• ই-পেপার

জাবিতে ইসলামিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের ৬ বিভাগ নিয়ে শিক্ষকদের মতভেদ

ঢাবিতে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবিতে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘ফলদ ও বনজ বৃক্ষে সমৃদ্ধ করি পরিবেশ’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস অ্যালায়েন্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ আল-মামুন, ডুফার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ কামাল অনিক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. আবু রাফি উপস্থিত ছিলেন। প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বৃক্ষরোপণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, বরং যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে গাছের বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। গাছের পরিচর্যা করার সক্ষমতা বিবেচনা করেই বৃক্ষরোপণের পরিসর এবং সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।


 
বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ব্যাপকভাবে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ শুধু সবুজায়ন বৃদ্ধি করে না, বরং বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত করা, খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  

পরে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ সংলগ্ন লনে আম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরপর ফজলুল হক মুসলিম হল প্রাঙ্গণেও একটি গাছ লাগানো হয়।

আমাদের ধমক দিয়ে লাভ হবে না : শিক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদের ধমক দিয়ে লাভ হবে না : শিক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমরা কিন্তু টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে সরকার গঠন করেছি। আমাদের ধমক-টমক দিয়ে কোনো লাভ হবে না। কাজ করবেন, দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে ঠিকঠাক মতো প্রমোশনসহ সব প্রাপ্য পাবেন।’

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সভার আয়োজন করে।

সভার শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী দিনাজপুর বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের ফলাফল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের মতামত শোনেন। একটি কলেজের অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন যে, বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাজে ঠিকঠাক সহায়তা করেন না।

তার বক্তব্যে একমত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ড কি করে, তারা মনে করে পরীক্ষা নেব; খাতা দেখবে; রেজাল্ট দেবে আর ৫টা করে বোনাস নেবে। আবার প্রমোশনের জন্য কাজ বন্ধ করে আন্দোলনও করবে।’

তিনি বলেন, ‘বোর্ড ভাবে না যে, তাদের একাডেমিক জায়গা থেকে ইমপ্রুভ করার দায়িত্বও আছে। তাদের মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক এবং বাৎসরিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। কিন্তু তারা তা করে না।’

কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ করত, এখন সব বিএনপি হয়ে গেছে—সেইসব কর্মকর্তারাই আবার চেয়ারম্যানকে জিম্মি করে দাবিদাওয়া আদায় করতে চান। হুমকি-ধমকি দেন। এগুলো আর চলবে না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে পুলিশ আটক করবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে পুলিশ আটক করবে : শিক্ষামন্ত্রী
ফাইল ছবি

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে এবং তা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলেই তাকে পুলিশ আটক করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সভার আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে আমরা ছাড় দিয়েছি। এবার কিন্তু ছাড় দেব না। যে বা যারাই প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবেন, তাকেই পুলিশ আটকাবে। কারণ তাকে তো আগে পুলিশ কাস্টডিতে নিতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে, তাকে তথ্য দিতেই হবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার ৯টা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। আগামী দিনে কমন সাবজেক্টে (একই বিষয়) মাদরাসা ও কারিগরিতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র করা হবে। এটাকে আমরা একই ধারায় আনতে চাই। সবার যোগ্যতা একই করে গওড়ে তুলতে হবে।

সভার শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের ফলাফল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের মতামত শোনেন।

দাখিল ও আলিমে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করা একটি মাদরাসার একজন অধ্যক্ষ সভায় জানান, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে ১২০০ নম্বরের পরীক্ষা দেন, সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ১৭০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সুযোগ পেতে মাদরাসায় বাংলা-ইংরেজিতে ২০০ নম্বর করা হয়েছে৷ এটা কমিয়ে আগের মতো ১০০ নম্বরের করার দাবি জানান তিনি।

তবে শিক্ষামন্ত্রী তার এ দাবি মানা সম্ভব নয় বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী যাবেন, তখন তাকে ওখানে সবার সঙ্গে একই ধারায় যেতে হবে। সেজন্য বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বরের করার দরকার আছে। এটা থাকবে।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ।

জাবিতে আর্জেন্টিনার খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
জাবিতে আর্জেন্টিনার খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

এ ছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) এবং রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যে খেলা দেখার সময় সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-২০১৯) শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামানকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (অথবা ক্ষেত্রমতে যা প্রযোজ্য) করা হলো। সাময়িক বহিষ্কারকালীন সময়ে হলে ও ক্যাম্পাসে তিনি অবস্থান করতে পারবেন না।

এ ছাড়া দর্শন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-২০১৯) শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান তদন্ত চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মো. শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট ড. মো. নজরুল ইসলাম ও মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।