্দর্যময় উপস্থিতি। কোথাও একা, কোথাও দলবেঁধে বেগুনি ফুলে ভরে উঠেছে জারুলগাছ।

উদ্ভিদবিদ ও গবেষক মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, জারুল বাংলাদেশের একটি পরিচিত জলাভূমিপ্রধান গাছ। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের জলাভূমি অঞ্চলে এর আদি নিবাস। জলাভূমির আশপাশেই এ গাছ বেশি জন্মে। এটি পানিপ্রিয় প্রজাতি হলেও শুকনো এলাকাতেও সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

তিনি বলেন, জারুলগাছ সাধারণত ১০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত এতে ফুল ফুটতে দেখা যায়। গাছের কচি পাতার ফাঁকে থোকা থোকা বেগুনি ফুল ফুটে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে।

আরো পড়ুন
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

 

জারুল ফুলের ইংরেজি নাম ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। জারুলের কাঠ লালচে, শক্ত ও মূল্যবান হওয়ায় ঘরের কড়ি-বরগা, নৌকা ও আসবাব তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া জ্বর, কাশি ও অনিদ্রাসহ বিভিন্ন রোগে এর ভেষজ গুণও রয়েছে।

মদন উপজেলা থেকে লন্ডনের কাউন্সিলর শামীমা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
মদন উপজেলা থেকে লন্ডনের কাউন্সিলর শামীমা
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল মদন উপজেলার বাসিন্দা শামীমা নাসরিন নামের এক নারী যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। লন্ডনের লিটল ইলফোর্ড ওয়ার্ডে বসবাসরত শামীমা নাসরিন নিউহাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হন। 

তার বিজয়ের সংবাদে হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। শামীমা নাসরিন মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মদন পূর্বপাড়ার আরিফুর রহমানের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীমা নাসরিন টাঙ্গাইল শহরের আদালতপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম খান (হালিম) ও মোর্শেদা খানম (শাহিন)-এর একমাত্র কন্যা তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের বড় বাশালিয়ায়। ২০২৪ সালে মদন পৌরসভার বাসিন্দা মো. গোলাম মাওলা খানের তৃতীয় পুত্র আরিফুর রহমান খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

শামীমা নাসরিনের স্বজন আরাফাত খান ডিউ জানান, ‘শামীমা নাসরিন আমার চাচি। তিনি লন্ডনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমাদের এলাকার লোকজন আনন্দিত। এটা আমাদের গর্বের বিষয়।’

কলাপাড়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
কলাপাড়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের দারোগারতবক গ্রামে বিদেশফেরত স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নাসির সিকদারের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে সোমবার (১৮ মে) সকালে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। 

নিহতের ছেলে, ভাই ও এলাকাবাসী জানান, মরিয়ম বেগম আটদিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। বাড়ি আসার পর থেকে নাসির টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। রবিবার বিকেলেও এ নিয়ে ঝগড়া এবং একপর্যায়ে মারধর করে মরিয়মকে। পরে ছেলে ও এলাকার লোকজন তখন থামালেও রাতে ঘরে কেউ না থাকায় গৃহবধূকে হত্যা করে নাসির পালিয়ে যান।

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাই মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পটুয়াখালী থেকে সিবিআই ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এসে আলামত সংগ্রহ করেছে। তাদের কাজ শেষ হলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কালীগঞ্জ

ধানক্ষেতে ঘাস চাষ, লাভ পাঁচগুণ

রিপন আনসারী, গাজীপুর
ধানক্ষেতে ঘাস চাষ, লাভ পাঁচগুণ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের ভাড়াটিয়া কৃষক রায়হান বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে ঘাস কাটছেন। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে অনেক জমিতে ধান চাষ তেমন লাভজনক হচ্ছে না। এমন জমিতে সাইলেজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের ঘাস চাষে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। এ জন্য কয়েকগুণ বেশি লাভ ও সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন কৃষক। 

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ধানের জন্য অলাভজনক অনেক জমিতে ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এতে বাড়তি আয়-রোজগারের পাশাপাশি পূরণ হচ্ছে গবাদি পশুর খাবারের চাহিদা।

চাষিরা বলছেন, এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করলে এক চাষেই বছরে পাঁচ-ছয় বার ঘাস বিক্রি করা যায়। সেই হিসেবে প্রতি বিঘায় ঘাসের  মূল্য পাওয়া যাচ্ছে ৭৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, অর্থাৎ  ধানের প্রায় পাঁচগুণ লাভ। 

কৃষকদের ভাষ্য, এক বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করলে দুই হাজার টাকার চারা, দুই হাজার টাকা শ্রমিক মজুরি ও ৮০০ টাকায় ২০ কেজি ইউরিয়া সার খরচ হয়। এই খরচেই বছরে পাঁচ-ছয়বার ঘাস বিক্রি করা যায়। একবার ঘাস কেটে বিক্রি করলে আবার ঘাসের ফলন নিজ থেকেই হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার ঘাস বিক্রির সময় কেবল  দুই হাজার টাকা করে শ্রমিকের খরচ লাগে। 

এক বিঘা জমির ঘাস একবার বিক্রি করলে ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেই হিসেবে ঘাস চাষ করে বছরে বিঘাপ্রতি মোট খরচ হয় ১৫ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৭৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় ৬০ থেকে ৭৩ হাজার টাকা। ১৭ হাজার টাকা খরচ করে ৯০ হাজার টাকার ফলন হয় ঘাস চাষে, যা খরচের চার থেকে পাঁচগুণ।

কৃষকরা বলছেন, এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্র্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে ২০ মণ ধান হয়। ধানের চারা, সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় এক বিঘায় যত টাকার ধান হয়, তত টাকাই খরচ হয়। ধান চাষে কোনো লাভ নেই। আর ঘাস চাষে বছরে ধানের চেয়ে পাঁচগুণ লাভ পাওয়া যায়। তাই কৃষকরা ধানের চেয়ে ঘাস চাষে বেশি ঝুঁকছেন। ধানক্ষেতের পাশাপাশি যেসব জমিতে ধান হয় না, সেসব জমিতে ঘাস চাষ করছেন। একই সঙ্গে সড়কের  পাশে ও ডোবা-নালার পাড়ে ঘাস চাষে আগ্রহ বাড়ছে উপজেলার  কৃষকদের।

কালীগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূ্ত্র জানায়, চলতি বছর  এক লাখ ১৮ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন ঘাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকচং জাতের ঘাস ৬৫৯ একর থেকে  ৯৬২০ টন,  জার্মান জাতের ঘাস ২৪৩ একর থেকে ৭২৯০ টন ও লাল পাকচং জাতের ঘাস ৬৭ একর থেকে ৮০৪০ টন উৎপাদন হয়েছে। 

সূত্র জানায়, লাভজনক এই ঘাস চাষে প্রাণী পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট বাবদ ১৪ জন কৃষকের মধ্যে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে দুইবারে ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তারা প্রণোদনা বাবদ মোট এক লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। সাইলেজ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য তাদের এই প্রণোদনা দেওয়া হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিন শেখের ছেলে ঘাস চাষি কামরুজ্জামান শেখ (৪৫) জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি ঘাস চাষ করেছেন। ধান চাষে লাভ নেই, কিন্তু ঘাসে পাঁচগুণ লাভ। এ জন্য তিনি ঘাস চাষে বেশি  আগ্রহী। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে পাঁচ হাজার টাকা বছরে প্রণোদনা পান বলেও জানান এই কৃষক। তার মতো গ্রামের ইব্রাহিম দেওয়ান , মোমেন দেওয়ানসহ অনেকেই ঘাস চাষ করছেন বলে  জানান তিনি।  

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে একদিকে যেমন প্রাণিজ আমিষের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে, অপরদিকে গরুর চারণভূমি দিন দিন কমছে। আবার উন্নত জাতের গরু পালনে ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই গরুর উৎপাদন খরচ কমাতে খামারিরা দিন দিন উন্নত জাতের ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকছেন। 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উন্নত জাতের ঘাসের কাটিং বিতরণসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে  উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ করতে সচেষ্ট। এতে গবাদি পশুর খাবারের খরচ কমিয়ে লাভবান হচ্ছেন খামরিরা।