• ই-পেপার

করতোয়া নদীতে ডুবে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

যশোরের মনিরামপুরে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলমগীর হোসেন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খোঁজালিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) নিহত আলমগীর গয়েশপুর নিমতলা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোঁজালিপুর গ্রামে মতিয়ার রহমানের নারকেল গাছের ডগায় বসে কাচা বাঁশের লাঠি দিয়ে আম পাড়ছিলেন আলমগীর হোসেন। তখন অসাবধানতাবশত বাঁশের লাঠি পাশের বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগলে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আলমগীরের। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস হোসেন বলেন, আলমগীরের শরীর ওখানেই আটকে ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। পরে তারা এসে দড়ি বেঁধে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনে।

নিহত আলমগীরের স্বজন যুক্তি খাতুন বলেন, আলমগীর আমার ভাসুর। তার এক ছেলে এক মেয়ে। তিনি আম পাড়ার কাজ করেন। আজ সকাল ৭টায় আম পাড় বাড়ি থেকে আসেন। পরে সকাল ১১টার দিকে শুনি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আমার ভাসুর মারা গেছেন।

মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা মো. মাসুম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত এসে লাশ উদ্ধার করেছি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহতের দেহের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।

বাগেরহাটে নজর কাড়ছে এক খামারের ‘অভিন্ন’ ১০ গরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে নজর কাড়ছে এক খামারের ‘অভিন্ন’ ১০ গরু
ছবি: কালের কণ্ঠ

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন একই গরুর সারিবদ্ধ প্রতিচ্ছবি দাঁড়িয়ে আছে। গায়ের রং, শারীরিক গঠন, উচ্চতা—সবকিছুতেই রয়েছে আশ্চর্য মিল। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটে নজর কাড়ছে একই জাত, রং ও আকৃতির ১০টি গরু। 

ব্যতিক্রমী এই খামারটি গড়ে তুলেছেন জেলার ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম। তার ঘনশ্যামপুর গ্রামের খামারে বর্তমানে ফ্রিজিয়ান জাতের ১০টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৬ থেকে ৮ মণের মধ্যে। একই ধরনের গঠন ও রঙের কারণে গরুগুলো দেখতে প্রায় অভিন্ন মনে হয়। আর এই অভিনব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী খামারে ভিড় করছেন।

খামারি শহিদুল ইসলামের ছেলে সাকিব শেখ বলেন, ‘বাবা অনেক খোঁজখবর নিয়ে, দীর্ঘসময় ধরে জেলার বিভিন্ন হাট থেকে বেছে বেছে একই রং ও গড়নের গরুগুলো সংগ্রহ করেছেন। এবারের কোরবানিতে একটি গরু আমাদের পরিবারের জন্য রাখা হবে, বাকি ৯টি বিক্রি করা হবে।’

খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণ ও ডেইরি ফার্ম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত বছর তার খামারে ১৪টি গরু ছিল, এবার রয়েছে ১০টি। 

তিনি বলেন, ‘আমার খামারের গরু কখনো হাটে নিতে হয় না। পাইকার ও ব্যাপারীরা সরাসরি খামারে এসেই কিনে নিয়ে যান। একই জাত ও আকৃতির গরু সংগ্রহ করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এটাই আমার খামারের মূল আকর্ষণ।’

ব্যয় ও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি গরু প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে কেনা হয়েছিল। লালন-পালন শেষে এবার ঈদে একেকটি গরু ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

খামারটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো একই রং ও গড়নের গরু আমি আগে কখনো দেখিনি। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন সবকটি একই গরুর হুবহু প্রতিচ্ছবি। ব্যতিক্রমী এই খামারটি সত্যিই সবার দৃষ্টি কাড়ছে।’

ইতিমধ্যেই খামারে আসতে শুরু করেছেন পশুর ব্যাপারীরাও। মো. কামাল হোসেন নামের এক ব্যাপারী বলেন, খামারের গরুগুলোর পরিচর্যা খুব ভালো হওয়ায় এগুলো বেশ স্বাস্থ্যবান ও আকর্ষণীয়। বাজারে একই রং ও গড়নের গরুর আলাদা চাহিদা থাকে। দাম কিছুটা বেশি হলেও মানের কারণে ক্রেতারা এগুলো কিনতে আগ্রহ দেখাবেন।

খামারের কর্মী আল আমিন জানান, বর্তমানে চারজন কর্মচারী খামারে কাজ করছেন। নিয়ম মেনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গরুকে খাবার দেওয়া এবং খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। প্রতিটি গরু দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি খাবার খায়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছাহেব আলী বলেন, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বাগেরহাটে মোট ৭ হাজার ২০৮টি খামারে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এবার জেলায় ষাঁড়, গরু, ছাগল ও ভেড়াসহ মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। ফলে চাহিদার তুলনায় জেলায় পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত পশু সরবরাহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ২

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ২
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আমির (২৫) নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুজনে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, আমিরের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে তার অবস্থাই সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে শংকর (২৫) নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১২ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত দুজনসহ মোট ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

কেন্দুয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আ. লীগ নেতা নিহত

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আ. লীগ নেতা নিহত
আওয়ামী লীগ নেতা রহিম উদ্দিন আহম্মেদ। সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় একই গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা রহিম উদ্দিন আহম্মেদ (৮০) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ।

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহত রহিম উদ্দিন উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের বলাইশিমুল গ্রামের মৃত আব্দুল ব্যাপারীর ছেলে। তিনি বলাইশিমুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বলাইশিমুল গ্রামে ধান শুকানোকে কেন্দ্র করে একই পাড়ার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত রহিম উদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করেন, রহিম উদ্দিন পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, সংঘবদ্ধ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য ঢাকার শাহবাগ থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।