• ই-পেপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দুজনের কারাদণ্ড

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

ঈদে বাড়িতে আসা হলো না চৌদ্দগ্রামের ইউনুসের

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ঈদে বাড়িতে আসা হলো না চৌদ্দগ্রামের ইউনুসের
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ইউনুস মিয়া।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউনুস মিয়া নামে এক  প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ মে) বিকেলে পরিবারের নিকট মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিহতের ছোট ভাই মারুফ। 

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে জেদ্দা-রিয়াদ মহাসড়কের আফিফ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুস মিয়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ার গ্রামের সাবির আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইউনুস মিয়া সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার জেদ্দা থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে রিয়াদের  ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনুসসহ দুজনের মৃত্যু হয়। চালকসহ আহত হয় আরো দুই জন। এবারের কোরবানির ঈদে ইউনুস দেশে আসার কথা ছিল। এ ঘটনায় পরিবারে চলছে শোকের মাতম। 

সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ও নিহত নুরে আলমের ভাগিনা মনির হোসেন জানান, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তার মামা নুর আলম ও তার বন্ধু চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ইউনুস মিয়া নামের অপর প্রবাসী এবং একজন সৌদি নাগরিক মারা যান। গাড়ির চালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।

এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত ইউনুস মিয়ার ৪ মাসের পুত্র সন্তানকে এক নজর দেখতে কোরবানির ঈদে দেশে আসার কথা ছিল। তার প্রবাস জীবনের ২৪ বছরে এই প্রথম কোরবানীর ঈদ স্বজনদের সাথে করার ছিলো। এ উপলক্ষে সকল কেনাকাটা ও বিমানেরও টিকেটও কেটে রাখছিলেন তিনি।  সৌদি আরবের আল-মাহাদ আদ দাহাব এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। নিহত ইউনুস মিয়া রিয়াদের আল আফিফ শহরে ব্যবসা করেছিলেন।  

তার ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মারুফ বলেন, ‘আমার বড় ভাই আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। তার স্ত্রী,৩ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার দেশে আসলেও তিনি কখনো পরিবারের সাথে কুরবানীর ঈদ করতে পারেননি। এবারই প্রথম তিনি কুরবানীর উদ্দেশ্যে ২৭ মে দেশে আসার জন্য বিমানের টিকেটও কনফার্ম করেছিলেন। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৪ মাস তাকেও তিনি প্রথমবারের মত দেখার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমার বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা ভাইয়ের মৃত্যুতে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। ভাইয়ের বন্ধু নুরে আলমও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন।’ 

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) নুরুল আলম বলেন, ‘সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চৌদ্দগ্রামের ইউনুস নিহত হয়েছে। তার লাশ দেশে আনার জন্য সহযোগিতা করা হবে।’ 

চৌদ্দগ্রামে হামের থাবা

‘সাতটি হাসপাতালে নিয়েও আমার আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না’

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
‘সাতটি হাসপাতালে নিয়েও আমার আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না’
শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান। সংগৃহীত ছবি

‘তিন মেয়ের পর ১৬ বছর অপেক্ষা করে আমরা পুত্রসন্তান পেয়েছিলাম। তাকে বাঁচানোর জন্য চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, ঢাকাসহ সাতটি হাসপাতালে নিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারলাম না।’

কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার সিংরাইশ গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ সুমন। হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে সাত মাস বয়সী ছেলে সাজিদ আল নাহিয়ানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি ও তার স্ত্রী সুলতানা আক্তার।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাজিদ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পারভেজ-সুলতানা দম্পতির তিন কন্যাসন্তানের পর সাত মাস আগে জন্ম নেয় সাজিদ আল নাহিয়ান। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার পর পুত্রসন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

গত ১৪ এপ্রিল সাজিদের জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর কিছুটা সুস্থ হলেও ১২ মে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে সে।

পরে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাজধানীর শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও সর্বশেষ তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সাজিদ হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে সাজিদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

শরীরে এত বেশি ক্ষত, স্যালাইন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না : চিকিৎসক

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শরীরে এত বেশি ক্ষত, স্যালাইন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না : চিকিৎসক
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেকে পাঠালেও অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম জাকারিয়া হাসান জিলহান (২১)। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মৃত হারুনের ছেলে এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

চিকিৎসকরা বলছেন, তার শরীরে এত বেশি ক্ষত হয়েছে যে সেলাই দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। 

আরো পড়ুন
চট্টগ্রামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

চট্টগ্রামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হাসান জিলহানকে একা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইমুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে মৃত ভেবে ফেলে যায়।

হাসপাতালে জিলহানের সঙ্গে থাকা তার চাচা মো. মামুন জানান, শনিবার রাতে জিলহানকে একা পেয়ে সাইমুন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এখন সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আগে একটি দুর্ঘটনায় জিলহানের বাবা মারা যান। পরিবারে তার মা ও ভাই আছে। এ ঘটনার পর তারাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় জিলহানকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। পুরো শরীরে এত বেশি জখম ছিল যে স্যালাইন দেওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাকে চমেকে পাঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। এখনো ভুক্তভোগী পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। 

এ ঘটনায় জড়িতরা শিগগিরই আইনের আওতায় আসবেন বলে জানান ওসি।

চট্টগ্রামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
আহত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হাসান জিলহান।

চট্টগ্রামের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হাসান জিলহানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পায়ের রগ কেটে ও কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। 

আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ শাখার সহসভাপতি। তিনি ওই এলাকার মৃত হারুনের ছেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুকুরপাড়ে নিয়ে জাকারিয়া হাসান জিলহানকে রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে ফেলে যায়। 

জাকারিয়ার এক আত্মীয় জানান, তিনি এখন ঢাকার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এমন ক্ষত রয়েছে যে সেলাই দেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। তার পায়ের রগ কাটা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ 

তিনি আরো জানান, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্তে কাজ শুরু করেছে। হামলাকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়েছে। হামলাকারীরা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।’

তবে হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি বলে জানান ওসি। আত্মগোপনে থাকা স্থানীয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আবু তাহের বলেন, আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। 

আবু তাহের দাবি করেন, দখল, পাহাড় কাটাসহ নানা বিষয়ে ফেসবুকে সরব ছিলেন জাকারিয়া। এ ছাড়া দলীয় পোস্টও দিতেন তিনি। সেই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা করা হয়েছে।