<p>রংপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পোলট্রি মুরগির ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অধিকাংশ সবজির বাজার।তবে চাল-ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ডিম ও সবজির এই মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তি চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।</p> <p>মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে নগরীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল তুলনামূলক কম।</p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative" data-id="1680850"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="রাতে মেট্রো রেল চলাচলের সময় বাড়তে পারে" class="img-fluid rounded-start m-0 w-100" height="66" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/2026/05/05/1777991970-1c69016e7effb0bdb8a7853ee0360574.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p class="p-1 m-0 lh-sm">রাতে মেট্রো রেল চলাচলের সময় বাড়তে পারে</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/dhaka/2026/05/05/1680850" target="_blank"> </a></div> </div> <p>রংপুর নগরীর ধাপ বাজার, টামিনাল বাজার, মডার্ন মোড়, সাত মাথা বাজার, পৌর বাজার, সিও বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এই চিত্র ।</p> <p>পাইকারি বাজারে প্রতি ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায়, যেখানে মাত্র একদিন আগেও এই দাম ছিল প্রায় ১০৫০ টাকা।</p> <p>নগরীর পৌরবাজারের ডিম বিক্রেতা সাজু মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ করেই পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বেড়ে গেছে।গতকালও ১০৫০ টাকায় ১০০ ডিম কিনেছি, আজ সেটা ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা। তাই খুচরা বাজারে হালি ৫০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।</p> <p>এদিকে সবজির বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। টমেটোর দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অন্যান্য প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। গাজর ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ৬০-৭০ টাকা থেকে ৭০-৮০ টাকা, ঝিংগা ৫০-৬০ টাকা থেকে ৬০-৭০ টাকা এবং চালকুমড়া (আকারভেদে) ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০-৪০ টাকা। </p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative" data-id="1680848"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="এজলাসে আইনজীবীকে কটূক্তি, বাদীর কারাদণ্ড" class="img-fluid rounded-start m-0 w-100" height="66" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/2026/05/05/1777991701-ca9f37242ad396e175bc768d9dea1b08.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p class="p-1 m-0 lh-sm">এজলাসে আইনজীবীকে কটূক্তি, বাদীর কারাদণ্ড</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/05/05/1680848" target="_blank"> </a></div> </div> <p>দুধকুষি ৫০-৬০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা এবং সজনে নাটকীয়ভাবে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। এছাড়া পটল ৫০-৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা এবং লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।</p> <p>ধনেপাতার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১২০-১৫০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। তবে করলা, কচুরলতি ও মিষ্টিকুমড়ার দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কাঁচামরিচের দাম সামান্য কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে ক্রেতাদের। </p> <p>স্টেশন বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। মাঠ থেকে সবজি কম আসছে, ফলে দাম বেড়েছে।” </p> <p>মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে রয়েছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকা কেজিতে। </p> <p>মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০-১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। </p> <p>নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও আটা-ময়দার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫-২০০ টাকা, খোলা তেল ১৯০-২০০ টাকা, মসুর ডাল ১০০-১৮০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা এবং চিনি ১০০-১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।</p> <p>চালের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৬৫-৭০ টাকা, বিআর-২৯ ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৬০-৬৫ টাকা, মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। </p> <p>মাছের বাজারেও বিভিন্ন প্রজাতির দামে কিছুটা ওঠানামা রয়েছে। রুই ৩০০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা এবং কাতল ৩০০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। </p> <p>শাপলা বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন,এখন কিছু সবজির মৌসুম, তাই সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য দাম কমেছে। তবে যেগুলোর সরবরাহ কম, সেগুলোর দাম বেড়েছে।বাজার করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। </p> <p>নগরীর বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, বাজারে গেলে আগের মতো টাকায় বেশি পণ্য কেনা যাচ্ছে না। তাদের ভাষায়, ‘কিছু জিনিসের দাম কমলেও মোট খরচ কমছে না। ডিমের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ বাড়ছে।’</p> <p>বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মৌসুমি প্রভাব, আবহাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে এ ধরনের মূল্য ওঠানামা হয়ে থাকে। তবে বাজার তদারকি জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পারলে ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। </p> <p>ডিম ও সবজির দামের এই ঊর্ধ্বগতি রংপুরের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকবে।</p> <p>রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা হয়েছে।</p> <p>তিনি বলেন, ‘বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।’</p>