• ই-পেপার

মৌলভীবাজার

টানা বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতি, লোকসান ৫০ কোটি

পাবনায় পদ্মার চরে বালু কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
পাবনায় পদ্মার চরে বালু কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১
প্রতীকী ছবি

পাবনার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পদ্মার চরে বালু কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ইউনিয়নের মধ্যচরের জোতকাকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মঞ্জু শেখ (৪০) জোতকাকুরিয়া গ্রামের দারোগ আলী শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে পদ্মার মধ্যচরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবারও এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন চরে গেলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখ নিহত হন।

সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। এতে বাধা দিতে গেলে তার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে কারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, বালু কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মঞ্জু শেখ মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

চন্দনাইশে শনিবার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে শনিবার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
সংগৃহীত ছবি

চন্দনাইশে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের কাজের জন্য এ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ লাইনের দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, সেগুলো হলো— বাদশা পাড়া, দেয়াং পাড়া (আংশিক), কেরানী বাড়ি, মুনসেফ বাজার, বৃষ্টি পুকুর পাড়, চৌধুরী মার্কেট, পেশকার বাড়ি, নিধিরামপুর, মিজ্জির দোকান, বদুরপাড়া (আংশিক), ছগিরের দোকান, জিয়া খাল, দুল্লভ পাড়া, চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকা, কাজিপাড়া, চন্দনাইশ থানা, চন্দনাইশ মেডিকেল কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, ফায়ার সার্ভিস, নোয়াপাড়া ও গাছবাড়িয়া এলাকা।

চন্দনাইশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢামেকে চিকিৎসাধীন ইথানের শরীরে এখনো গুলি, ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
ঢামেকে চিকিৎসাধীন ইথানের শরীরে এখনো গুলি, ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের (১২) শরীর থেকে এখনো গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় ইথানের বাবা ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬ জনসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ শ্রাবণ নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।

গুলিবিদ্ধ ইথান কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি শিশুপার্কের একটি রাইডে কর্মরত।

ইউনুস মিয়া জানান, ঘটনার পর প্রথমে ইথানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় রাতেই তাকে ঢামেকে পাঠানো হয়। একবার অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, গুলিটি ফুসফুসের কাছাকাছি অবস্থান করায় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ সার্জন এসে অস্ত্রোপচার করবেন। তিনি ছেলের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ইথানের মা সোনিয়া বেগম বলেন, "আমার একমাত্র ছেলে মানববন্ধনে অংশ নেয়নি। স্কুলের বিরতির সময় বাসায় খাবার খেতে আসার পথে গুলিবিদ্ধ হয়। যারা এই নিরীহ শিশুকে গুলি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, গুলিটি ফুসফুসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সেখানে অস্ত্রোপচার করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইথানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় গত বুধবার রাত থেকে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অপু ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাঁটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করেন। এ সময় অস্ত্রধারী একদল দুর্বৃত্ত মানববন্ধনে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইথান গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরো ৭ থেকে ৮ জন আহত হন।

ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দায়ের হওয়া মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেটের সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত শাহজালাল দরগাহর উন্নয়ন ও দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক বৈঠক শেষে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য, মাজার মাদরাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি। কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে একটি কাঠামো নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আর্থিক হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সকলে। মাজার কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে একমত। সবার মতামতের ভিত্তিতে সবপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। আপাতত বিদ্যমান কমিটি নিয়ম অনুযায়ী দানের টাকা গণনা করবে এবং তা চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পেছনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তবে কাজ করার দুটি পদ্ধতি আছে। একটি হলো- কাজ করা, আর আরেকটি হলো সবাইকে নিয়ে কাজ করা। যাতে সবার অংশগ্রহণ থাকে। কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়। আমরা সেরকম উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে স্বচ্ছতাও আসবে, সবার অংশগ্রহণও থাকবে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স বসানো হয়। মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার কথা বলে পিতলের তিনটি ডেগ সিলগালা করে প্রশাসন। এ নিয়ে মাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান।

আলোচনা সমালোচনার মধ্যে ২১ জুন রবিবার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসককে হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে গত রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর ২টায় হঠাৎ দরগাহে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোয়ার। সেখানে প্রশাসনের বসানো ৪টি দানবাক্স, দরগার মহিলা এবাদতখানার একটি দানবাক্স এবং সিলগালা করা তিনটি পিতলের ডেগের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে গণনা শেষ প্রশাসন জানায়, চারদিনে এসব দানবাক্স ও ডেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা সোনা ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া গেছে। পরে প্রশাসন দানের সমস্ত টাকা সোনালী ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।
 

টানা বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতি, লোকসান ৫০ কোটি | কালের কণ্ঠ