• ই-পেপার

কালীগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে ডুবল ১৮ লাখ টাকার ধান, কাঁদছে কৃষক

রাজারহাট

দুই সপ্তাহে নদী গিলেছে ২৫ বসতবাড়ি

ভাঙন আতঙ্কে শতাধিক পরিবার টেকসই ব্যবস্থা দাবি স্থানীয়দের

আঞ্চ‌লিক প্রতি‌নি‌ধি, কু‌ড়িগ্রাম
দুই সপ্তাহে নদী গিলেছে ২৫ বসতবাড়ি
কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়া একটি পরিবার। মঙ্গলবার তোলা। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বর্ষা মৌসুমে দফায় দফায় বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর পানি। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীতে হারিয়ে গেছে। 

এরই মধ্যে নদীর ভাঙন অনেক বাড়ির দোরগোড়ায় এসে গেছে। এতে শতা‌ধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। 

ওই এলাকার বাসিন্দা সবুর আলী (৬৮) বলেন, ‘আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভাঙি গেছে। ত্রাণ পাইছি, এহন নদী বান্ধি দেন।’ আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা ত্রাণ চাই না, এমন ব্যবস্থা চাই যাতে আর ঘরবাড়ি হারাতে না হয়।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ দুর্গম এলাকা। তাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও নদীভাঙন রোধে কোনো টেকসই ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে  ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গত সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রা‌কিবুল হাসান ব‌লেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিন দফা দাবিতে সাভারে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
তিন দফা দাবিতে সাভারে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
ছবি: কালের কণ্ঠ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে টানা ২য় দিনের মতো সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ২ টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা এলাকার শহীদ ইয়ামিন চত্বরে এই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এর আগে মঙ্গলবারও শিক্ষার্থীরা একই স্থানে অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের আরিচাগামী মূল লেনটিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে সেখানে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পরবর্তীতে প্রায় ১ ঘণ্টা লেনটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করার পর দুপুর ৩ টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরিচাগামী লেন থেকে অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নিয়ে ঢাকামুখী লেনটি অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হলে আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করে দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন, তা পুরো দেশের মানুষ দেখেছে। আমরা এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার পদত্যাগ দাবি করছি।

আরেক শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার বলেন, ‘একজন শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা তার সন্তানতুল্য। তাই তিনি নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন। অবিলম্বে তাকে অপসারণ করতে হবে।’

ঢাকা জেলা ট্রাফিক উত্তরের টিআই এডমিন রুহুল আমিন সোহেল বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সড়কে অবস্থান নেই। পরে বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থী আন্দোলন স্থগিত করে চলে যায়।’

৮ দিন পর খুলল সাজেকসহ বাঘাইছড়ির সব পর্যটনকেন্দ্র

রাঙামাটি সংবাদদাতা
৮ দিন পর খুলল সাজেকসহ বাঘাইছড়ির সব পর্যটনকেন্দ্র
সংগৃহীত ছবি

টানা ৮ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিসহ সব পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​সম্প্রতি বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ৭ জুলাই সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক যাতায়াতের ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে পূর্বের সেই নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন এই আদেশ জারির পর থেকে সাজেক ভ্যালিসহ বাঘাইছড়ি উপজেলার সব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারবেন।

​ভ্রমণ উন্মুক্ত করা হলেও পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে রাঙামাটি জেলায় যাতায়াত এবং চলাচলের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাট ও পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময় সময়ে যেসব নির্দেশনা জারি করা হবে, তা সবাইকে যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার কারণে গত কয়েকদিন সাজেক ভ্যালির যোগাযোগ ও পর্যটন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছিল। পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন স্থানীয় রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল এবং জিপ বা চান্দের গাড়ি চালকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ পর্যটন কেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের পর সাজেকজুড়ে ব্যবসায়ী ও পর্যটন কর্মীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। 

রিসোর্ট-কটেজ ওনার্স অ্যাসোশিয়শেন অব সাজেকের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, ‘এটি আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। গত ৮ দিন যাবৎ আমাদের ব্যবসা বন্ধ ছিল। যেহেতু বর্ষার সময়টাতেই সাজেক সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে, তাই এই সময় পর্যটকরা সাজেক ভ্রমণ করতে চান। কিন্তু অতিবৃষ্টির ফলে এত দিন সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ছিল। এটি খুলে দেওয়াতে আমরা আশা করছি আবারও পর্যটকমুখর হবে সাজেক ভ্যালি। 

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ১ দিন পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় নিখোঁজের ১ দিন পর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় নিখোঁজের এক দিন পর মো. জুনাইদ আহমেদ (১৩) নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা হত্যার অভিযোগ করেছেন।

জুনাইদ বহুলী গ্রামের মো. দিলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় নওপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে জুনাইদ নিখোঁজ ছিল। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। বুধবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির পাশের পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের চাচাতো ভাই মোখলেছুর রহমানের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে জুনাইদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ফল অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।