• ই-পেপার

গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে মানববন্ধন

বেহেশতের কার্ড কিনলে ঠকে যেতেন নগদে : এমপি আবুল খায়ের

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বেহেশতের কার্ড কিনলে ঠকে যেতেন নগদে : এমপি আবুল খায়ের
সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেছেন, ‘কুশাখালীবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিগত নির্বাচনে তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনারা বেহেশতের কার্ড কিনেননি। এখন আপনাদেরকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বেহেশতের কার্ড কিনলে কিন্তু ঠকে যেতেন নগদে।’

শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী এ্যানি চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে চাঁদপুর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১২৫১ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

এ সময় আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশে এসে প্রথম বক্তব্যে বলেছিলেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান। তার অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বাবা ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান এবং মা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সন্তান আজকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখানে কোনো দুর্নীতি হবে না, স্বজনপ্রীতি হবে না। নির্বাচনে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি, আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। বাংলাদেশের হাল কেউ না কেউতো ধরতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধরেছিলেন, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ধরেছিলেন। তাদের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে ইতোমধ্যে আপনারা টের পেয়েছেন।’

এই সাংসদ আরো বলেন, ‘আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দেশে নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি ও নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হবে। বেগম খালেদা জিয়া খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষার কর্মসূচি দিয়েছেন। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছেন উপবৃত্তি সহকারে। উপমহাদেশের ইতিহাসে যেভাবে একজন নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এটি বিরল।’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাবউদ্দিন সাবু, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াপ্রু মারমা ও সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ প্রমুখ।

মাদক মামলার আসামি এখন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, আনোয়ারা
মাদক মামলার আসামি এখন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

গত বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বর দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে কর্ণফুলী থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আরিফুল। সে সময় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে জনতার হাতে আটক চারজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া আরো একটি মামলায়ও তার নাম উঠে আসে। তবে পরবর্তীতে ওই মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তিনি অব্যাহতি পান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর শাহেদ খান রিপন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের।’

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘মাদকসহ দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। অপর একটি মামলায় তিন অব্যাহতি পান।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের ভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের ভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের ভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ভূমি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক আবদুন নূরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক, জেলা জাসদ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন সাঈদ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সাজিদুল ইসলাম, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী, অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নাসির, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লিমনসহ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা ভূমি দখলের ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৯৫৫ সালে বাড়িটি ক্রয় করেন এবং ১৯৫৬ সালে সেটি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ মিউজিক কলেজকে দান করে স্বত্ব ত্যাগ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ‘সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন’ নামে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বক্তারা আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নৃত্যশিক্ষার্থীরা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে মানব পুতুল নাচ পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ ছাড়া জাপানেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা একই পরিবেশনা করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।

তাদের অভিযোগ, একটি ভূমিদস্যু চক্র ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনের ভূমি দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি ২০১৬ ও ২০২১ সালে আগুন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রও করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

চাঁদা না দেওয়ায় হুমকি, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
চাঁদা না দেওয়ায় হুমকি, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়েছে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার পর থেকে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আশুলিয়ার কলতাসূতি এলাকার নিজ অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল চাঁদা দাবির পাশাপাশি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমি সাইফুল ইসলামের ব্যক্তির মালিকানাধীন আদিব এন্টারপ্রাইজে ব্যবস্থাপক পদে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করি। গত ১৩ মে বিকেল ৫টার দিকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি এলাকার হোন্ডা ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান করার সময় এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন থানায় একাধিক ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি আবুল বাশার, ওসমান গণি সাগর, আওলাদসহ অজ্ঞাত নামা ১০-১২ জন সন্ত্রাসী রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে জীবন রক্ষার্থে একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা দিলেও তারা আরো ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। অভিযুক্ত আবুল বাশার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ছাত্র-হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কারখানা পুড়িয়ে ফেলারও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে বিএনপির শাসনামলেও আওয়ামী দোসর আবুল বাশারের চাঁদাবাজি থেমে নেই।

আরো পড়ুন
ফ্যামিলি কার্ড নারীদের জন্য সেফগার্ড : নুরুল হক নুর

ফ্যামিলি কার্ড নারীদের জন্য সেফগার্ড : নুরুল হক নুর

 

ইব্রাহিম খলিল বলেন, এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রাতে বাদশা, সাগর, সাদ্দাম এবং আওলাদ হোসেন বাবরসহ আরো অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে এক রাউন্ড গুলি করে। এ সময় এলাকার লোকজন বেরিয়ে এলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করায় আওয়ামী সন্ত্রাসী আবুল বাশারের পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ ছাড়া তার ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করে। যেকোনো সময় আবুল বাশারের সন্ত্রাসীরা তার পরিবারের যেকোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল।

সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম খলিলের বড় ভাই মোশারফ হোসেন, আলকাস বেপারী, শাহিনুর রহমান, শওকত হোসেনসহ এলাকার অনেকে উপস্থিত ছিলেন।