• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু

কাজ করতে করতে নারী শ্রমিকের মৃত্যু

সুপারভাইজার বলেছিলেন ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
সুপারভাইজার বলেছিলেন ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’
নারী শ্রমিককে ছুটি না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন গাজীপুরের শ্রীপুরের কালার কো লিমিটেডের শ্রমিকরা। ছবি: কালের কণ্ঠ

“লিজা সুপারভাইজারকে বলেছিলেন ‘খুব অসুস্থ লাগছে। মনে হয় মারা যাবো’। জবাবে সুপারভাইজার বলেছিলেন, ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’। পরে কাজ করতে করতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। সকালে আমরা জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে।”

কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার কো লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার এক নারী মেশিন অপারেটর। বুধবার (২৪ জুন) রাতে কারখানাটিতে তারই এক নারী সহকর্মী লিজা আক্তার (২৬)-এর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও ছুটি না দেওয়ায় বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি লিজা।  

ওই নারী অপারেটেরের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার  বিকেল ৫টার দিকে কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চান লিজা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ছুটি দেয়নি। রাত ৮টার দিকে আবারো ছুটি চাইলে তাতে অস্বীকৃতি জানায় কর্তৃপক্ষ। সবশেষ রাত ১০টার দিকে তিনি ফের ছুটি চাইলে তা নাকচ করা হয়। ওই সময় তাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল বলে জানান তিনি। 

নারী অপারেটর বলেন, “লিজা সুপারভাইজারকে বলেছিলেন,  ‘খুব অসুস্থ লাগছে। মনে হয় মারা যাবো। আমার দুইটি শিশু সন্তান আছে। সন্তান দুটির সাথে কথা বলে মারা যেতে চাই’। জবাবে সুপারভাইজার বলেছিলেন, ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’। পরে কাজ করতে করতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। সকালে আমরা জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে।”

এদিকে, ছুটি না দিয়ে লিজাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কারখানাটির শ্রমিকরা। 

শ্রমিকরা জানান, বুধবার কাজে এসে বিকেল ৫টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন লিজা। তিনি কর্তৃপক্ষর কাছে ছুটি চাইলেও দেওয়া হয়নি। পরে কর্মরত অবস্থায় রাতের কোনো এক সময় মেঝেতেই মারা যান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার খবরটি সকালে কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে জানাজানি হয়। প্রতিবাদে তারা সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। 

শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময় কাজ করানো, মানসিক চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির অভিযোগও তোলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘লিজা আক্তারের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন শ্রমিকরা। তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন। তবে দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শ্রমিকরা মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করছেন।’

ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ফেনীতে যুবক কারাগারে

ফেনী প্রতিনিধি
ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ফেনীতে যুবক কারাগারে
অভিযুক্ত অন্তর পালকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফেনীর ফুলগাজীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর পাল (২৬) নামের এক যুবককে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ জুন) ফুলগাজী থানা পুলিশের করা মামলায় অভিযুক্ত অন্তর পালকে (২৬) আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৩ জুন) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফতেপুর পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অন্তর পাল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘Prince Antor’ থেকে ‘নাশিদ নেক্টার-শিল্পী গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ করা হয়, মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠার খবর পেয়ে ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

ফুলগাজী থানা সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি
মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে একটি মহিলা মাদরাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে (৪৬) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদরাসার পরিচালক। মাদরাসার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেলে মাদরাসার হেফজ বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন আশরাফ আলী। ওই সময় তার স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ছাত্রীটি কৌশলে তার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে এবং পরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে ছাত্রীর বাবা কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বিচার কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, আদালত ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। জরিমানার ৭০ হাজার টাকা আদায়ে প্রয়োজন হলে আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বরিশালে দেয়ালচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালে দেয়ালচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

বরিশালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে ড্রেনের কাজ করায় দেয়ালচাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর পুলিশ লাইনস এলাকার ওয়াই ডব্লিউ সি এ গলিতে এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত শ্রমিক জোবায়ের ভোলার চরফ্যাশন এলাকার বাসিন্দা।

শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজও তারা ড্রেন নির্মাণের কাজ করছিল। হঠাৎ পাশে থাকা একটি দেয়াল পড়ে যেতে শুরু করে। ওই মুহূর্তে অন্য ২ শ্রমিক সরে যেতে পারলেও নিহত শ্রমিক জোবায়ের হোঁচট খেয়ে ড্রেনে পড়ে যান। আর তার পিঠে পড়ে দেয়ালটি। সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

মৃত্যুর ঘটনাটি স্বীকার করে ঠিকাদার অভি বলেন, প্রায় সাড়ে ৩ ফুট গভীরতায় ড্রেন করা হয়েছে। তবে দেয়ালটি পড়ার সম্ভাবনা ছিল না। কেন হঠাৎ ভেঙে পড়ল তা বুঝতে পারছি না।