<p>বাগেরহাটের চিতলমারী ও কচুয়া উপজেলায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভিজে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান জমিতে নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। ওমের কারণে ভেজা ধান মাঠেই গজিয়ে যাচ্ছে। প্রতি মণ ধানের বাজারদরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম প্রতিটি কিষাণের। প্রয়োজনীয় কিষাণ সহজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুর্ভেগে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগ ধান মাঠেই রয়েছে।</p> <p>মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে এই রিপোর্ট লেখাকালীন জানা যায়, প্রায় ২৫-৩০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠের ধান কেটে দ্রুত বাড়িতে আনার জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।</p> <p>কচুয়া উপজেলার মসনী গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, তার প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে এবার ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরিও বেশি দিতে হয়। এখন ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।</p> <p>অপরদিকে চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের নির্মল, আড়য়াবর্ণি গ্রামের ইনু শেখসহ অন্য চাষিরা জানান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও থেকে টাকা তুলে তিনি সাত বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। কিন্তু বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে গজিয়ে গেছে। ধানে এবার লোকসান গুনতে হবে! প্রতি মণ ধান সাত থেকে আট শ টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। অথচ একজন ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১২ থেকে ১৫শ’ টাকা। এতে কিভাবে ফসল ঘরে তুলবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।</p> <p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি দরকার। এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এই ফসল উৎপাদন করেছিলেন। বৃষ্টিতে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।</p> <p>ভুক্তভোগী চাষিদের মতে, বিগত প্রত্যেক বছর রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা স্বেচ্ছায় ধান কেটে বাড়ি আনতে কৃষকদের সহায়তা করেছিল। কিন্তু এখন চলমান কৃষকদের দুর্ভোগ দেখেও অধিকাংশ মানুষ নীরবে দেখছেন, এটা দুঃখজনক। তাই ধান কেটে বাড়িতে আনতে সবার কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।</p> <p>উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কচুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় সাত হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ হয়। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান প্রায় ছয় হাজার ৮৪০ হেক্টর এবং উফসী জাতের ৯০৫ হেক্টর। অপরদিকে, চিতলমারী উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়।</p> <p>চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ২৫-৩০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। অবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে। কৃষকের ধান দ্রুত বাড়িতে তুলতে সকল সহায়তা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।</p>