সড়কের দুই পাশে ঘন সবুজ গাছ। সেই সবুজের মাঝেই থোকা থোকা বেগুনি ফুল যেন ছড়িয়ে দিয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। কোথাও বাতাসে দুলছে ফুলভরা ডালপালা, কোথাও ঝোপঝাড়ের ফাঁকে ফুটে আছে রঙিন ফুলের মেলা। ময়মনসিংহের নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের দু-পাশজুড়ে এখন দেখা মিলছে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অনেকেই এই উঁচু গাছের ফুলের নাম জানেন না। তবে ফুলটির নাম ‘জারুল’। গাছে ফুল ফোটার পর থেকেই এর নাম জানতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সবার মধ্যে। যেন বেগুনি রঙের জারুল ফুলে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো পথঘাট।
রবিবার দুপুরে আঠারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের সারি সারি গাছে ফুটেছে জারুল ফুল। স্কুল ছুটির পর দলবেঁধে বাড়ি ফেরা শিশুরা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়ায়। কেউ বই-খাতা নামিয়ে গাছে উঠে ডালভরা ফুল সংগ্রহ করছে, কেউ আবার হাতে নিয়ে দেখছে বেগুনি রঙের ফুলের তোড়া।
তামিম, সায়ান, আঁখি ও ময়নাসহ অনেক শিশুই ফুল হাতে নিলেও এর নাম বলতে পারেনি। তবে তাদের উচ্ছ্বাসেই বোঝা যায়, ফুলটি তাদের মন জয় করেছে। তামিম বলে, নাম দিয়া কি অইবো, ফুলডা খুবই সুন্দর। বাড়িত নিয়ে বোতলে পানি দিয়া রাইখ্যা দিয়াম।
গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে এখন কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ নানা দেশীয় ফুল ফুটছে। এর মধ্যেও আলাদা করে নজর কাড়ছে জারুল। একসময় গ্রামগঞ্জ, নদীপাড়, হাওরাঞ্চল ও জলাভূমির আশপাশে প্রচুর জারুলগাছ দেখা যেত। এখন সেই প্রাচুর্য কমে গেলেও প্রকৃতিতে এখনো টিকে আছে এর সৌন্দর্যময় উপস্থিতি। কোথাও একা, কোথাও দলবেঁধে বেগুনি ফুলে ভরে উঠেছে জারুলগাছ।
উদ্ভিদবিদ ও গবেষক মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, জারুল বাংলাদেশের একটি পরিচিত জলাভূমিপ্রধান গাছ। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের জলাভূমি অঞ্চলে এর আদি নিবাস। জলাভূমির আশপাশেই এ গাছ বেশি জন্মে। এটি পানিপ্রিয় প্রজাতি হলেও শুকনো এলাকাতেও সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
তিনি বলেন, জারুলগাছ সাধারণত ১০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত এতে ফুল ফুটতে দেখা যায়। গাছের কচি পাতার ফাঁকে থোকা থোকা বেগুনি ফুল ফুটে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করে।
জারুল ফুলের ইংরেজি নাম ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa। জারুলের কাঠ লালচে, শক্ত ও মূল্যবান হওয়ায় ঘরের কড়ি-বরগা, নৌকা ও আসবাব তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া জ্বর, কাশি ও অনিদ্রাসহ বিভিন্ন রোগে এর ভেষজ গুণও রয়েছে।





