রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় প্রেম করে বিয়ের মাত্র আট মাস পর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নুসরাত জাহান নুপুরের (১৮) মৃত্যুর ঘটনায় চার মাস পর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বড় ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিসাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পীরগাছা উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, ঘটনার চার মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের স্বতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নুসরাত জাহান নুপুর একই ইউনিয়নের পাঠক শিকড় গ্রামের আহাদ হোসেনকে প্রেম করে বিয়ে করেন। প্রায় আট মাস আগে হওয়া এই বিয়ে ছেলেপক্ষ মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার তা মেনে নেয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থতার কথা বলে নুপুরকে বাবার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পরদিন থেকেই স্বামী আহাদ হোসেনকে তালাক দিতে তার ওপর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আহাদকেও শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। ওই রাতে নুপুর ও আহাদকে মারধর করা হয় এবং জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই খালিদ হাসান মিলুসহ পরিবারের কয়েকজনের নির্যাতনে নুপুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় আহাদ হোসেনকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর সময় নুপুর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকের দাবি ছিল, নুপুরের মরদেহে আত্মহত্যার সুস্পষ্ট কোনো আলামত ছিল না। তাদের সন্দেহ, মারধরের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের স্বামী আহাদ হোসেন বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ চার মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নিহতের ভাই ও ভাবিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





